নারীর প্রতি সংঘটিত সকল ধরনের সহিংসতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র-আসক।
বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বরাতে বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি গাজীপুরে দুই নারীকে রাস্তায় ফেলে পেটানো ও চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাসহ নারীর প্রতি সংঘটিত সকল ধরনের সহিংসতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে আসক।
এতে আরও বলা হয়, বর্তমান সময়ে উদ্বেগজনক হারে নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, খুন, শারীরিক নির্যাতন ও নিপীড়ন, অপহরণ অনেকটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নারীদের এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার
শিকার হতে দেখা যাচ্ছে। দেশের নারী সমাজ একটি অস্থিতিশীল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে দিন পার করছে। এর ফলাফল নারী সমাজের ওপর ব্যাপকভাবে বর্তাচ্ছে, এটি কোনভাবেই কাম্য নয়।
নারীর প্রতি সংকটজনক এ পরিস্থিতি সচেতন নাগরিকদের হতাশ ও উদ্বিগ্ন করে তুলছে জানিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে নারীদের জীবনকে স্থিতিশীল ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার জন্য সরকারের পদক্ষেপ যথেষ্ট বলে দৃশ্যমান নয়। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার সদিচ্ছার বিষয়টি দৃশ্যমান হতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও নারীর প্রতি ঘৃণাও সহিংস আচরণ প্রকট আকারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে জানিয়ে সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের ঘৃণা ছড়ানো বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে; কেননা মাধ্যম যাই হোক না কেন নারীর প্রতি সহিংসতা অব্যাহত থাকতে পারে না। নির্যাতন শুধু সংখ্যাতেই বাড়ছে না, নির্যাতনের ধরণের পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সমাজে ভীতি ও উৎকণ্ঠা ছড়াচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়টি একই সাথে সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার বিষয়। কাজেই সহিংসতা বন্ধের জন্য যথাযথ দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহবান জানাচ্ছি। পাশাপাশি সংঘটিত সকল ধরনের সহিংসতায় প্রচলিত আইনে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায় আসক।
তিথি/সিফাত/