বরেণ্য রাজনীতিবিদ, সাবেক অর্থমন্ত্রী, লেখক ও গবেষক, ভাষাসংগ্রামী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মাল আবদুল মুহিতের মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার (৩০ এপ্রিল)। ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল ৮৮ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট উপস্থাপন করেন। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। টানা ১০ বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় নেন। এর আগে ১৯৮২ সালের মার্চ থেকে ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সিলেট শহরের ধোপা দিঘীর পাড়ে পৈতৃক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন সিলেট জেলা মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা আবু আহমদ আবদুল হাফিজ ও সৈয়দা শাহার বানু চৌধুরীর ১৪ সন্তানের মধ্যে তৃতীয় মুহিত। তার স্ত্রী সৈয়দা সাবিয়া মুহিত একজন ডিজাইনার। তিন সন্তানের মধ্যে কন্যা সামিনা মুহিত ব্যাংকার ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞ। বড় ছেলে সাহেদ মুহিত ও ছোট ছেলে সামির মুহিত শিক্ষক।
মুহিত ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সক্রিয় ছিলেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেও। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (সিএসপি) যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি বিভিন্ন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আগে মুহিত যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। যুদ্ধ শুরুর পর তিনি পাকিস্তান সরকারের চাকরি ছেড়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং পাকিস্তান পরিচালিত জেনোসাইডের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
একজন লেখক হিসেবেও আবুল মাল আবদুল মুহিত খ্যাতিমান। প্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে তার ৩০টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় তার ৬০ বছরের বিচিত্র কর্মজীবনভিত্তিক স্মৃতিকথা ‘স্মৃতিময় কর্মজীবন’।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের জন্য ২০১৬ সালে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে সরকার।