ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুমিল্লায় মহাসড়কে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান ছয় বিষয়ের অনার্স কোর্স কি আসলেই বাতিল হচ্ছে? যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গফরগাঁওয়ে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের লাল বাহাদুর দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিল শিবিরে ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় সম্মতি রাশিয়ার পাঠকের গল্প : বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার চায়নিজ জামাই চাকরি দেবে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি গুগল এআই প্রো নিয়ে এল টেকনো ব্রাজিলিয়ানদের সুখবর দিলেন নেইমার রংপুরে ওয়ার্ডভিত্তিক অপরাধচক্র শনাক্তের নির্দেশ আরপিএমপির ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের লিফলেট তৈরির সময় আটক ২ দেশের ১৬ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস পড়ে পাওয়া গল্প থেকে ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ইরান-ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হলেও হুমকি চলছে দিনাজপুরে বেড়ার হোটেলে নিম্নমানের খাবারসহ একাধিক অভিযোগ ইরানে হামলা চালালে একাই লড়তে হবে: নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু বিশ্বকাপ নিয়ে অনারের ক্যাম্পেইন, ফোন-ট্যাবলেটসহ পুরস্কার জেতার সুযোগ বিশ্বকাপের আগে জয়ের ধারায় ফিরল স্পেন ইরান ও হিজবুল্লাহ আগের চেয়েও দুর্বল: নেতানিয়াহু
Nagad desktop

ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল: বিমানে পণ্য পরিবহন করবে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৩১ এএম
ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল: বিমানে পণ্য পরিবহন করবে বাংলাদেশ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

ভারতের স্থল শুল্কস্টেশন ব্যবহার করে বন্দর ও বিমানবন্দর দিয়ে তৃতীয় দেশে সরাসরি পণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে দেওয়া দীর্ঘদিনের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করল ভারত।

গত মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশের এই সুবিধা বাতিল করে। ভারত ২০২০ সালের জুন থেকে বাংলাদেশকে তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানির এই সুবিধা দেয়। এদিকে  ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বুধবার (৯ এপ্রিল) রাতে বৈঠকে বসে। এই সুবিধা প্রত্যাহার করার পর গতকাল বেনাপোল বন্দর থেকে চারটি মালবাহী ট্রাক ফেরত পাঠিয়েছে ভারত।
 
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশকে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেওয়ার কারণে ভারতের বিমানবন্দর ও বন্দরগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে যানজট তৈরি হচ্ছিল। এতে লজিস্টিক বিলম্ব এবং উচ্চ ব্যয় আমাদের নিজস্ব রপ্তানিকে বাধাগ্রস্ত করছিল। তাই মঙ্গলবার থেকে বাংলাদেশকে দেওয়া এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার করলেও এ সিদ্ধান্ত ভারতীয় ভূখণ্ড দিয়ে নেপাল বা ভুটানে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ওপর প্রভাব ফেলবে না।

ভারতের কেন্দ্রীয় পরোক্ষ কর ও শুল্ক বিভাগের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশকে দেওয়া এই সুবিধার জন্য ২০২০ সালের ২৯ জুনের জারি করা সার্কুলার বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাতিলের এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। তবে আগের সার্কুলারের প্রক্রিয়া অনুযায়ী ইতোমধ্যে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি কার্গোকে ভারতীয় অঞ্চল ত্যাগ করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এর আগে ভারতের রপ্তানিকারকরা, বিশেষ করে পোশাক খাতের মালিকরা বাংলাদেশকে দেওয়া এই সুবিধা প্রত্যাহারের জন্য বিজেপি সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ভারত সরকার কেন এ ধরনের পদক্ষেপ নিল, সেটি বোধগম্য নয়। দেশটির এই সিদ্ধান্ত আমাদের অবাক করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ভারতের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া উচিত। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক হবে না। এই পদক্ষেপের কারণে দুই দেশের মধ্যে আর্থিক ক্ষতির চেয়ে রাজনৈতিক ক্ষতি বেশি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করায় নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে খরচ ও সময় বাড়বে। কারণ এর আগে সরাসরি এসব দেশে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করতে পারত। এখন ভেঙে ভেঙে স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আনলোড-লোড করতে হবে এবং এতে কৃষিজাত পণ্য নষ্ট হতে পারে। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিমানবন্দরে কার্গো পরিচালনার ওপর চাপ ও খরচ বাড়বে।’ 

ভারতীয় বন্দর ও বিমানবন্দরগুলোতে যাওয়ার পথে দেশটির স্থল শুল্কস্টেশন (এলসিএসএস) ব্যবহার করে এতদিন বাংলাদেশ থেকে তৃতীয় দেশে রপ্তানি কার্গো ট্রান্সশিপমেন্টের অনুমতি দেওয়া হতো। ভারতীয় বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্ত পোশাক, জুতা, রত্ন এবং গহনার মতো কয়েকটি ভারতীয় রপ্তানি খাতের জন্য সহায়ক হবে।

বিশ্ববাণিজ্যে পোশাক খাতে ভারতের অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ। ভারতীয় রপ্তানিকারকদের সংগঠন ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনসের (এফআইইও) মহাপরিচালক অজয় সাহাই বলেন, ‘ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন আমাদের কার্গো পরিবহনে অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকবে। অতীতে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশকে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেওয়ার কারণে বন্দর ও বিমানবন্দরে স্থান কম পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করতেন।’

এর আগে ভারতের পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন এইপিসি বাংলাদেশকে দেওয়া সুবিধার আদেশ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছিল। ওই সুবিধার ফলে দিল্লি এয়ার কার্গো ভবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি কার্গো তৃতীয় দেশে ট্রান্সশিপমেন্টের অনুমতি পেত। এইপিসির চেয়ারম্যান সুধীর সেখরি বলেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি পণ্যবাহী ট্রাক দিল্লিতে আসে, যা কার্গোর চলাচল ধীর করে দেয় এবং এয়ারলাইনসগুলো এই ধীরগতির কারণে অযৌক্তিক সুবিধা নিয়ে থাকে।

ভারতীয় থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) প্রতিষ্ঠাতা ও ভারতের সাবেক বাণিজ্য কর্মকর্তা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, ভারতীয় স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য তৃতীয় দেশে পাঠানোর সুবিধা বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশকে এখন দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত পরিবহনব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে। তিনি বলেন, দুই দশক ধরে ভারত একতরফা বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শূন্য শুল্ক সুবিধা দিয়ে আসছে। তবে লালমনিরহাটে চীনের সহায়তায় বিমানঘাঁটি উন্নয়নের পরিকল্পনা এবং সেই অঞ্চল ভারতের ‘চিকেন নেক’ করিডরের কাছাকাছি হওয়ায় দিল্লি নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। 

তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্ত ভারতের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাসংক্রান্ত দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাধারণ শুল্ক ও বাণিজ্য চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সব সদস্য দেশকে স্থলবেষ্টিত দেশের পণ্যের জন্য মুক্ত ট্রানজিট সুবিধা দিতে হবে। 

দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের দেওয়া এই সুবিধার ফলে নেপাল, ভুটান ও মায়ানমারের মতো দেশে বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য এতদিন বাণিজ্যপ্রবাহ বাধাহীন ছিল। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার এমন একসময়ে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশকে দেওয়া সুবিধা বাতিল করল, যার কয়েক দিন আগে ভারত, বাংলাদেশসহ বিশ্বের কয়েক ডজন দেশ ও অঞ্চলের বিরুদ্ধে উচ্চমাত্রার শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

যেসব পণ্য আমদানি-রপ্তানি হতো

বাংলাদেশের প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, ওয়ালটন, আসবাবপত্রের প্রতিষ্ঠান হাতিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নেপালে পণ্য রপ্তানি করে। এ ছাড়া রপ্তানি তালিকায় রয়েছে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টেলিভিশন, আসবাব, খাদ্যজাত পণ্য। বাংলাদেশের মানসম্মত সিমেন্ট, স্টিল ও আয়রন, খাদ্যপণ্য, সিরামিকস পণ্য, ওষুধ ও পেটেন্ট, আসবাবপত্র, সাবান, মেলামাইন, হোম টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, গৃহস্থালি পণ্য, আইটি পণ্য, নির্মাণসামগ্রী, সেবা খাতের পণ্যের চাহিদা রয়েছে নেপাল ও ভুটানে। নেপাল থেকে সুলভে আমদানির সুযোগ রয়েছে ডাল, জুস, মসলাসহ হরেক ধরনের কৃষিজ খাদ্যপণ্য। অন্যদিকে ভুটানে যায় জুস, ড্রিংক, পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি বৈঠক

ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বুধবার রাতে বৈঠকে বসেছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশিরউদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। ঢাকার কারওয়ান বাজারের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যোগ দেন। অনলাইনে যুক্ত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার। রাত সাড়ে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল।
ফেরত এল ৪ ট্রাক

বাংলাদেশকে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার করার পর বুধবার বেনাপোল বন্দর থেকে চারটি মালবাহী ট্রাক ফেরত পাঠিয়েছে ভারত। পরে রপ্তানি পণ্যবোঝাই চারটি ট্রাক ঢাকায় ফেরত যায়। ভারতের কেন্দ্রীয় পরোক্ষ কর ও শুল্ক বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেসব পণ্যবোঝাই যানবাহন ইতোমধ্যে ভারতের ভূখণ্ডে আছে, সেগুলোকে দ্রুত ভারতের ভূখণ্ড ত্যাগ করতে হবে।

ভারতের পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়াডিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, স্থলবন্দর দিয়ে ট্রানজিট সুবিধা বন্ধের জন্য ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় একটি চিঠি ইস্যু করেছে কাস্টমসে। এ চিঠির আলোকে ট্রানজিট সুবিধার পণ্য বেনাপোল থেকে পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। 

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবর রহমান বলেন, ভারত সরকার ট্রানজিট সুবিধা বাতিল করায় বুধবার বেনাপোল থেকে চারটি রপ্তানি পণ্যবোঝাই ট্রাক ফেরত গেছে। ঢাকার রপ্তানিকারক ডিএসভি এয়ার অ্যান্ড সি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠানের ছিল ট্রাকগুলো। বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার বলেন, ট্রানজিট সুবিধা বাতিল করায় পেট্রাপোল কাস্টমস থার্ড কান্ট্রির পণ্যে কার্পাস ইস্যু করেনি।

সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সরকার ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার চাইছে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকুক, তাই সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ সংশোধন করা হয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে যে কেউ চাইলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, যেহেতু এটা নির্দলীয়ভাবে হচ্ছে।’

সরকার ভোক্তাদের কথা বিবেচনায় ডিজেলের দাম বাড়ায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে পাঁচ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত আছে।’ 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের সব উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। দেশে মাত্র ৮টি উপজেলায় ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল রয়েছে। সারা দেশে ইতোমধ্যে ৬৬৬টি খাল খনন করা হয়েছে।’

সীমান্তে পুশইন ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘সীমান্তে পুশইন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি। এটাতে বাংলাদেশ চাপে আছে, এমন মনে হচ্ছে না।’

সরকার চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কিনতে কাজ করছে বলেও জানান জাহেদ উর রহমান। 

সালমান/ 

এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় সম্মতি রাশিয়ার

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় সম্মতি রাশিয়ার
ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি এক লাখে উন্নীত করার বিষয়ে রা‌শিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছে‌ন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। রুশ কর্তৃপক্ষ এ প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি রাশিয়ায় কাজ করছেন। সেখানে জনশক্তি রপ্তানি এক লাখে উন্নীত করার বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা দ্রুত এ বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হয়। উভয়পক্ষ শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনশক্তি রপ্তানি ছাড়াও উভয়পক্ষ একমত হয়েছে যে, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও ওষুধের দ্রুত বৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর জোর দেন।

প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় বিশেষ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) সহযো‌গিতা নিয়ে আলোচনা হ‌য়। কৃষি ও স্বাস্থ্যে এআই-এর প্রয়োগের বিষয়ে রা‌শিয়ার একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসার বিষয়ে সম্মতি জানায়।

খ‌লিলুর রহমান তিন দিনের সফরে বর্তমানে রা‌শিয়ায় রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তার সঙ্গে রয়েছেন।

অমিয়/

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা
ছবি: পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শুরু হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সভাটি শুরু হয়।

পরিকল্পনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া একনেক সভায় নতুন ও সংশোধিত মিলিয়ে ১২টি প্রকল্প তোলা হবে। যেখানে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। অবকাঠামো উন্নয়ন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য সেবা, তথ্য প্রযুক্তি, স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ জ্বালানি, সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পগুলো প্রস্তুত করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।

এবারের একনেক সভার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসন্ন চীন সফরের আগেই প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৮০০ একর জমিতে চীনা অর্থনৈতিক জোন স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন পেতে পারে এ সভায়।

এ ছাড়া শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২ নামে নতুন প্রকল্প প্রস্তাব উঠছে একনেকে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগামী জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে সময় ধরা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ৩৪৪ কোটি টাকা।

আজকের একনেক বৈঠকে আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন, সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল সম্প্রসারণসহ আরও কয়েকটি বড় প্রকল্পও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

সালমান/

দেশের ১৬ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
দেশের ১৬ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ১৬টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য সকাল ৯টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, সিলেট, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

একইসঙ্গে এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্তরা

টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত সরকারের প্রথম ১০০ দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, টিআইবির প্রতিবেদন মূলত সংবাদপত্রের কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, কোনো তদন্তের মাধ্যমে নয়। টিআইবি প্রকৃত ঘটনা যাচাই-বাছাই করে বক্তব্য দেয় না।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে গত রবিবার প্রকাশিত টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০৯ জন নারী ও শিশু।

প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার সামনে টিআইবির রিপোর্টটি নেই। আমরা মাসভিত্তিক অপরাধের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করি। ডাকাতি, হত্যা, খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়। সম্প্রতি আমি আরেকটি প্রতিবেদন দেখেছি, যেখানে ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমান সময়ে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দেখা গেছে।’

টিআইবির মূল্যায়নকে সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে–এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয়। তারা মূলত পত্রিকার কাটিংয়ের ভিত্তিতে রিপোর্ট তৈরি করে, কোনো তদন্ত করে না। টিআইবি প্রকৃত ঘটনা যাচাই-বাছাই করে বক্তব্য দেয় না। আমাদের কাছে পুলিশের সংগ্রহ করা তথ্য রয়েছে, যা জেলা পর্যায় থেকে সংগ্রহ করা হয়। এগুলোই প্রকৃত তথ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদপত্রে অনেক খবর প্রকাশিত হয়। তবে প্রতিটি সংবাদ শতভাগ সঠিক, এমন বলা যাবে না। আমরা প্রকাশিত সংবাদগুলো পর্যালোচনা করি ও প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগে তদন্তের জন্য পাঠাই। টিআইবির রিপোর্টও পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাই এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

পুলিশের তদন্ত ব্যয় প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে একজন তদন্ত কর্মকর্তা একটি মামলায় মাত্র ৬ হাজার টাকা পান, যা পর্যাপ্ত নয়। তিনি বলেন, ‘পুলিশের এ ধরনের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভবিষ্যতে তদন্ত কার্যক্রম, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও পুলিশি টহলের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে আমরা চেষ্টা করব।’

পলাতক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে ও অনেক ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান।

পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীর মূল্যায়ন জনগণ ও গণমাধ্যমই করবে। আমরা পুলিশকে একটি জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তরের চেষ্টা করছি। ভালো কাজের স্বীকৃতি ও অনিয়মের জন্য শাস্তি–এই নীতিতেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’