গুমের মামলা তদন্ত করতে আয়নাঘরে যাওয়া দলকে হত্যার উদ্দেশ্যে আয়নাঘরে পুঁতে রাখা বোমাগুলোর সঙ্গে টাইমার ছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
রবিবার (৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কয়েকটি মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমিসহ গুমের মামলার তদন্ত দলকে হত্যার উদ্দেশ্যে বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। তবে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বিচার বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।’
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গুমের মামলাগুলো তদন্ত করছে। টিএফআই সেলের ভেতরে ভূগর্ভস্থ সেল আবিষ্কার করা হয়েছে। এই সেলগুলো ওয়াল তুলে বন্ধ করা হয়। সেই ওয়াল ভাঙতে হয়েছে। সেলের সবটাই গার্বেজ দিয়ে ভরা ছিল। সে সব গার্বেজ সরিয়ে ক্রাইম সিনগুলো বের করতে হয়েছে। আপনারা জানেন এই কাজ করতে গিয়ে স্বয়ং আমি (চিফ প্রসিকিউটর) এই ইনভেস্টিগেশন চলাকালে প্রেজেন্ট ছিলাম। সেখানে বোমা ছিল। বোমাগুলোর সঙ্গে টাইমার সেট করা ছিল। আমাদের অ্যাপারেন্টলি মনে হয় যে, এই ইনভেস্টিগেশন করতে যারা গিয়েছেন, তাদের হত্যা করারও চেষ্টা হয়েছে। এত জটিলতার মধ্য দিয়ে যে কাজগুলো এগিয়েছে, সেগুলো জনসমক্ষে আসেনি। এ কারণে অনেকে মনে করতে পারেন যে তদন্তকাজ কিছু হয়নি।’
মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত সময়সাপেক্ষ উল্লেখ করে তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এই ট্রাইব্যুনাল যখন আগের রেজিমের সময়ে ছিল, তখন প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ১৬ মাস সময় নিয়েছে। বর্তমানে তদন্তে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে না। হত্যা-গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা, আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলা এবং চানখারপুল গণহত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এসেছে। হয়তো এ মাসের মধ্যে অন্তত দুটি মামলার ফরমাল চার্জ দাখিল করা সম্ভব হবে। ট্রাইব্যুনালের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। কোনো ষড়যন্ত্র, স্ক্যান্ডাল ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ থামাতে পারবে না। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। কোনো দুর্নীতি কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।’
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের উত্তরে তাজুল ইসলাম বলেন, একটা ট্রাইব্যুনাল অবশ্যই যথেষ্ট নয়। আরও ট্রাইব্যুনাল হওয়া উচিত। সরকার এ ব্যাপারে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করছে। আশা করছি শিগগির দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালের যাত্রা শুরু হবে।
বিভাগীয় পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল স্থাপনে রাজনৈতিক দলের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করা উচিত হবে না। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দাবি জানাতে পারে। রাজনীতির কাজ হচ্ছে দেশকে নিয়ে ভাবা। তারা এ বিষয়ে ভাবতে পারে। অপরাধের যে বিস্তৃতি, তা বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে। তবে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত হবে, সেটা সরকার নিশ্চয়ই চিন্তা করবে।’