নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনায় এমন কিছু সুপারিশ রয়েছে যেগুলো বাস্তবায়ন হলে কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোটার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘আরএফএইডি টক’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সিইসি এসব কথা বলেন।
সিইসি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা, তা নির্ভর করছে শেষ পর্যন্ত দলটির নিবন্ধন থাকে কিনা তার ওপর। কারণ আওয়ামী লীগের বিষয় কমিশন নয়, বরং সিদ্ধান্ত হবে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে রাজনৈতিকভাবে।’
সংস্কার কমিশন নিয়ে সিইসি বলেন, ‘টানা প্রায় চার মাসের কর্মযজ্ঞে ১৮টি এরিয়া ধরে ১৫০টি সুপারিশ করেছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি করার ক্ষমতা সংসদীয় কমিটির কাছে ন্যস্ত করা, সীমানা পুনর্নির্ধারণে আলাদা স্বাধীন কর্তৃপক্ষ গঠন করা এবং স্বাধীন কর্তৃপক্ষের অধীনে ভোটার তালিকা প্রণয়ন।
সেসব প্রস্তবনার বিরোধীতা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন দায়িত্ব পালনের পরিপন্থি। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব হবে।’
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন হলে অক্টোবরে প্রস্তুতি নিতে হবে। যদি সংস্কারের জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়, সেটা কমিশনের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইসির নয়, বরং সরকারের বিষয় মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে এক বছরের মতো সময় লাগবে। যদি এসব নির্বাচন করতে হয়, তাহলে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া সময়সীমার মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করা সম্ভব নয়।’
সিইসি জানান, ‘জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুরোপুরি নির্ভর করতে চায় নির্বাচন কমিশন। জনগণই সব অনিয়ম ঠেকাতে পাহারদার হয়ে থাকবে। নির্বাচনের মাঠে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিএনসিসিকে ব্যবহার করতে চায় ইসি।
এলিস/অমিয়/