ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩ ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ: দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা বিশ্বমঞ্চে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক, ক্লোসাকে ছুঁয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা! স্বপ্ন ছোঁয়ার শেষ মিশনে রোনালদো নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায় বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জেরঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড় টি-টোয়েন্টি সিরিজে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অর্থনীতি ধ্বংসের বোমা: ফরিদা আখতার প্রায় ৫ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ ইবি ছাত্রদল কমিটি পবিত্র আশুরা ২৬ জুন জলবায়ু পরিবর্তনের কবলে ব্রহ্মপুত্র কমবে পানি, বাড়বে খরার ঝুঁকি দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী ১৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল মেসির জোড়া গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ সময়ের দাবি ১৭ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া: স্বপ্ন বনাম প্রত্যাবর্তন কর্মসংস্থানের রূপরেখা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন জ্যোতিদের প্রতিপক্ষ আজ অস্ট্রেলিয়া এবার কত দূর যাবে পর্তুগাল? ঘানা-পানামা: বাঁচা-মরার শুরু ১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে আছেন যারা
Nagad desktop

টেকসই নগর উন্নয়ন বাংলাদেশের অগ্রগতির কেন্দ্রবিন্দু: প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৩৬ পিএম
টেকসই নগর উন্নয়ন বাংলাদেশের অগ্রগতির কেন্দ্রবিন্দু: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

টেকসই নগর উন্নয়ন এখন বাংলাদেশের অগ্রগতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (২১ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আয়োজিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইএসসিএপি) উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আগামী বছর আমরা স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, আমাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, আমাদের নগর রূপান্তর শুধু অর্থনৈতিকভাবেই সবল নয়, বরং সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশগতভাবেও টেকসই।’

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘জলবায়ু ও নগর চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহিষ্ণু অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তীব্র নগর চ্যালেঞ্জ, জলবায়ু ঝুঁকি, অবকাঠামোগত বৈষম্য এবং সামাজিক বৈষম্যের মুখোমুখি। তবুও আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহিষ্ণু অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

গত ৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার যে চ্যালেঞ্জগুলো মুখোমুখি হয়েছে, তা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ছাত্রদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। আমরা পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী শাসনের রেখে যাওয়া একটি ধ্বংসাত্মক অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। তখন থেকে অন্তর্বর্তী সরকার আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংস্কার প্রক্রিয়া ও নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই এই সরকার সফল হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে মুদ্রাস্ফীতি ৯ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা দুই বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসতে দেখেছি। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসছে এবং আমরা স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির দিকে স্থিরভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। সরকার সম্প্রতি চার দিনের একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন করেছে। যেখানে ৫০টি দেশের ৪০০ জনেরও বেশি বিনিয়োগকারী অংশগ্রহণ করেছেন।’

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহিষ্ণু অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে উল্লেখ করে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় শহরগুলোকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।’

তিনি বাংলাদেশের অভিযোজন প্রচেষ্টার সমর্থনে বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও কার্যকর জলবায়ু অর্থায়নের আহ্বান জানান।

জলবায়ু ঝুঁকির প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, টেকসই আবাসন ও প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানে বিনিয়োগ করছে। আমাদের কম খরচের আবাসন উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ জনগণকে সহায়তা করবে। অন্যদিকে নগর জলাভূমি পুনরুদ্ধার ও সবুজ নির্মাণ সামগ্রী পরিবেশগত চাপ কমিয়ে আনছে।’

বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে অগ্রাধিকারের শীর্ষে রেখেছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসায় আমাদের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন নগর উন্নয়নের জন্য একই পদ্ধতি প্রয়োগ করছি, যাতে প্রতিটি নাগরিকের আবাসন, প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। বাংলাদেশ এই লক্ষ্যে তার বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’

সামাজিক ব্যবসা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গতানুগতিক উদ্যোগের বিপরীতে সামাজিক ব্যবসা টেকসই ব্যবসায়িক উপায়ে মানব ও পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো উদ্দেশ্য নেই। স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্ন শক্তি, সুপেয় পানি, আবাসনসহ যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এই মডেল জীবন-যাত্রার মান পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বনেতাদের, বিশেষ করে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের সবার জন্য একটি টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, বৈষম্য ও নগরায়ণের চাপের মতো চ্যালেঞ্জগুলো জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য করে তুলেছে। অধ্যাপক ইউনূস আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে একসঙ্গে সমস্যা সমাধান করার আহ্বান জানান।

তিনি এই প্রসঙ্গে ‘থ্রি জিরো ভিশন’ তথা শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নেট কার্বন নির্গমনের কথা তুলে ধরেন।
তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোকে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য যুব সম্ভাবনা ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

সোমবার ব্যাংককে জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে ইএসসিএপি‘র ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। ‘এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীল ও টেকসই নগর উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা’ শীর্ষক এই অধিবেশনে ৫৩টি সদস্য রাষ্ট্র এবং নয়টি সহযোগী সদস্য অংশ নিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী ইএসসিএপি‘র অধিবেশনে  বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ইএসসিএপি‘র অধিবেশন বাংলাদেশকে তার অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও গভীর করার সুযোগ করে দিয়েছে। একইসঙ্গে এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও রূপান্তরমূলক নগর সমাধানের মাধ্যমে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়নের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে তার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করার একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছে।

সপ্তাহব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিদল অর্থবহ অন্তর্দৃষ্টি বিনিময় এবং মূল্যবান অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: বাসস

সুমন/

প্রতিশোধ নয়, গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:২০ এএম
প্রতিশোধ নয়, গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

হারানো অতীত প্রতিশোধের মাধ্যমে ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি  বলেন, ‘আসুন আমাদের নিজের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ আমার সাথে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি সেই চেষ্টা করতে পারি। সাকসেসফুল হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মাইন্ডসেট নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই। আর তাই বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। সরকারের ভুল হতে পারে, গঠনমূলক আলোচনা হোক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটা আমাদের জন্য, বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের এই দিনে বাংলাদেশের সকল সংবাদপত্র একসময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, হাতে গোনা মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছিল। সেখান থেকে আজকে আমরা এতগুলো সাংবাদিক ভাইদের সাথে কথা বলছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওই সময় সংবাদপত্রের যে গলা চেপে ধরা হয়েছিল সেটি অন্তত এখন নেই, এই মুহূর্তে নেই। যেভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। চারটা সংবাদপত্রকে রেখে সব বন্ধ করে দিয়েছিল। একই সময় আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে বন্ধ মানে বিলুপ্ত করে বাকশাল নামে একটা দল গঠন করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন। একই সাথে সংবাদপত্রের ওপর থেকে রেস্ট্রিকশন তুলে নিলেন। পরবর্তী সময় কী হয়েছে, কতটুকু হয়েছে এটা আপনাদের কথা থেকেও বেরিয়ে এসেছে।’

প্রতি বছর ১৬ জুন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকশাল সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চারটি সরকারি প্রচারপত্র বাদে দেশের সব পত্রিকার প্রকাশনা ও ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয়। এর প্রতিবাদে পরবর্তী বছর থেকে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।

গণমাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে অনেক সাহায্য করতে পারেন। শুধু সরকার একা পারবে না, আপনার সহযোগিতা আমার লাগবে। আপনার সহযোগিতা না পেলে আমি বুঝতে পারবো না যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলেই অন্তত বুঝতে পারব যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে। অথবা ভালো কাজের পথটা আপনাদের দেখাতে হবে। অর্থাৎ দেশের কাজে আমাদের প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। এই সহযোগিতাটা আমি আপনাদের কাছে চাইছি। আপনারা সহযোগিতা করলে আমার কাজ সহজ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। বিশ্বব্যাপী কম-বেশি থাকলেও আমাদের এখানে এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কতজনকে ধরব, কতজনকে চিকিৎসা দেব বা কাউন্সেলিং করব? আমাদের তো সক্ষমতা ও সম্পদের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই এই সমস্যার সমাধানে আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।’

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি থাকে, তা ইতিবাচক খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। অথচ ঢাকা শহরসহ সারা দেশেই এখন খেলার মাঠের তীব্র সংকট।

তরুণদের এই শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি। সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সকল পরিবারের সন্তান এখানে যুক্ত হয়েছে। অথচ দুঃখের বিষয়, এত বড় একটি আয়োজন আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি।’

কেবল খেলাধুলা নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তরুণদের মেধা বিকাশের জন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা বা সায়েন্স ফেয়ার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিন (যেমন ১৬ ডিসেম্বর বা ২১ ফেব্রুয়ারি) ছাড়া কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয় না! যুব সমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে এই চর্চাগুলো সারা বছর চালু রাখতে হবে।

তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকাল দেখা যায় একটা জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে এবং ১০ জন মিলে তা মোবাইলে রেকর্ড করছে। এগুলো অস্বাভাবিক মানসিকতা। স্কুল পর্যায় থেকেই আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জেলের মধ্য থেকে এসেছি, আমি শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি, মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি। 

তারেক রহমান বলেন, ‘বাট আমি এখন যদি যারা এর জন্য দায়ী, আমি যদি সেজন্য কাউকে দায়ী করে বেড়াই তবে আমার তো হাড্ডি জোড়া লাগবে না। আমি এখনো যেই পেইনটা মাঝে মাঝে অনুভব করি, আমার সেই পেইনটা চলে যাবে না। সুতারাং ক্ষতি যা হয়ে গেছে সেটা নিয়ে না ভেবে দেশের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
বুধবার মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজার এবং শ্রীমঙ্গলে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রশাসন, বিএনপির কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট নেমে, সড়ক পথে প্রথমে শ্রীমঙ্গল ও পরে মৌলভীবাজার সদরে পৌঁছে নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

এদিকে জেলার দুটি উপজেলার অনুষ্ঠানকে ঘিরে মাঠ প্রস্তুত এবং মঞ্চ নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলীয় নেতাকর্মীরা রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচী অনুযায়ী তিনি বুধবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট নেমে, সড়ক পথে দুপুর ১টায় প্রথমে মৌলভীবাজার জেলার চায়ের জনপদ শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হয়ে সেখানে ১৫২ জন নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। পরে সেখান থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সড়ক পথে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছে সেখানে আয়োজিত রাজনগর উপজেলার জন্য বারদ্ধকৃত ১৫৫ জন নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। পরে দুপুর সাড়ে তিনটায় স্থানীয় দুসাই রির্সোটে বিশ্রাম ও সেখানে দলীয় নেতাদের নিয়ে রাজনৈতিক সভা যোগ দিবেন। পরে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে সড়ক পথে সিলেটের উদ্দোশ্যে মৌলভীবাজার ত্যাগ করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর বিষয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে শ্রীমঙ্গলের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

একই দিন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাবে, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর শ্রীমঙ্গল সফরকে জেলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে সফলভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

এসএন/

নোয়াখালীতে তোপের মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রত্যাহার

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
নোয়াখালীতে তোপের মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রত্যাহার
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন । ইনসেটে দড়িওয়ালা তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।

নোয়াখালীতে ঝটিকা সফরে এসে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এসময় নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের দায়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যাহারের ঘোষণার পরপরই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভ মিছিল করেন হাসপাতালের বাইরে থাকা কিছু বহিরাগত লোকজন। এ বিক্ষোভের মুখে একপর্যায়ে সেখান থেকে সরে আসতে বাধ্য হন মন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে নোয়াখালী সার্কিট হাউসে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ সময় সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'বিগত সরকারের ১৭ বছরের নিয়োগ দেয়া লোকজন এবং তাদের দালালরা হাসপাতালকে জিম্মি করে রেখেছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যাহার করা হয়েছে, পাশাপাশি তিন সদস্যের কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'

মন্ত্রী আরও বলেন, 'আমি আজ হাসপাতালে সফরে এসে যা দেখেছি তা খুবই জঘন্য। এতো অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না। আমরা ধীরে ধীরে এর সবকিছুই ঠিক করে ফেলব। নোয়াখালীর বর্তমান সিভিল সার্জনকে আমি মৌখিকভাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছি।'

বিগত সরকার ও বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, 'বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনা আমাদের অনেকদূর পিছিয়েছে। সবমিলিয়ে স্বাস্থ্যখাত একটি বিপর্যস্ত অবস্থায় পরিণত হয়েছে। সারা দেশে এমন জঞ্জাল সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতি, যেখানেই আমরা হাত দেই সেখানেই অব্যবস্থাপনা আর খারাপ অবস্থা। সেটি রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব না। সাড়ে তিন মাসে সব পরিবর্তন সম্ভব না।'

এ সময় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুন অর রশিদসহ জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসএন

দেশে প্রথমবার টাঙ্গাইল শাড়ি বুননের মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
দেশে প্রথমবার টাঙ্গাইল শাড়ি বুননের মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ি শিল্পে দক্ষ কারিগর তৈরি করার উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো জাতীয় মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁতশিল্পের কর্মীদের দক্ষতা মূল্যায়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনএসডিএ'র সম্মেলন কক্ষে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) উদ্যোগে ‘টাঙ্গাইল শাড়ি উইভিং (লেভেল-২)’ পেশার জন্য কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) এবং কোর্স অ্যাক্রেডিটেশন ডকুমেন্ট (সিএডি) প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত ভ্যালিডেশন কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, এনএসডিএ'র নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু আহমদ ছিদ্দীকী এবং ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মির্জা নুরুল গনি শোভন।

ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, আধুনিক ও চাহিদাভিত্তিক পেশার পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী ও শ্রমঘন খাতগুলোকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার আওতায় আনতে কাজ করছে এনএসডিএ। টাঙ্গাইল শাড়ি বুননের জন্য প্রণীত এই মানদণ্ড বাস্তবায়িত হলে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, দক্ষতার স্বীকৃতি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে নীতি প্রণয়ন, প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও সনদায়নের পাশাপাশি শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করা হচ্ছে। গত ১০ মাসে বিভিন্ন খাতে ৮৫টি নতুন ও যুগোপযোগী কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড এবং প্রশিক্ষণ কারিকুলাম প্রণয়ন ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে জামদানি ও টাঙ্গাইল শাড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী পেশার জন্যও মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

এনএসডিএ'র তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় দক্ষতা সনদের মাধ্যমে বর্তমানে বিশ্বের ৫৮টি দেশে দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশে প্রায় ৭০ হাজার সনদধারীর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ২০ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা গড়ে উঠেছেন। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন দেশভিত্তিক ও ভাষাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষতা সনদকে আরও আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য করতে ডিজিটাল স্বাক্ষর ও কিউআর কোডসম্বলিত জাতীয় দক্ষতা সনদ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ অতিথি আবু আহমদ ছিদ্দীকী বলেন, তাঁতশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিল্পখাত। টাঙ্গাইল শাড়ি উইভিংয়ের জন্য কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন দক্ষ কর্মীদের সক্ষমতা মূল্যায়ন ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আওতাধীন টাঙ্গাইলের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে এনএসডিএ'র অধীনে নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মির্জা নুরুল গনি শোভন বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বীকৃতির জন্য সরকার, শিল্পখাত এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের মানদণ্ড উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, একাডেমিয়া, সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ, এনএসডিএ'র কর্মকর্তা, পরামর্শক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। কর্মশালায় টাঙ্গাইল শাড়ি উইভিং পেশার জন্য প্রণীত সিএস ও সিএডি পর্যালোচনা এবং ভ্যালিডেশন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে এসব নথি। যা ভবিষ্যতে টাঙ্গাইল শাড়ি শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।   

সাগুফতা/নাঈম

চট্টগ্রামের চীনা শিল্পাঞ্চল হবে পরিবেশবান্ধব, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
চট্টগ্রামের চীনা শিল্পাঞ্চল হবে পরিবেশবান্ধব, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে সবুজ ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় পরিবেশগত সমস্যা সমাধান এবং প্রকল্পের নকশায় টেকসই জ্বালানি সমাধান অন্তর্ভুক্ত করার শর্তে ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প’ অনুমোদন করা হয়।

সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এ তথ্য জানান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একনেকের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে একনেক। 

মোট প্রকল্প ব্যয় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকার মধ্যে সরকার দেবে ১ হাজার ৭২২ কোটি ১৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার টাকা প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে।

প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাসমূহকে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

তিনি আধুনিক পরিবেশগত মান ও প্রটোকল অনুসরণ করে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন।

একটি আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিশোধনের পর শোধিত পানি যেন পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করা হয়।

তিনি মূল প্রকল্প প্রস্তাবের ত্রুটিগুলো দূর করে প্রকল্প নকশায় কোনো পরিবেশগত ঘাটতি যাতে না থাকে তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

এছাড়া প্রকল্পে সৌরভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পুরো শিল্পাঞ্চলে সৌর প্যানেল স্থাপনেরও নির্দেশনা দেন তিনি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নত পানি শোধন ও পুনর্ব্যবহার সুবিধা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সংযুক্তি সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের শর্তে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পরিকল্পনায় বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে এসব পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পদক্ষেপগুলোর প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

এসএন/