মহাকালের অমোঘ নিয়মে ইতিহাসের পাতা থেকে বিদায় নিল আরেকটি বছর। শুরু হলো খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৫। ঝরা পল্লবের মতো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে ইতোমধ্যে খসে পড়েছে ২০২৪। আরও একটি বছর মহাকালের গর্ভে আশ্রয় নিল। ফেলে আসা বছরটি এখন ‘পুরোনো সেই দিনের কথা’। বিদায় ২০২৪। নববর্ষকে আহ্বান জানানোর মাধ্যমে ফুরাল গত বছরের সব লেনদেন। নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে শুরু হলো নতুন বছর। স্বাগত খ্রিষ্টীয় নববর্ষ ২০২৫।
প্রথম প্রহরে রাজধানীবাসী সীমিত পরিসরে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনে অংশ নিয়েছেন। সরকারের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে রাজধানীতে ছিল আতশবাজি আর পটকার বিচ্ছুরণ। আলোকচ্ছটায় আলোকিত হয়ে ওঠে ঢাকার আকাশ। রাত ১২টা বাজার কয়েক মিনিট আগেই থেমে থেমে শুরু হয় আতশবাজির খেলা। ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে একযোগে শুরু হয় আলো আর আওয়াজের প্রতিযোগিতা। রাজধানীর আকাশ উজ্জ্বল আলোতে ভরে ওঠে। চারদিকে বয়ে যায় বর্ষবরণের অনিন্দ্য উচ্ছ্বাস।
এদিকে ঢাবি প্রতিনিধি জানান, বাঁধভাঙা আনন্দ-উল্লাসের মধ্যদিয়ে পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ক্যাম্পাসজুড়েই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া ফানুস ওড়ানোসহ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ছিল মোবাইল কোর্টের তৎপরতা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গতকাল সন্ধ্যা ৭টার পরপরই ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলো দিয়ে যান চলাচল ও বহিরাগত প্রবেশ সীমিত করা হয়। বৈধ আইডি কার্ডধারী শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অন্য সদস্যরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি, জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়ি (অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার, রোগী ও সাংবাদিক) ছাড়া অন্য কেউ ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, বার্ন ইউনিট, শিববাড়ী ক্রসিং, ফুলার রোড, পলাশী মোড় ও নীলক্ষেত দিয়ে বহিরাগতরা প্রবেশ করতে পারবে না।
হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ছিল নানা ধরনের উল্লাস আর উদ্দীপনা। ছিল বারবিকিউ পার্টি, বিশেষ খাবারসহ সাংস্কৃতিক নানা আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে দেখা যায়, ছোট-ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বারবিকিউ পার্টির আয়োজনে মেতে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা।
আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আতশবাজি-ফানুস ওড়ানোতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে বাধা থাকায় ক্যাম্পাসে তেমন আয়োজন নেই। তবে ছোট পরিসরে হল-বিভাগভেদে খণ্ড খণ্ড বিভিন্ন আয়োজনে ইংরেজি নববর্ষ পালন করছে। নতুন বছরকে ঘিরে আমাদের একটিই প্রত্যাশা থাকবে আগামীতে যেন সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে ওঠে। সেই সঙ্গে সবার দুঃখ-দুর্দশা ঘুচে যেন সুখ বয়ে আনে।’
এদিকে বহিরাগত মুক্ত ক্যাম্পাস দেখে বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের মো. রনি। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার পরপর বহিরাগতমুক্ত ক্যাম্পাস দেখে বেশ ভালো লাগছে। কোনো অবাধ যান চলাচল নেই! নির্বিঘ্নে হাঁটাচলা করতে পারছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করাতে।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘অন্যান্য বারের মতো থার্টি ফার্স্ট নাইটে আমরা যেটি করি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য এবারও তেমনটিই করা হয়েছে।’