মেট্রোরেলে একক যাত্রার টিকিট নিয়ে যে সংকট দেখা দিয়েছে তা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে ডিএমটিসিএল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সিঙ্গেল জার্নি (একক যাত্রা) টিকিটের স্বল্পতার বিষয়টি সহসা সমাধান করা হচ্ছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই বিষয়টির সমাধান হবে।
ডিএমটিসিএল থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রায় দুই লাখ একক যাত্রার টিকিট যাত্রীরা নিয়ে গেছে। কিছু কার্ড নষ্ট হয়েছে। মেট্রোরেলে ন্যূনতম ৪০ থেকে ৫০ হাজার টিকিট প্রয়োজন। সেখানে বর্তমানে মাত্র ৩০ হাজার টিকিট রয়েছে। এজন্য টিকিটের সংকট তৈরি হয়েছে।
ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের বাইরে থেকে নতুন করে চার লাখ ৯০ হাজার একক যাত্রার কার্ড আনা হচ্ছে। নভেম্বর মাসে ২০ হাজার টিকিট আসলেও তা চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। আগামী সপ্তাহে আরও ২০ হাজার টিকিট আসছে। ফেব্রুয়ারি মাসে আরও ২০ হাজার আসবে। মার্চে এক লাখ এবং মার্চের পর আরও এক লাখ ৯০ হাজার টিকিট আসবে।
একক যাত্রার টিকিটের পাশাপাশি এমআরটি পাস নিয়েও সংকট আছে। ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ এখন এমআরটি পাশের পরিবর্তে র্যাপিড পাস কিনতে যাত্রীদের অনুরোধ করেছে। র্যাপিড পাস কিনতে আলাদা বুথ থাকবে। প্রতিটি স্টেশনে সিঙ্গেল জার্নি টিকিট কিনতে দুটি বুথ রয়েছে। এর একটি বুথে এখন থেকে র্যাপিড পাস বিক্রি করা হবে। তাই যারা সিঙ্গেল জার্নি টিকিট কিনবেন, তাদের একটু বেশি সময় লাগবে। তাই যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় নিয়ে স্টেশনে আসতে অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমটিসিএল।
তবে আগে থেকে যাদের এমআরটি পাস রয়েছে তাদের কার্ড রিচার্জে কোনো সমস্যা হবে না।
এছাড়াও সিঙ্গেল জার্নি টিকিট, এমআরটি বা র্যাপিড পাসের পাশাপাশি কাগজের কিউআরসহ মোবাইল স্ক্যানার ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ডিএমটিসিএল জানায়, টিকিট ভেন্ডর মেশিনের পাশাপাশি কিউআর সিস্টেমের জন্য আলাদা বুথ থাকবে। এই বুথ থেকে কিউআর সংবলিত কাগজ বের হবে, যা টিকিটের কাজ করবে। এছাড়া মোবাইল স্ক্যানারের মাধ্যমে কিউআর টিকিট ব্যবহারেরও ব্যবস্থা রাখা হবে।
এই কিউআর টিকিট ব্যবহারের জন্য স্টেশনগুলোতে একটি করে আলাদা প্রবেশপথ রাখা হবে। চাইলেও এক দিনের কিউআর কাগজের টিকিট অন্যদিন ব্যবহার করতে পারবেন না যাত্রীরা। তাই এসব কার্ড যাত্রীরা নিয়ে গেলেও সমস্যা হবে না।
জয়ন্ত সাহা/সুমন/এমএ/