ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ ক্রিকেটার নাসির-তামিমাকে খালাস দেওয়ার পেছনে বিচারকের পর্যবেক্ষণ জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা বাজেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ: ইসি পাবে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা বড় বাজেটের বোঝা কী জনগণের ঘাড়েই, প্রশ্ন বাসদের আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁপা’ বাজেটে বৈষম্য বাড়বে: সিপিবি জুনের শেষে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: ডেপুটি স্পিকার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টাইগারদের ওয়ানডে সিরিজ জয় যশোরে স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও নদী রক্ষায় ১০ হাজার কোটির বেশি টাকার মহাপরিকল্পনা আইসিটিতে লক্ষ্য জিডিপির ১০ শতাংশ, স্টার্টআপে বিশেষ গুরুত্ব ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা সমর্থক বিশ্বকাপ উন্মাদনা যেন দুর্ঘটনার কারণ না হয় মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের বাস্তবতা প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত যাদের পাশে বসলে দুঃখ কমে, শান্তি বাড়ে বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি খরচ বাড়লে বিপাকে পড়বে সাধারণ জনগণ পরিবহন খাতের বরাদ্দে বড় কাটছাঁট, কমল ৪ বিভাগেরই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাঁশি হাতে থাকছেন ব্রাজিলের উইল্টন সাম্পাইও টেকনাফ সীমান্তে র‌্যাবের অভিযানে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক নিউ ইয়র্কে বিশেষ সম্মাননা পেলে ও অঁরিকে নোয়াখালীতে মাদকসেবীদের হামলায় যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ১ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তি, অপসারণের নির্দেশ ডিসির ক্যানসার ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় কমছে মুক্তিযোদ্ধাসহ যাদের ভাতা বাড়বে বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে মাদরাসাশিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত
Nagad desktop

হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৫, ০৮:৫১ পিএম
হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক (বাঁ থেকে)

ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠা (১০ কাঠা করে ৬টি প্লট) প্লট বরাদ্দ নেওয়ার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও পরিবারের সাত সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

সোমবার (১০ মার্চ) দুদকের মুখপাত্র ও মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শিগগিরই দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে চার্জশিটগুলো সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। 

চার্জশিটে শেখ হাসিনার পরিবারের বাকি অভিযুক্তরা হলেন শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক। অপর অভিযুক্তরা হলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সালাউদ্দিন, মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক হাফিজুর রহমান ও হাবিবুর রহমান। এর মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সালাউদ্দিন এবং মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত হয়েছেন। তারা এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না। 

ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাজউকের প্লট হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গত ১২, ১৩ ও ১৪ জানুযারী ওই ছয়টি মামলা করে দুদক। 

এজাহারে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত সরকারের সর্বোচ্চ পদে বহাল থাকার সময়ে সরকারি প্লট বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হয়েও ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পে নিজ পরিবারের সদস্যদের নামে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। এসব প্লট অবৈধভাবে পাইয়ে দিতে রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক প্রভাব খাটিয়েছেন। অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে প্লটগুলো পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছেন, যা দুদকের তফসিলভুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ছাড়া রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারের ১৩/এ ধারার ক্ষমতাবলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন রেহানা সিদ্দিক, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনের ২০৩ নম্বর রোডে ১০ কাঠা করে মোট ৬০ কাঠার ছয়টি প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যাচাই শেষে গত ডিসেম্বর মাসে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। দীর্ঘ অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। 

অভিযোগ অনুসন্ধানে ১৮ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিশেষ টিম গঠন করা হয়। টিমের অপর সদস্যরা হলেন উপপরিচালক সাইদুজ্জামান, সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া, সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান ও সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর। 

এ ছাড়া শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের আরেকটি অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। গত ২২ ডিসেম্বর উপপরিচালক সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন একই টিমকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আমেরিকার তদন্ত সংস্থা এফবিআই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত করে। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বনাম রিজভী আহমেদ মামলায় শেখ হাসিনার ছেলে জয়ের নাম প্রথম নজরে আসে। এফবিআইয়ের তদন্তে জয়ের গুরুতর আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়টি উন্মোচিত হয়। বিশেষ করে তার নামে থাকা হংকং ও কেম্যান আইল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে স্থানীয় একটি মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক এবং লন্ডনের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে টাকা পাচারের তথ্য উঠে আসে। এফবিআই তাদের লন্ডনের প্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং প্রমাণ পেয়েছে যে সেখানে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম এবং মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের (ডিওজে) সিনিয়র ট্রায়াল অ্যাটর্নি লিন্ডা স্যামুয়েলস স্পেশাল এজেন্ট লা প্রিভোটের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘কথার ফুলঝুরি ও রাজনৈতিক চমকবাজি’ বলে আখ্যায়িত করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট ঘোষণার পর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বিবৃতিতে জাসদ দাবি করে, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট এবং ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অর্জনযোগ্য নয়। দলের মতে, অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও রাজস্ব প্রশাসনের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বাস্তবসম্মত নয়।

জাসদ আরও বলে, বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হলেও তা পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিকে আরও ঋণনির্ভর করে তুলতে পারে। এতে ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ বাড়বে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দলটি মনে করে, ৬০টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব ইতিবাচক হলেও বাজারে সিন্ডিকেট ও সুশাসনের অভাব থাকলে এর সুফল ভোক্তারা নাও পেতে পারেন। একইভাবে মূল্যস্ফীতি ৯.৪২ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যকেও অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছে তারা।

বিবৃতিতে জাসদ সরকারের প্রতি বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ, আইনের শাসন ও সুশাসন নিশ্চিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। দলটির মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

 রাজু/এসএন

জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে সংসদ সচিবালয় কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সংসদের পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রায় ২৯১ কোটি টাকা) বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে পরিচালন (রাজস্ব) খাতে ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৭০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ সচিবালয় কমিশনের ৩৭তম বৈঠকে এ বাজেট প্রাক্কলন অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সংসদ নেতা তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই বরাদ্দ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেও এটি সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ নয়। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ ৩৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ছিল ৩২৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ কমে ২৩২ কোটি টাকায় নেমে আসে। সেই হিসাবে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেশি। সংসদ সচিবালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা, আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত সহায়তা এবং অবকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণে এ বরাদ্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও নতুন অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও এটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সর্বোচ্চ ৩৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকার রেকর্ড অতিক্রম করতে পারেনি। ফলে প্রস্তাবিত বাজেটটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এলিস/এসএন

বাজেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ: ইসি পাবে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
বাজেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ: ইসি পাবে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জন্য ৪ হাজার ৪০০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনকে সামনে রেখে ইসিকে এ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। মোট বরাদ্দের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা খাতে ৩ হাজার ৬৪৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৭৫৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। ইসির বাজেট নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইসির সংশোধিত বরাদ্দ ছিলো ৪ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা; যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। 

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন সরকারের কাছে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। মধ্যমেয়াদি বাজেট প্রাক্কলনে এ খাতে ২ হাজার ৮২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও অন্যান্য নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইসি প্রায় ৫ হাজার ৯২২ কোটি টাকা চেয়েছিল।

বাজেট নথি অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সংরক্ষণ, নির্বাচনি সীমানা নির্ধারণ, সব ধরনের নির্বাচন ও উপনির্বাচন পরিচালনা, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত ও বিতরণ, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, নির্বাচনি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন।

এবারের বাজেটে কমিশনের চারটি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো— সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ, নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার এবং প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সার্ভার, ডাটা সেন্টার ও নিজস্ব ভিপিএন নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ভোটার তথ্যভান্ডার হালনাগাদ, এনআইডি সেবা উন্নয়ন এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

এলিস/এসএন

বড় বাজেটের বোঝা কী জনগণের ঘাড়েই, প্রশ্ন বাসদের

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
বড় বাজেটের বোঝা কী জনগণের ঘাড়েই, প্রশ্ন বাসদের
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশের পর একে ‘গতানুগতিক ও অভিজ্ঞতাহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।

দলটি বলছে, বাজেটে আশার কথা থাকলেও, তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সেই পুরোনো পথেই সীমাবদ্ধ, যার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হবে সাধারণ জনগণকেই।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক বিবৃতিতে বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘বাজেটে কথার চমক থাকলেও আর্থিক সংস্থানের পরিকল্পনা সেই পুরোনো ধারায়। ধনীদের ওপর প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর পরিবর্তে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা চাপিয়েই বাজেটের টাকা জোগাড় করার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।’

বাসদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি ধরা হয়েছে। এটি মেটাতে বৈদেশিক ঋণ, ব্যাংক খাত এবং সঞ্চয়পত্র থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাজেটের সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ খাতে যা ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। দলটির মতে, এই বিপুল পরিমাণ ঋণের দায়ভার সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনগণের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখছে বাসদ।

বিগত অর্থ বছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়া, ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করতে না পারা, ব্যাংক খাতের অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন থাকা এবং বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারার মতো ব্যর্থতাগুলোর কোনো পর্যালোচনা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে নেই বলে অভিযোগ করেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
জ্বালানি খাতে দুর্নীতির চক্র না ভেঙে উল্টো গ্রাহকের কাঁধে বারবার দাম বাড়ানোর বোঝা চাপানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাসদ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘সরকারি তথ্যে মাথাপিছু আয় ও জিডিপি বৃদ্ধির যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের বাস্তব অবস্থার সাথে মিলছে না। শ্রমিক ও কৃষকদের আয় বাড়েনি, অথচ উন্নয়নের মিথ্যে ফানুস ওড়ানো হচ্ছে।’

তিনি বাজেট অধিবেশনে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ জনকল্যাণমূলক খাতগুলোর প্রতিটি বিষয় ধরে সুনির্দিষ্ট আলোচনার দাবি জানান। 

জয়ন্ত সাহা/এসএন

‘ফাঁপা’ বাজেটে বৈষম্য বাড়বে: সিপিবি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
‘ফাঁপা’ বাজেটে বৈষম্য বাড়বে: সিপিবি
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ ও ‘ফাঁপা’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটি বলছে, দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো আশাবাদ নেই; উল্টো এই বাজেট বৈষম্যকে আরও তীব্র করবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার পরপরই এক বিবৃতিতে দলটির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এই প্রতিক্রিয়া জানান।

সিপিবি নেতারা বলেন, প্রায় সাড়ে ৯ লাখ কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয় হবে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই; যার পরিমাণ ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। অথচ ঘাটতি মেটাতে সরকার নতুন করে আড়াই লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বাজেটের এই অসারতাই প্রমাণ করে যে, এটি কেবল উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংখ্যার খেলা, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজেটে কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। সরকার বড় অঙ্কের বাজেট দেখিয়ে অর্থনীতির বাস্তব দুরবস্থা ও মানুষের কষ্ট থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে বাজেটের আকার জিডিপির ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ থাকলেও এবার তা কমে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ, বাজেট বড় দেখালেও রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা আসলে বাড়েনি, বরং হ্রাস পেয়েছে।

সিপিবি নেতাদের অভিযোগ, আইএমএফ-এর শর্তে বন্দি সরকার করের জাল এমনভাবে বিস্তৃত করছে, যাতে কৃষক, শ্রমিক, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত এবং ছোট ব্যবসায়ীরা নিষ্পেষিত হবে। অন্যদিকে, বড় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দের সমালোচনা না করলেও সরকারের বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর সংশয় প্রকাশ করেছে দলটি। 

জয়ন্ত সাহা/এসএন