বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হত্যাযজ্ঞে (অ্যাট্রোসিটি) জড়িত থাকার অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) জাকির হোসেনসহ চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।এ ছাড়া অসংখ্য হত্যাকাণ্ড ও গুমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক ও মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছেন প্রসিকিউটররা।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) প্রসিকিউশনের করা পৃথক দুটি আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে কিছুদিন আগেই জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি আছেন।
এ ব্যাপারে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল যে একজন তরুণকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে যখন তার সহকর্মী নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সে স্বাভাবিক অবস্থায় বেঁচে ছিল, তার পায়ে আঘাত ছিল সামান্য, সেই ছেলেটিকে কাছে গিয়ে বুকে গুলি করে হত্যা নিশ্চিত এবং লাশটিও নানাভাবে বিকৃত করে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি জাকির হোসেনসহ একদল পুলিশ।
এ ঘটনায় জাকির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট চারজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেই চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।’
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘হয়রানির শিকার হতে পারে ভেবে পুলিশ বাহিনী নানাভাবে দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করছে। কোনো নির্দোষ পুলিশ কর্মকর্তাকে হয়রানি করা হবে না। যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তারা কেউ ছাড় পাবেন না।’
দ্বিতীয় আবেদন প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক সেনাবাহিনী থেকে সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ এসেছে। অসংখ্য হত্যাকাণ্ড এবং গুমের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। তাকে এক দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল, ট্রাইব্যুনাল এই আবেদনও মঞ্জুর করেছেন।’