ঈদযাত্রায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ থাকলেও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি। উৎসবের আমেজে উৎফুল্ল মেজাজে স্বস্তিতে নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
১৯২ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পযর্ন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ১৪কি.মি মহাসড়কে কাঁচপুর, মদনপুর, মোগরাপাড়া ও মেঘনা ব্রিজের অংশটুকু মেঘনা টোল প্লাজার উপর নির্ভর করছে। এদিকে টোল প্লাজায় ১২টি কাউন্টার দিয়ে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারছেন যাত্রীরা।
তবে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ায় রাত থেকেই মহাসড়কে যাত্রীদের ঢল নামে। গাড়ি পেতে যাত্রীদের কোনো দুর্ভোগের শিকার হতে না হলেও কিছু বাস নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করছে ,অভিযোগ যাত্রীদের।
মেঘনাঘাট টোলপ্লাজার কার্যনির্বাহী অফিসার আব্দুল আলিমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে মেঘনা টোলপ্লাজায় ১২টি কাউন্টার চালু আছে। ঈদ যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ করতে সর্বোচ্চ নজর দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া এবার যানজটের আশঙ্কা না থাকায় স্বস্তিতেই সাধারণ মানুষ ফিরবে বলে ধারণা করেন তিনি।
সাদ্দাম হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘অন্যান্য বছর মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে গেলেই মেঘনা টোলপ্লাজা থেকে যানজট মোগরাপাড়া হয়ে কেওডালা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। এ ছাড়া মেঘনা সেতুতে টোল আদায়ে দেরী ও মহাসড়কে যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করা হতো। তবে এবার হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় কোনো যানবাহনকে অতিরিক্ত সময় বাসস্ট্যান্ডে থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।’
রুবেল মিয়া নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘গতবারের চেয়ে এবার মহাসড়কের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। দুর্ভোগ এড়াতে গত সপ্তাহেই পরিবারকে পাঠিয়ে দিয়েছি। তবে বেশি ভাড়া আদায় করা নিয়ে কর্তৃপক্ষ নজরদারি করলে আমরা উপকৃত হতাম।’
মেঘনা টোল প্লাজায় ফেনীগামী বাসচালক মো. খোরশেদ বলেন, ‘এবার যানজট নেই বললেই চলে। রাস্তার পরিস্থিতি এতো উন্নত করায় সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’
বাসের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যাত্রীর চাপ থাকায় বাস পেতেও সমস্যা হচ্ছে বাস মালিকদের। তাই অন্যসময়ের চেয়ে একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিবার নিয়ে তারা স্বস্তিতে ঈদ করতে পারবেন এটাই মুখ্য বিষয়।’
এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াহিদ মোর্শেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘গতবারের তুলনায় এবার মহাসড়কে বেশি পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি মোবাইল টিম, হোন্ডা টিম, অ্যাম্বুলেন্স টিম রয়েছে।’
এ ছাড়া মহাসড়কে যেকোনো যানবাহন বিকল হয়ে গেলে বা কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত সরানোর জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড় ও মদনপুর অংশে দুটি রেকার রাখা হবে বলে জানান তিনি।
বাসের ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ পেয়ে প্রশাসন বিষয়টি তদারকি করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে এবার মহাসড়কে কোনো সংস্কার কাজ না থাকায় যাত্রীরা সহজেই গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারবেন বলে জানান নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম।
ইমরান হোসেন/নাইমুর/