দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করবে ‘কারিগরি ছাত্র আন্দোলন’।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্ল্যাটফর্মের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি মাশফিক ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘রূপরেখা কমিটি গঠন করে দিলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা কোনো ধরনের সফলতা দেখছি না। কোনো প্রকার তথ্য পাচ্ছি না। ভবিষ্যতে আমাদের দাবিগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তাও জানতে পারছি না, এই কমিটি দ্রুত কাজ করছে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আজকে সারা দেশের সব পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট একযোগে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছি। আমাদের দাবি আদায়ের রূপরেখা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে সব পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একযোগে এভাবে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করা হবে। একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবনেরসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’
কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি শাহজাদ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ৬ দফার আন্দোলন দীর্ঘ ৮ মাস থেকে চলে আসছে। আমরা বিভিন্নভাবে আশ্বস্ত হয়েছি। কিন্তু দাবি বাস্তবায়নে পরিপূর্ণভাবে সমাধানের দিকে যেতে পারছি না। আমরা সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীসমাজ কোনো দুর্ভোগ তৈরি করিনি। আমরা সহিংস কর্মকাণ্ডে যাইনি। জনদুর্ভোগ তৈরি করিনি। আমরা সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্তে উপনীতি হয়েছি, আমরা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোনো দুর্ভোগে যাব না।’
পলিটেকনিক্যাল শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি হলো- জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদে ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের নিয়োগ বাতিল এবং নিয়োগবিধি সংশোধন করা; ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সকে মানসম্পন্ন করা এবং যেকোনো বয়সে ভর্তির বিধান বাতিল করা; উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও সমমানের পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পরিবর্তে ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মনোটেকনোলজি (সার্ভেয়িং) থেকে পাস করাদের নিয়োগ নিশ্চিত করা; কারিগরি সেক্টরে কারিগরি বহির্ভূত নিয়োগ নিষিদ্ধ করা; ‘কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়’ নামে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করা; উন্নতমানের টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।
এসব দাবি বাস্তবায়নে পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা ব্লকেড, কফিন মিছিল, শাটডাউনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।