ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা সম্পন্ন বিশ্বকাপে ইনজুরির কারণে যারা খেলতে পারবেন না বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রশ্নের মুখে ফিফা প্রধান মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট বাড়ার আশঙ্কা, জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কতা বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয় আমাদের দেশে অর্থবছর কেন জুলাই থেকে শুরু হয় বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন হবিগঞ্জে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মন্তব্য: মাহদী ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা পাতাল রেল প্রকল্পে ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব কেমন ছিল দেশের প্রথম বাজেট? মির্জাপুরে গ্রামভিত্তিক মাদকবিরোধী অভিযান ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত বাজেটে বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম বাজেটে শিক্ষাখাতে বাড়ছে বরাদ্দ জামালপুর সীমান্তে শূন্যরেখায় আটকে থাকা বৃদ্ধ বাংলাদেশের নাগরিক বাজেটে কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম আজকের মুদ্রা বাজার: ১১ জুন ২০২৬ মার্কিন হামলায় ইরানের পানি সরবরাহে বিপর্যয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস ইরানের হামলায় কুয়েতের আকাশসীমা বন্ধ বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান ৭ বাধা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৩ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের কানাডায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিল উত্থাপন রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত? টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে এক পরিবর্তন বাজেটের আগে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী টিভিতে আজকের খেলা মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে ১০ কোটি ব্যারেল তেল পার করা: ট্রাম্প শেরপুরে মেসির প্রতিকৃতি আর আর্জেন্টিনার রঙে সেজেছে বাস
Nagad desktop

‘দেশে আর কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে বন্ধ হবে না ইন্টারনেট’

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৫, ০৫:৩৩ পিএম
আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৫, ০৫:৩৫ পিএম
‘দেশে আর কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে বন্ধ হবে না ইন্টারনেট’
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ‘দ্রুতগতির মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য ইন্টারনেট প্রাপ্তিতে করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

প্রধান উপদেষ্টার ডাক টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, দেশে আর কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে যাতে ইন্টারনেট বন্ধ না হয়, সে জন্য পলিসি তৈরি করতে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

রবিবার (৯ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ‘দ্রুতগতির মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য ইন্টারনেট প্রাপ্তিতে করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম বিশেষজ্ঞ মোস্তফা হুসাইন। এতে বলা হয়, টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি সেবাখাতে সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে। ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেটের গতি হতে হবে সর্বনিম্ন ২০ এমবিপিএস। কোয়ালিটি বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করতে হবে। ভয়েস কল ও ইন্টারনেটের মূল্য কমিয়ে আনতে হবে। ডাটার কোন মেয়াদ থাকবে না। ইন্টারনেট যে কোনঅজুহাতে সরকার বন্ধ করবে না এই ঘোষণা অথবা এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
পাশাপাশি ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।

টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি সেবাখাতের সংস্কারের জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয় প্রবন্ধে। সুপারিশেবলা হয়, অবৈধ আইএসপি ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে মোবাইল অপারেটরদের আইএসপি ব্যবসা থেকে বিরত রাখতে হবে। ওভারহেড ফাইবার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। ব্যান্ডউইথ ও এনটিটিএন এর দাম নির্ধারণ না করে বাজার প্রতিযোগিতায় ছেড়ে দিতে হবে। ইন্টারনেট এর ওপর কর কমিয়ে আনতে হবে। সহজলভ্য হ্যান্ডসেট গ্রাহকদেরকে কিস্তির মাধ্যমে অপারেটরদেরকে বিক্রয়ের জন্য বাধ্য করতেও সুপারিশ করা হয়।

তিথি/এমএ/

বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়
ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত এ বাজেটে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলাকেও অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থানবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলা। সে লক্ষ্য সামনে রেখে বেশ কয়েকটি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্য নিরাপত্তা: নতুন বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে। গত কয়েক বছর ধরে খাদ্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। তাই চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, মাছ ও মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের করহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্য মজুত বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা।

কৃষি ও কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকের আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কৃষি খাতকে অন্যতম অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সারে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হচ্ছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্পে কর ছাড়, সহজ শর্তে ঋণ এবং রপ্তানি সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের ধারণা, কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন: দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবারের বাজেটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হতে পারে। যুব উদ্যোক্তাদের জন্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন ব্যবসা শুরু এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণে ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন: দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়নকে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে সরকার।

স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস: সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে স্বাস্থ্য খাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে কর-সুবিধা, জীবনরক্ষাকারী ওষুধে ভ্যাট রেয়াত এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর কর কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার বরাদ্দও বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও সেবার বিস্তৃতি ঘটানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় লাখো পরিবারকে মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হতে পারে। সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ এক লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

শিল্পায়ন ও উৎপাদন খাত: দেশীয় শিল্পের বিকাশে এবারের বাজেটে বড় ধরনের কর-প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল ও উৎপাদনমুখী শিল্প খাতকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতে পারে। দেশে উৎপাদিত টেলিভিশন, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন পণ্যে ভ্যাট কমানোর আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক বাড়ানো হতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি: ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর ও মোবাইল ফোন উৎপাদনে কর-সুবিধা অব্যাহত থাকতে পারে। ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা, ফ্রিল্যান্সার এবং অনলাইনভিত্তিক সৃজনশীল পেশাজীবীদের জন্যও কর-স্বস্তির প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প বিকাশ এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করাই এ খাতের মূল লক্ষ্য।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য শক্তি: বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতকে কৌশলগত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা এবং এলএনজি খাতে কয়েক হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি কর-সুবিধা অব্যাহত রাখা হতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।

অবকাঠামো, পরিবহন ও যোগাযোগ: অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে অবকাঠামো উন্নয়ন খাতেও বড় বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, বন্দর এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে লজিস্টিক ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা: বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হওয়ায় এ খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙন রোধ, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সবুজ অর্থনীতিকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আর্থিক খাত সংস্কার: ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, কর আহরণ বাড়ানো এবং রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক করার উদ্যোগও নতুন বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, কর ফাঁকি কমানো, করদাতাবান্ধব সেবা চালু এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন বাজেটে উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিশ্চিত করা না গেলে এসব উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে। তাই বাজেটের আকারের চেয়ে এর কার্যকর বাস্তবায়নই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অন্তরা/

বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন
বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে তিনি এ স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।

এ ছাড়া ৫০ টাকা মূল্যমানের খাম-সম্বলিত স্যুভেনির শিট ও ৫ টাকা মূল্যমানের ডাটা কার্ডও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন এবং ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এস এম হারুনুর রশীদ।

ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ দল নিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে আজ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাটিতে হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। তিনটি দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘটনাও এবারই প্রথম।

নাঈম/

পাতাল রেল প্রকল্পে ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
পাতাল রেল প্রকল্পে ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প সম্প্রসারণ ও নির্মাণকাজে ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পের প্রথম পাতাল রেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১-এর জন্য ৭ হাজার ৩৫০ কোটি ও এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট)-এর জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন পেলে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) তুলনায় এমআরটি লাইন-১-এর বরাদ্দ প্রায় নয় গুণ বৃদ্ধি পাবে। চলতি অর্থবছরে প্রকল্পটির সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ৮০১ কোটি টাকা।

অন্যদিকে এমআরটি লাইন-৫-এর বরাদ্দও ৮৬৩ কোটি থেকে প্রায় পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে।

মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল হিসেবে এমআরটি লাইন-১ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার হয়ে পূর্বাচল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫ হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত সংযোগ তৈরি করবে, যা ঢাকার পশ্চিম ও পূর্ব অংশের মধ্যে যাতায়াত সহজ করবে। দুটি প্রকল্পেই ডিপো উন্নয়ন, জমি অধিগ্রহণ ও প্রাথমিক নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে।

ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের আওতায় পিতলগঞ্জ ডিপোর ভূমি উন্নয়নকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। বিমানবন্দর পর্যন্ত ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। গত অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা।

অন্যদিকে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট) প্রকল্পের ডিজাইন ও জরিপের কাজ শেষ হয়েছে।

হেমায়েতপুর ডিপোর জমি অধিগ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ডিপোর ভূমি উন্নয়নকাজের অগ্রগতি ৮২ শতাংশের বেশি। প্রকল্পটির ১০টি কন্ট্রাক্ট প্যাকেজের মধ্যে কয়েকটির দরপত্র মূল্যায়ন ও ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রকল্প দুটির নির্মাণ ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দর-কমলাপুর ও নতুন বাজার-পূর্বাচল রুটের এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা হলেও ঠিকাদারদের সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাব অনুযায়ী ব্যয় প্রায় ৯৭ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ডিএমটিসিএল।

একইভাবে ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট) প্রকল্পের ব্যয়ও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া দরপ্রস্তাব বিশ্লেষণ করলে দুই প্রকল্পের সম্মিলিত ব্যয় প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে, যা সরকারের মূল প্রাক্কলনের প্রায় দ্বিগুণ।

এদিকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর গতি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫), নর্দান রুটের প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মতিন চৌধুরী।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর আগে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় কাজের অগ্রগতি কিছুটা ধীর ছিল। তবে এখন নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে এবং প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

এমআরটি লাইন-৫, নর্দান রুটের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের ১০টি প্যাকেজের মধ্যে একটি প্যাকেজ—ডিপোর ভূমি উন্নয়নকাজ—এরই মধ্যে ৮২-৮৩ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি নয়টি প্যাকেজের মধ্যে বেশ কয়েকটির দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং সেগুলো বর্তমানে চূড়ান্ত মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে। এখনো তিনটি প্যাকেজ (৭, ৮ ও ১০ নম্বর) চূড়ান্তভাবে বাকি আছে, যেগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।’ সব মিলিয়ে প্রকল্পটি এখন ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছে।

অন্যদিকে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে অর্থায়ন ও দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, ‘কিছু উন্নয়ন অংশীদারের শর্তের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ও স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণের সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে।’ তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে পুনঃদরপত্র আহ্বান বা দর আলোচনার সুযোগ না থাকায় সরকারকে নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যা ব্যয় নিয়ন্ত্রণকে জটিল করে তুলছে।

নাঈম/

বাজেটে বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
বাজেটে বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম
ছবি: খবরের কাগজ

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মূলত তামাকজাত পণ্য, বিলাসবহুল সামগ্রী এবং আমদানিনির্ভর বিদেশি খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে এসব পণ্যের ওপর শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী আসন্ন বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

আমদানিকৃত কাজু বাদাম: দেশে বাণিজ্যিকভাবে কাজু বাদাম চাষ শুরু হওয়ায় দেশীয় চাষিদের সুরক্ষায় আমদানিকৃত কাজু বাদামের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে।

আমদানিকৃত মাছ: উচ্চ মূল্যের বা দামি হিমায়িত মাছ আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং পাঙাস মাছের ফিলেট আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হতে পারে।

তামাকজাত পণ্য: সিগারেটের দাম প্যাকেট প্রতি ৫-৭ টাকা বাড়তে পারে। খুচরা বিক্রেতাদের প্রতি হাজারে ২ টাকা অগ্রিম কর দিতে হতে পারে। এ ছাড়া গুল ও জর্দার ওপরও কর বাড়তে পারে। সিগারেটের ফিল্টার তৈরির পেপার আমদানিতে ৩০০ শতাংশ ও নিকোটিনে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসতে পারে। নিকোটিন পাউচে ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং অপ্রক্রিয়াজাত তামাকের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি তুলে নিয়ে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে।

মদ ও বিলাসী পণ্য: আমদানিকৃত বিদেশি মদের দাম বাড়তে পারে, যেখানে বর্তমানে মান ও ব্র্যান্ডভেদে ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ককর রয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় একমাত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোং-এর উৎপাদিত মদের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা হারে ভ্যাট বসানো হতে পারে।

নির্মাণসামগ্রী (এমএস রড ও স্ক্র্যাপ): মাইল্ড স্টিল (এমএস) ও সমজাতীয় পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর (ভ্যাট) প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। এতে রি-রোলেবল স্ক্র্যাপ থেকে তৈরি এমএস পণ্যের কর প্রতি টনে ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা বাড়তে পারে। মেল্টেবল স্ক্র্যাপ থেকে তৈরি বিলেট ও ইনগটের কর প্রতি টনে দেড় হাজার টাকা থেকে ১৫০ টাকা এবং বিলেট বা ইনগট থেকে তৈরি এমএস পণ্যের কর প্রতি টনে ১৬০ টাকা বাড়তে পারে। এছাড়া মেল্টেবল স্ক্র্যাপ থেকে উৎপাদিত ইনগট বা বিলেট এবং সেই ইনগট বা বিলেট থেকে তৈরি এমএস পণ্যের কর প্রতি টনে ২২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

আমদানিকৃত প্রযুক্তি ও অন্যান্য পণ্য: আমদানিকৃত ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর, প্রিন্টার এবং অন্যান্য বিদেশি ইলেকট্রনিক সামগ্রীর ওপর শুল্ক বৃদ্ধির কারণে এগুলোর দাম বাড়তে পারে।

অন্যান্য বিলাসী পণ্য: নতুন ১০টি পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হতে পারে। বিদেশি প্রসাধনী, বিলাসসামগ্রী ও উচ্চ মূল্যের আমদানিকৃত খাদ্য পণ্যের ওপর শুল্ককর বৃদ্ধি পাওয়ায় এগুলোর দাম বাড়তে পারে। এ ছাড়া ৩৫০০ সিসির বেশি বিলাসবহুল গাড়ির দামও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্তরা/

বাজেটে কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১২:০২ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
বাজেটে কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম
ছবি: খবরের কাগজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট উত্থাপন করা হবে বৃহস্পতিবার (১১ জুন)। বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রস্তাবিত এ বাজেট পাস হলে এটি হবে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট।

জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের স্বস্তি বাড়াতে এবারের বাজেটে চাল-ডালসহ ৬০টি নিত্যপণ্যে কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ তৈরির ৬৮ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হতে পারে।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ইলেকট্রনিক খাতে বড় ধরনের কর ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশে তৈরি বিভিন্ন গৃহস্থলিসামগ্রী ও প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের দাম কমতে পারে। 

যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

ইলেকট্রনিক ও গৃহস্থালি পণ্য: দেশে উৎপাদিত টেলিভিশন, এসি, ফ্রিজ ও হাউজহোল্ড পণ্যের ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হতে পারে। একইসঙ্গে দেশীয় এসব ইলেকট্রনিক পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতেও শুল্ককর ছাড় দেওয়া হতে পারে এবং এই অব্যাহতি সুবিধা আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। এর ফলে দেশে তৈরি এসি, ফ্রিজ, টেলিভিশন, ওয়াশিং মেশিন ও অন্যান্য হাউজহোল্ড পণ্যের দাম কমতে পারে।

প্রযুক্তি পণ্য: দেশে তৈরি ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর ও মোবাইল ফোনের দাম কমতে পারে।

বাদ্যযন্ত্র: বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র আমদানিতে বর্তমানে বিদ্যমান ৫ শতাংশ শুল্ককর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হতে পারে। ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক: স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক উৎপাদনে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে অগ্রিম আয়কর ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে গাড়ির কিলোওয়াট অনুযায়ী ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা করা হতে পারে।

সৌর বিদ্যুৎ: সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমাবে।

ভোজ্যতেল: দেশীয় ভোজ্যতেল উৎপাদনে করছাড় সুবিধা আরও ১০ বছর অব্যাহত রাখা হতে পারে।

স্বর্ণ: স্বর্ণ বিক্রিতে বর্তমানে বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে ভরিপ্রতি সুনির্দিষ্ট হারে আড়াই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। এ ছাড়া এ খাতের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং টার্নওভার কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হতে পারে।

মোবাইল সিম: মোবাইল সিমের ওপর থাকা ৩০০ টাকা কর বাতিল করা হতে পারে।

চিকিৎসাসামগ্রী: কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার করা হতে পারে, যার ফলে কিডনি ডায়ালাইসিস বাবদ খরচ প্রতিবারে প্রায় ৬০০ টাকা কমতে পারে।

লিপস্টিক: আমদানিকৃত লিপস্টিকের শুল্ক প্রতি কেজিতে ৪০ ডলার থেকে কমিয়ে ৩০ ডলার করা হতে পারে।

অন্যান্য সুবিধা: ১১৩টি পণ্যের ওপর আরোপিত ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর থাকা সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট এবং ৭ শতাংশ আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হতে পারে। মেট্রোরেল সেবাকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের পরিবর্তে ৩ মাস অন্তর অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে (তবে ভ্যাট প্রতি মাসেই জমা দিতে হবে)। এ ছাড়া রপ্তানি বাড়াতে বন্ড সুবিধার আওতা বাড়িয়ে যেকোনো খাতের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে।

অন্তরা/