অবৈধ উপায়ে প্রায় ৮ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক সমাজ কল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং তার স্বামী তৌফিক নওয়াজের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া শুধু দীপু মনির ২৮টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুদকের মুখপাত্র ও মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দীপু মনির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, তিনি চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি এবং দুই দফায় শিক্ষামন্ত্রী ও সমাজ কল্যাণমন্ত্রী থাকার সময় অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে ৫ কোটি ৯২ লাখ ২ হাজার ৫৩০ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। তার নিজ নামে ২৮টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৯ কোটি ৭৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৩১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। এসব অ্যাকাউন্টে এখনো ২ কোটি ৩৯ লাখ ৫ হাজার ৫০২ টাকা স্থিতি আছে।
তৌফিক নওয়াজের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেক মামলায় বলা হয়, তার স্ত্রী দীপু মনি এমপি ও মন্ত্রী থাকার সময়ে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৯ হাজার ২০৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এ মামলায় দিপু মনিকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ১৯ আগস্ট চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ একাধিক হত্যার মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারাবন্দি থাকার সময় আগস্ট মাসেই দীপু মনি ও তার স্বামী তৌফিক নওয়াজসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের সময় তাদের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়।