ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩ ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ: দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা বিশ্বমঞ্চে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক, ক্লোসাকে ছুঁয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা! স্বপ্ন ছোঁয়ার শেষ মিশনে রোনালদো নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায় বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জেরঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড় টি-টোয়েন্টি সিরিজে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অর্থনীতি ধ্বংসের বোমা: ফরিদা আখতার প্রায় ৫ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ ইবি ছাত্রদল কমিটি পবিত্র আশুরা ২৬ জুন জলবায়ু পরিবর্তনের কবলে ব্রহ্মপুত্র কমবে পানি, বাড়বে খরার ঝুঁকি দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী ১৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল মেসির জোড়া গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ সময়ের দাবি ১৭ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া: স্বপ্ন বনাম প্রত্যাবর্তন কর্মসংস্থানের রূপরেখা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন জ্যোতিদের প্রতিপক্ষ আজ অস্ট্রেলিয়া এবার কত দূর যাবে পর্তুগাল? ঘানা-পানামা: বাঁচা-মরার শুরু ১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে আছেন যারা
Nagad desktop

মার্চ ফর গাজা কর্মসূচি থেকে যে ঘোষণাপত্র ও অঙ্গীকারনামা এল

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:০৩ পিএম
আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৫৫ পিএম
মার্চ ফর গাজা কর্মসূচি থেকে যে ঘোষণাপত্র ও অঙ্গীকারনামা এল
ছবি : খবরের কাগজ

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি থেকে ঘোষণাপত্র ও অঙ্গীকারনামা দিয়েছে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষের সংগঠন প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট, বাংলাদেশ। 

শনিবার (১২ এপ্রিল) এ গণজমায়েত থেকে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

ঘোষণাপত্র ও অঙ্গীকারনামাটি নিচে তুলে ধরা হলো-

‘আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি পরাক্রমশালী, যিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকারী, যিনি মজলুমের পাশে থাকেন, আর জালেমের পরিণতি নির্ধারণ করেন।

আজ আমরা, বাংলাদেশের জনতা-যারা জুলুমের ইতিহাস জানি, প্রতিবাদের চেতনা ধারণ করি - সমবেত হয়েছি গাজার মৃত্যুভয়হীন জনগণের পাশে দাঁড়াতে। আজকের এই সমাবেশ কেবল প্রতিবাদ নয়, এটি ইতিহাসের সামনে দেওয়া আমাদের জবাব, একটি অঙ্গীকার, একটি শপথ।

এই পদযাত্রা ও গণজমায়েত থেকে আজ আমরা চারটি স্তরে আমাদের দাবিসমূহ উপস্থাপন করব-

আমাদের প্রথম দাবিগুলো জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি। যেহেতু জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সব জাতির অধিকার রক্ষার, দখলদারিত্ব ও গণহত্যা রোধের সংকল্প প্রকাশ করে। আমরা দেখেছি, গাজায় প্রতিদিন যে রক্তপাত, যে ধ্বংস চলছে, তা কোনো একক সরকারের ব্যর্থতা নয় বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক ব্যর্থতার ঢল। এই ব্যর্থতা শুধু নীরবতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং পশ্চিমা শক্তিবলয়ের অনেক রাষ্ট্র সরাসরি দখলদার ইসরায়েলকে অস্ত্র, অর্থ ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে এই গণহত্যাকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে। এই বিশ্বব্যবস্থা দখলদার ইসরায়েলকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে বরং রক্ষা করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

আমরা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো দাবি জানাচ্ছি-

১) জায়নবাদী ইসরায়েলের গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে নিশ্চিত করতে হবে। ২) যুদ্ধবিরতি নয়, গণহত্যা বন্ধে কার্যকর ও সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ৩) ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী ভূমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে। ৪) পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ৫) ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত করতে হবে। কারন, এই মুহূর্তে বিশ্বব্যবস্থা যে ন্যায়ের মুখোশ পরে আছে, গাজার ধ্বংসস্তূপে সেই মুখোশ খসে পড়েছে।

আমাদের দ্বিতীয় দাবিগুলো মুসলিম উম্মাহর নেতাদের প্রতি। আমরা বিশ্বাস করি, ফিলিস্তিন কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর আত্মপরিচয়ের অংশ। গাজা এখন কেবল একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর নয়, এটি আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতার বেদনাদায়ক প্রতিচ্ছবি। উম্মাহর প্রতিটি সদস্য, প্রতিটি রাষ্ট্র, এবং প্রতিটি নেতৃত্বের ওপর অর্পিত সেই আমানত- যা আল্লাহ প্রদত্ত ভ্রাতৃত্ব ও দায়িত্বের সূত্রে আবদ্ধ। ইসরায়েল একটি অবৈধ দখলদার, গণহত্যাকারী রাষ্ট্র, যা মুসলিমদের প্রথম কিবলা ও একটি পুরো জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। ভারতের হিন্দুত্ববাদ আজ এই অঞ্চলে জায়নবাদী প্রকল্পের প্রতিনিধিতে পরিণত হয়েছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত দমন-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতে সম্প্রতি ওয়াকফ সম্পত্তি আইনে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মুসলিমদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক অধিকার হরণ করা হয়েছে, যা উম্মাহর জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।

আমরা মুসলিম বিশ্বের সরকার ও ওআইসির মতো মুসলিম উম্মাহর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর কাছে দৃঢ় আহ্বান জানাই।

১) ইসরায়েলের সঙ্গে অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সব সম্পর্ক অবিলম্বে ছিন্ন করতে হবে। ২) জায়নবাদী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। ৩) গাজার মজলুম জনগণের পাশে চিকিৎসা, খাদ্য, আবাসন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়াতে হবে। ৪) আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলকে একঘরে করতে সক্রিয় কূটনৈতিক অভিযান শুরু করতে হবে। ৫) জায়নবাদের দোসর ভারতের হিন্দুত্ববাদী শাসনের অধীনে মুসলিমদের অধিকার হরণ, বিশেষ করে ওয়াকফ আইনে হস্তক্ষেপের মতো রাষ্ট্রীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ওআইসি ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে দৃঢ় প্রতিবাদ ও কার্যকর কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হবে। কারণ, গাজার রক্তপ্রবাহে আমরা লজ্জিত হওয়ার আগেই গাজার পাশে দাঁড়ানোই উম্মাহর জন্য সম্মানের একমাত্র পথ। যে নেতৃত্ব আজ নিরব, কাল ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হবে।

আমাদের তৃতীয় দাবিগুলো বাংলাদেশ সরকারের প্রতি-

যেহেতু, বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, যার স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তিতেই নিহিত রয়েছে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চেতনা। আমরা বিশ্বাস করি, ফিলিস্তিনের প্রশ্নে বাংলাদেশ কেবল মানবতার নয়, ঈমানের পক্ষেও এক ঐতিহাসিক অবস্থানে আছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সরকারের দায়িত্ব জনগণের ঈমানি ও নৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রাখা। বাংলাদেশের জনগণ গাজার পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে, তাই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিরবতা এই জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি অবজ্ঞার শামিল।

আমরা বাংলাদেশের সরকারের প্রতি দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানাই, ১) বাংলাদেশি পাসপোর্টে Except Israel শর্ত পুনর্বহাল করতে হবে এবং ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার অবস্থান আরও সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হবে। ২) সরকারের ইসরায়েলি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যত চুক্তি হয়েছে, তা বাতিল করতে হবে। ৩) রাষ্ট্রীয়ভাবে গাজায় ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ৪) সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং আমদানি নীতিতে জায়নবাদী কোম্পানির পণ্য বর্জনের নির্দেশনা দিতে হবে। ৫) জায়নবাদের দোসর ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকারের অধীনে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। যেহেতু হিন্দুত্ববাদ আজ শুধু একটি স্থানীয় মতবাদ নয়, বরং আন্তর্জাতিক জায়নিস্ট ব্লকের অন্যতম দোসর। ৬) পাঠ্যবই ও শিক্ষা নীতিতে আল-আকসা, ফিলিস্তিন, এবং মুসলিমদের সংগ্রামী ইতিহাসকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যাতে ভবিষ্যৎ মুসলিম প্রজন্ম নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয় নিয়ে গড়ে ওঠে। কারণ, রাষ্ট্র কেবল সীমানা নয়, রাষ্ট্র এক আমানত। আর এই আমানত রক্ষা করতে না পারলে ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করে না।

আমাদের সর্বশেষ দাবিগুলো নিজেদের প্রটি যা মূলত একটি অঙ্গীকারনামা।

যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি, আল-কুদস কেবল একটি শহর নয়, এটি ঈমানের অংশ। আমরা জানি, বাইতুল মাকদিসের মুক্তি অন্য কারও হাতে নয়, আমাদেরই কোনো প্রজন্মের হাতে তা লেখা হবে। আমরা বুঝি, জায়নবাদের প্রতিষ্ঠা মূলত আমাদের নিজেদের আত্মবিস্মৃতির ফল। আজ যদি আমরা প্রস্তুত না হই তাহলে আল্লাহ না করুন কাল আমাদের সন্তানরা হয়তো এমন এক বাংলাদেশ পাবে- যেখানে হিন্দুত্ববাদ ও জায়নবাদ একত্রে নতুন গাজা তৈরি করবে। গাজা আমাদের জন্য এক আয়না, যেখানে আমরা দেখতে পাই, বিশ্বাসী হওয়া মানে কেবল বেঁচে থাকা নয়, সংগ্রামে দৃঢ় থাকা।

আমরা এই মাটির মানুষ, এই মুসলিম ভূখণ্ডের নাগরিক, এই কওমের সন্তান এবং সর্বোপরি মুসলিম উম্মাহর সদস্য। আমরা অঙ্গীকার করছি-

১) আমরা সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রত্যেকে সেই পণ্য, কোম্পানি ও শক্তিকে বয়কট করব, যারা ইসরায়েলের দখলদারত্ব টিকিয়ে রাখে।
২) আমরা আমাদের সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করব, যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সব প্রতীক ও নিদর্শনকে সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার করবে, ইনশা আল্লাহ।
৩) আমরা আমাদের সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলব, যারা নিজেদের আদর্শ ও ভূখণ্ড রক্ষায় জান-মালের সর্বোচ্চ ত্যাগে প্রস্তুত থাকবে। 
৪) আমরা বিভাজিত হব না- কারণ আমরা জানি, বিভক্ত জনগণকে দখল করতে দেরি হয় না। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব, যাতে এই বাংলাদেশ কখনো কোনো হিন্দুত্ববাদী প্রকল্পের পরবর্তী গাজায় পরিণত না হয়। আমরা শুরু করব নিজেদের ঘর থেকে- ভাষা, ইতিহাস, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, সমাজ-সবখানে এই অঙ্গীকারের ছাপ রেখে।

আমরা মনে রাখব, গাজার শহিদরা কেবল আমাদের দোয়া চান না, তারা আমাদের প্রস্তুতি চান।

শেষকথা:
শান্তি বর্ষিত হোক গাজার সম্মানিত অধিবাসীদের ওপর। যারা নজিরবিহীন সবর করেছেন, যারা অবিচল ঈমানের প্রমাণ দিয়েছেন। যারা ধ্বংসস্তূপের মাঝেও প্রতিরোধের আগুন জ্বেলেছেন। বিশ্বের নীরবতা ও উদাসীনতার যন্ত্রণা হাসিমুখে বুকের মাঝে ধারণ করেছেন। শান্তি বর্ষিত হোক তাদের ওপর, যারা নাম রেখে গেছেন ইজ্জতের খতিয়ানে। শান্তি বর্ষিত হোক হিন্দ রজব, রিম এবং ফাদি আবু সালেহসহ সব শহিদদের ওপর, যাদের রক্ত দ্বারা গাজার পবিত্রভূমি আরও পবিত্র হযেছে, যাদের চোখে ছিল প্রতিরোধের অগ্নিশিখা।

শান্তি বর্ষিত হোক বাইতুল মাকদিসের গর্বিত অধিবাসীদের ওপর, যাদের হৃদয়ে এখনো ধ্বনিত হয় ‘আল-কুদস লানা’, আল কুদস আমাদের! গাজার জনগণকে অভিনন্দন- আপনারা ঈমান, সবর আর কুরবানির মহাকাব্য রচনা করেছেন। দুনিয়াকে দেখিয়েছেন ঈমান আর ভাওয়াক্কুলের শক্তি। আমরা বাংলাদেশের মানুষ শাহজালাল আর শরীয়াতুল্লাহর ভূমি থেকে দাঁড়িয়ে আপনাদের সালাম জানাই, আপনাদের শহিদদের প্রতি ভালবাসা ও শুভেচ্ছা জানাই। আর আমাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় এই দোয়া- ‘হে আল্লাহ, গাজার এই সাহসী জনপদকে তুমি সেই পাখর বানিয়ে দাও, যার ওপর গিয়ে ভেঙে পড়বে জায়োনিস্টদের সব ষড়যন্ত্র।’’

প্রতিশোধ নয়, গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:২০ এএম
প্রতিশোধ নয়, গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

হারানো অতীত প্রতিশোধের মাধ্যমে ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি  বলেন, ‘আসুন আমাদের নিজের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ আমার সাথে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি সেই চেষ্টা করতে পারি। সাকসেসফুল হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মাইন্ডসেট নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই। আর তাই বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। সরকারের ভুল হতে পারে, গঠনমূলক আলোচনা হোক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটা আমাদের জন্য, বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের এই দিনে বাংলাদেশের সকল সংবাদপত্র একসময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, হাতে গোনা মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছিল। সেখান থেকে আজকে আমরা এতগুলো সাংবাদিক ভাইদের সাথে কথা বলছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওই সময় সংবাদপত্রের যে গলা চেপে ধরা হয়েছিল সেটি অন্তত এখন নেই, এই মুহূর্তে নেই। যেভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। চারটা সংবাদপত্রকে রেখে সব বন্ধ করে দিয়েছিল। একই সময় আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে বন্ধ মানে বিলুপ্ত করে বাকশাল নামে একটা দল গঠন করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন। একই সাথে সংবাদপত্রের ওপর থেকে রেস্ট্রিকশন তুলে নিলেন। পরবর্তী সময় কী হয়েছে, কতটুকু হয়েছে এটা আপনাদের কথা থেকেও বেরিয়ে এসেছে।’

প্রতি বছর ১৬ জুন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকশাল সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চারটি সরকারি প্রচারপত্র বাদে দেশের সব পত্রিকার প্রকাশনা ও ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয়। এর প্রতিবাদে পরবর্তী বছর থেকে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।

গণমাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে অনেক সাহায্য করতে পারেন। শুধু সরকার একা পারবে না, আপনার সহযোগিতা আমার লাগবে। আপনার সহযোগিতা না পেলে আমি বুঝতে পারবো না যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলেই অন্তত বুঝতে পারব যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে। অথবা ভালো কাজের পথটা আপনাদের দেখাতে হবে। অর্থাৎ দেশের কাজে আমাদের প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। এই সহযোগিতাটা আমি আপনাদের কাছে চাইছি। আপনারা সহযোগিতা করলে আমার কাজ সহজ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। বিশ্বব্যাপী কম-বেশি থাকলেও আমাদের এখানে এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কতজনকে ধরব, কতজনকে চিকিৎসা দেব বা কাউন্সেলিং করব? আমাদের তো সক্ষমতা ও সম্পদের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই এই সমস্যার সমাধানে আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।’

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি থাকে, তা ইতিবাচক খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। অথচ ঢাকা শহরসহ সারা দেশেই এখন খেলার মাঠের তীব্র সংকট।

তরুণদের এই শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি। সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সকল পরিবারের সন্তান এখানে যুক্ত হয়েছে। অথচ দুঃখের বিষয়, এত বড় একটি আয়োজন আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি।’

কেবল খেলাধুলা নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তরুণদের মেধা বিকাশের জন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা বা সায়েন্স ফেয়ার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিন (যেমন ১৬ ডিসেম্বর বা ২১ ফেব্রুয়ারি) ছাড়া কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয় না! যুব সমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে এই চর্চাগুলো সারা বছর চালু রাখতে হবে।

তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকাল দেখা যায় একটা জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে এবং ১০ জন মিলে তা মোবাইলে রেকর্ড করছে। এগুলো অস্বাভাবিক মানসিকতা। স্কুল পর্যায় থেকেই আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জেলের মধ্য থেকে এসেছি, আমি শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি, মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি। 

তারেক রহমান বলেন, ‘বাট আমি এখন যদি যারা এর জন্য দায়ী, আমি যদি সেজন্য কাউকে দায়ী করে বেড়াই তবে আমার তো হাড্ডি জোড়া লাগবে না। আমি এখনো যেই পেইনটা মাঝে মাঝে অনুভব করি, আমার সেই পেইনটা চলে যাবে না। সুতারাং ক্ষতি যা হয়ে গেছে সেটা নিয়ে না ভেবে দেশের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
বুধবার মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজার এবং শ্রীমঙ্গলে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রশাসন, বিএনপির কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট নেমে, সড়ক পথে প্রথমে শ্রীমঙ্গল ও পরে মৌলভীবাজার সদরে পৌঁছে নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

এদিকে জেলার দুটি উপজেলার অনুষ্ঠানকে ঘিরে মাঠ প্রস্তুত এবং মঞ্চ নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলীয় নেতাকর্মীরা রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচী অনুযায়ী তিনি বুধবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট নেমে, সড়ক পথে দুপুর ১টায় প্রথমে মৌলভীবাজার জেলার চায়ের জনপদ শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হয়ে সেখানে ১৫২ জন নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। পরে সেখান থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সড়ক পথে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছে সেখানে আয়োজিত রাজনগর উপজেলার জন্য বারদ্ধকৃত ১৫৫ জন নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। পরে দুপুর সাড়ে তিনটায় স্থানীয় দুসাই রির্সোটে বিশ্রাম ও সেখানে দলীয় নেতাদের নিয়ে রাজনৈতিক সভা যোগ দিবেন। পরে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে সড়ক পথে সিলেটের উদ্দোশ্যে মৌলভীবাজার ত্যাগ করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর বিষয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে শ্রীমঙ্গলের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

একই দিন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাবে, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর শ্রীমঙ্গল সফরকে জেলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে সফলভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

এসএন/

চাঁদ দেখা গেছে মহররমের, আশুরার তারিখ ঘোষণা

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
চাঁদ দেখা গেছে মহররমের, আশুরার তারিখ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আকাশে পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো. ফজলুর রহমান।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (১৭ জুন) থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসাবে আগামী ২৬ জুন, শুক্রবার সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) হতে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

এসএন/

নোয়াখালীতে তোপের মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রত্যাহার

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
নোয়াখালীতে তোপের মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রত্যাহার
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন । ইনসেটে দড়িওয়ালা তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।

নোয়াখালীতে ঝটিকা সফরে এসে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এসময় নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের দায়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যাহারের ঘোষণার পরপরই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভ মিছিল করেন হাসপাতালের বাইরে থাকা কিছু বহিরাগত লোকজন। এ বিক্ষোভের মুখে একপর্যায়ে সেখান থেকে সরে আসতে বাধ্য হন মন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে নোয়াখালী সার্কিট হাউসে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ সময় সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'বিগত সরকারের ১৭ বছরের নিয়োগ দেয়া লোকজন এবং তাদের দালালরা হাসপাতালকে জিম্মি করে রেখেছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যাহার করা হয়েছে, পাশাপাশি তিন সদস্যের কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'

মন্ত্রী আরও বলেন, 'আমি আজ হাসপাতালে সফরে এসে যা দেখেছি তা খুবই জঘন্য। এতো অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না। আমরা ধীরে ধীরে এর সবকিছুই ঠিক করে ফেলব। নোয়াখালীর বর্তমান সিভিল সার্জনকে আমি মৌখিকভাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছি।'

বিগত সরকার ও বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, 'বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনা আমাদের অনেকদূর পিছিয়েছে। সবমিলিয়ে স্বাস্থ্যখাত একটি বিপর্যস্ত অবস্থায় পরিণত হয়েছে। সারা দেশে এমন জঞ্জাল সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতি, যেখানেই আমরা হাত দেই সেখানেই অব্যবস্থাপনা আর খারাপ অবস্থা। সেটি রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব না। সাড়ে তিন মাসে সব পরিবর্তন সম্ভব না।'

এ সময় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুন অর রশিদসহ জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসএন

দেশে প্রথমবার টাঙ্গাইল শাড়ি বুননের মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
দেশে প্রথমবার টাঙ্গাইল শাড়ি বুননের মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ি শিল্পে দক্ষ কারিগর তৈরি করার উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো জাতীয় মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁতশিল্পের কর্মীদের দক্ষতা মূল্যায়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনএসডিএ'র সম্মেলন কক্ষে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) উদ্যোগে ‘টাঙ্গাইল শাড়ি উইভিং (লেভেল-২)’ পেশার জন্য কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) এবং কোর্স অ্যাক্রেডিটেশন ডকুমেন্ট (সিএডি) প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত ভ্যালিডেশন কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, এনএসডিএ'র নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু আহমদ ছিদ্দীকী এবং ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মির্জা নুরুল গনি শোভন।

ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, আধুনিক ও চাহিদাভিত্তিক পেশার পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী ও শ্রমঘন খাতগুলোকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার আওতায় আনতে কাজ করছে এনএসডিএ। টাঙ্গাইল শাড়ি বুননের জন্য প্রণীত এই মানদণ্ড বাস্তবায়িত হলে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, দক্ষতার স্বীকৃতি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে নীতি প্রণয়ন, প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও সনদায়নের পাশাপাশি শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করা হচ্ছে। গত ১০ মাসে বিভিন্ন খাতে ৮৫টি নতুন ও যুগোপযোগী কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড এবং প্রশিক্ষণ কারিকুলাম প্রণয়ন ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে জামদানি ও টাঙ্গাইল শাড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী পেশার জন্যও মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

এনএসডিএ'র তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় দক্ষতা সনদের মাধ্যমে বর্তমানে বিশ্বের ৫৮টি দেশে দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশে প্রায় ৭০ হাজার সনদধারীর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ২০ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা গড়ে উঠেছেন। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন দেশভিত্তিক ও ভাষাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষতা সনদকে আরও আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য করতে ডিজিটাল স্বাক্ষর ও কিউআর কোডসম্বলিত জাতীয় দক্ষতা সনদ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ অতিথি আবু আহমদ ছিদ্দীকী বলেন, তাঁতশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিল্পখাত। টাঙ্গাইল শাড়ি উইভিংয়ের জন্য কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন দক্ষ কর্মীদের সক্ষমতা মূল্যায়ন ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আওতাধীন টাঙ্গাইলের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে এনএসডিএ'র অধীনে নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মির্জা নুরুল গনি শোভন বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বীকৃতির জন্য সরকার, শিল্পখাত এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের মানদণ্ড উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, একাডেমিয়া, সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ, এনএসডিএ'র কর্মকর্তা, পরামর্শক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। কর্মশালায় টাঙ্গাইল শাড়ি উইভিং পেশার জন্য প্রণীত সিএস ও সিএডি পর্যালোচনা এবং ভ্যালিডেশন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে এসব নথি। যা ভবিষ্যতে টাঙ্গাইল শাড়ি শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।   

সাগুফতা/নাঈম