ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ৬০ বছরের অপেক্ষা বনাম ক্রোয়াট ধারাবাহিকতা সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩ ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ: দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা বিশ্বমঞ্চে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক, ক্লোসাকে ছুঁয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা! স্বপ্ন ছোঁয়ার শেষ মিশনে রোনালদো নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায় বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ টি-টোয়েন্টি সিরিজে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অর্থনীতি ধ্বংসের বোমা: ফরিদা আখতার প্রায় ৫ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ ইবি ছাত্রদল কমিটি পবিত্র আশুরা ২৬ জুন জলবায়ু পরিবর্তনের কবলে ব্রহ্মপুত্র কমবে পানি, বাড়বে খরার ঝুঁকি দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী ১৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল মেসির জোড়া গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ সময়ের দাবি ১৭ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া: স্বপ্ন বনাম প্রত্যাবর্তন কর্মসংস্থানের রূপরেখা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন জ্যোতিদের প্রতিপক্ষ আজ অস্ট্রেলিয়া এবার কত দূর যাবে পর্তুগাল? ঘানা-পানামা: বাঁচা-মরার শুরু ১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
Nagad desktop

আমরা গৎবাঁধা পথে চলি বলেই নতুন পৃথিবীর কথা চিন্তা করি না: ড. ইউনূস

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৫, ০৭:৩৩ পিএম
আমরা গৎবাঁধা পথে চলি বলেই নতুন পৃথিবীর কথা চিন্তা করি না: ড. ইউনূস
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে ছাত্রসমাজ ঠিক করবে তারা কি ধরনের ভবিষ্যৎ চায়। আমরা যে ধরনের বিশ্ব গড়তে চাই তা করার ক্ষমতা আমাদের আছে। সকল মানুষের আছে। কিন্তু আমরা গৎবাঁধা পথে চলে যাই বলে নতুন পৃথিবীর কথা আমরা চিন্তা করি না। তিনি জোবরা গ্রামকে নিজের বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করে বলেছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এসব শিখিয়েছেন।

বুধবার (১৪ মে) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন জীবনের একটা মস্তবড় ঘটনা। সারাজীবন স্মরণ করে। ছবিটি সংরক্ষণ করে নিজের পরের প্রজন্মকে দেখায়। সেই বিশেষ দিনটি আজকে। এই দীর্ঘ সময় পরে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠান হতে পারল এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানাই। দুর দুরান্ত থেকে যেসব শিক্ষার্থী এসেছে তাদেরকেও অভিনন্দন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সময়টা কত তাড়াতাড়ি চলে যায় বোঝা যায় না। যখন শেষ হয়ে যায় তখন মনে মনে কষ্ট লাগে। আনন্দের দিন শেষ হল। জীবনের বড় একটা অধ্যায় শেষ হল। নতুন অধ্যায় শুরু। আমার ব্যক্তিগত আনন্দ আজ অন্য বিষয়ে। তোমাদের সঙ্গে দেখা হওয়া সেটা অবশ্যই ভীষণ আনন্দের। এই ক্যাম্পাসে বহুবছর পর ফিরে আসা সেটাও আনন্দের ব্যাপার। তথাপি নতুন সনদ প্রাপ্তদের অভিনন্দন জানানো সেটাও আনন্দের।

স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ৭২ সালে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। তখন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তখন বুঝতে পারিনি কী পরিবর্তন হতে যাচ্ছে আমার ভিতরে। অত্যন্ত উৎসাহ সহকারে দায়িত্ব পালন করছিলাম। এরমধ্যে ৭৪ সালে বিরাট দুর্ভিক্ষ হয়ে গেল। সবকিছু উলটপালট হয়ে গেল। মনের মধ্যে বহু জিজ্ঞাসার সৃষ্টি হল। মনে মনে ভাবলাম সারা বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষ ঠেকানোর ক্ষমতা আমার নেই। আমি চেষ্টা করতে পাারি। বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র অংশের কয়েকটি পরিবারের দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে পারলে সেটা আমার জন্য কৃতিত্বের বিষয় হবে। যেকারণে নজর পড়ল পার্শ্ববর্তী গ্রাম জোবরায়। কী করবো জোবরাতে? সারাদেশে হাহাকার। জোবরাতে তখনো কেউ মারা যায়নি। অবস্থা খারাপ। মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং জোবরা গ্রামের মাঝে অনেক জমি পড়ে আছে। সেখানে অনেক ফসল হওয়ার কথা। যাতে সারাবছরের সংস্থান হয়ে যায়। জিজ্ঞেস করলাম, তারা জানাল ফসল হয় না। কেন হয় না? বৃষ্টি না হলে হয় না। উত্তরে জানালেন তারা। রাউজানে তখন সবেমাত্র ইরি ধান চাষ শুরু হয়েছে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়কে জিজ্ঞাসা করলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা কী।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যদি জ্ঞানের ভাণ্ডার হয় সেই জ্ঞান পাশের গ্রামে উপচে পড়ে না কেন? তারা জানেনা কেন? কেউ কোন সদুত্তর দিল না। বা দেয়ার চেষ্টাও করল না। তখন আমি চিন্তা করলাম তাদের দিয়ে চাষাবাদ করা যায় কিনা। তখন তারা জানাল পানি নেই। রাউজানে ডিপটিউবওয়েল আছে। এখানে নেই। ডিপটিউবওয়েল তখন সবে দেশে এসেছে। শীতকালে চাষ অবিশ্বাস্য ছিল। মানুষ বিশ্বাস করতো যদি শীতকালে চাষাবাদের বিষয় থাকতো তাহলে আল্লাহতায়ালা শীতকালে বৃষ্টি দিতেন। আপনি জোর করে আল্লাহ এর হুমুক উল্টিয়ে দিয়েন না। আমি তাদের জন্য ডিপটিউবওয়েলের ব্যবস্থা করলাম। ফসল হল। পরের বছর জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তারা জানাল গতবছর চিটা ধান পেয়েছি। কারণ পানির টানাটানি ছিল। পর্যাপ্ত পানি পায়নি। একজন বলল এবার ডিপটিউবওয়েলে চাষ হবে না। আমরা বারমাসিয়া খাল থেকে পানি নেব। তখন এলাকাবাসী জানাল পাশের বারমাসিয়া খাল থেকে পানি নেয়া যায়। গিয়ে দেখলাম সেখানে পানি আছে। তাদের জিজ্ঞেস করলাম আল্লাহ এর পানি তো এখানে আছে চাষ করলেন না কেন? তারা জানাল এতদিন কেউ করেনি, তাই আমরাও করিনি। সবাই মিলে বাঁধ দিলাম। বাঁধে যে পানি এল তা ডিপটিউবওয়েলের চেয়ে অনেক বেশি পানি পাওয়া গেল। নতুন শিক্ষা লাভ হল। গরজ না থাকলে ইচ্ছে না থাকলে সবকিছু থাকা সত্ত্বেও অভাব থেকে যায়। জমি আছে, পানি আছে। চাষ করা যায়। কিন্তু কেউ করেনি কোনদিন আমরা কেন করবো? এর থেকে শিক্ষা লাভ হলো। এরপর জন্মলাভ করল তেভাগা খামার। এই চাষ সমস্যা হলো ইরি ধান চাষ করতে হলে লাইন ধরে রোপা লাগাতে হয়। কষ্ট করতে হয়। কৃষকরা বললেন বেশি কষ্ট। আমি বললাম, খাবার যখন খাবেন কষ্ট করবেন না।? অদ্ভুত একটা মানসিকতা। তখন আমি ছাত্রদের নিয়ে বসলাম। আমরা মাঠে নামি। সুতা ধরবো এবং চারা লাগাবে। ওই সময়ের আমার ছাত্র-ছাত্রীরা যারা ছিল তাদের সারাজীবন মনে থাকবে। দলে দলে তারা মাঠে নেমে লাইন করে ধানের চারা লাগাল। জোবরাতে আমরা ইরি ধানের চাষ শুরু করে দিয়ে আসছি। তার থেকে আসতে আসতে নজর পড়ল জোবরার আশপাশের গ্রামে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজ এই কথা বলছি, এই কারণে আমি এখানে এসেছি শিক্ষক হিসেবে। যতই দিন গেল দেখলাম আমি ছাত্র হয়ে গেছি। আমি আর শিক্ষকতার ভূমিকায় নাই। আমি ক্রমাগত শিখছি। জোবরা এবং আশপাশের মহিলারা আমার শিক্ষক। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখলাম। আমার ছাত্র-ছাত্রীরা যারা আমার সঙ্গে ছিল। আজ অনেকেই উপস্থিত আছে। যারা মহিলাদের কাছে আমাকে নিয়ে গেল তাদের কাছ থেকে পাঠদান নেয়ার জন্য। অবাক হয়ে গেলাম। যা ক্লাশরুমে পড়াই তার সঙ্গে কিছুই মিল না। যে কাজে হাত দিলাম তা মহিলাদের কাছে অনেক পছন্দের বিষয় হয়ে গেল। তাদের ঋণ দিলাম। তাদের হাতে ৫ টাকা, ১০ টাকা দিলাম। ৫ টাকা ১০ টাকা যে মানুষের জীবনের এত আনন্দ আনতে পারে, কোনদিন ভাবিনি। আমি কোন মাগনা টাকা তাদেরকে দিচ্ছিলাম না। আমি তাদেরকে বললাম টাকা দিচ্ছি রোজগার করে আমার টাকা আমাকে ফেরৎ দেবেন। তাতেই তারা খুশি। অনেক কাহিনী তাদের কাছ থেকে শুনলাম। তারা নিজের নাম পর্যন্ত বলতে পারেনা। আমাদের সমাজ মহিলাদের তার নিজের নাম শেখার বা জানারও সুযোগ দেয়নি। ছোটবেলায় অমুকের, মেয়ে, বিয়ে হলে অমুকের বউ, মা হলে অমুকের মা। সে যে কে সে নিজেও জানেনা। আমরা প্রথম চেষ্টা করলাম তার নাম বের করার। যাতে করে সে সেটা লিখতে পারে। আমার ছাত্রীরা তাদের লেখা শেখাতে গিয়ে তার জীবনের অনেক কাহিনী আসল।

এর থেকে আমি একটা সিদ্ধান্তে আসলাম এবং সভা সমিতিতে বললাম ঋণ মানুষের মানবিক অধিকার। সবাই হাসাহাসি করেন। আপনি ঋণের কথাও বলেন, অধিকারের কথাও বলেন। ইকোনোমিকসে তো অধিকারের কথা নেই। তাও আবার মানবিক অধিকার। আপনি কোন সাবজেক্টে লেখাপড়া করেন। অনেক খটকা। একটা খটকার পর আরেকটা খটকা। তারপর বললাম আমরা দারিদ্রকে জাদুঘরে পাঠাব। বলে আপনি কে জাদুঘরে পাঠানোর। আমি বললাম আমি আপনার মতই একজন মানুষ। আমি পাঠাইতে চাই, আপনি বাধা দিতে চাইলে বাধা দেন। তখন আমাকে বলা হল, আপনি কে, এটা তো সরকারের কাজ। তাহলে আমি আমার কাজ করতে থাকি। সরকার বাধা দিলে তখন দেখবো।

জোবরার মহিলাদের কাছ থেকে নতুন অর্থনীতি শেখা আরম্ভ করলাম। সে হিসেবে জোবরা আমার নতুন বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড়িয়ে গেল। আজ পর্যন্ত যা কিছু করে যাচ্ছি, এই জোবরা থেকে যা শিখেছি তারই বহি:প্রকাশ। এখন যে অর্থনীতি আমরা পড়াচ্ছি তা ব্যবসার অর্থনীতি। মানুষের অর্থনীতি না।

তিনি বলেন, যেকোন অর্থনীতি যদি শুরু করতে হয় মানুষকে দিয়ে করতে হয়। ব্যবসাকে দিয়ে নয়। আজকে যে শুরুটা হল সেই শুরুটা আমাদের ভুল পথে নিয়ে গেল। আমরা এক ব্যবসাকেন্দ্রিক সভ্যতা গড়ে তুললাম। এই সভ্যতা আত্মঘাতি সভ্যতা। এটা টিকবে না। ওইযে, যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি পড়াশোনা শুরু করলাম, সেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে বলল এই বিদ্যার পৃথিবী ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। এর থেকে রেহাই পাওয়ার কোন উপায় নেই। তখন আরো বড় আকারের জিনিসের মধ্যে ঢুকলাম।  বললাম, আমাদের নতুন সভ্যতা গড়তে হবে। আমি ভাবলাম এটা বললে তো আমার সহকর্মী যারা আছেন, যারা অথর্নীতি পাঠদান করেন,  লেখালেখি করেন তারা আমাকে অনেক আগেই ত্যায্য করেছে। তারা একেবারেই শেষ করে দেবে। এর সাথে কথা বলার দরকার নেই।

কিন্তু ওই নতুন শিক্ষাপ্রাপ্ত ছাত্র আমার মাথায় সেটা রয়ে গেল। আমাদেরকে নতুন সূত্রে যাত্রা শুরু করতে হবে। যে অর্থনীতির ভিত্তি হবে মানুষ। যে অর্থনৈতিক ভিত্তি হবে তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা। ভবিষ্যত চিন্তাধারা। কিভাবে সে নিজেকে আবিষ্কার করবে। যেদিকে তাকে ছুটিয়ে দেয়া হয়েছে তার থেকে বের করে আনা। এগুলো সমস্ত কিছুর বীজ বপন হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের বিশ্ববিদ্যালয় জোবরা থেকে। সেজন্য আমি জোবরার কাছে কৃতজ্ঞ। চবির কাছে কৃতজ্ঞ যেহেতু এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে জায়গা দিয়েছে। এরপর যে একটা নোবেল পুরস্কার পাব সেটা কল্পনা করিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যখন পরিচয় দেয় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নোবেল পুরস্কার পেয়েছি। গৌরব করে।

ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় গৌরব করে, আমি তাদের ছাত্র ছিলাম। আমি তাদের বলি চবির গৌরব করার কারণ দুইটি। পুরো কর্মসূচি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার গোড়াপত্তন হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহচর্যে।

গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে ড. ইউনুস বলেন, আসলে এই বিশ্ববিদ্যালয় দুটি নোবেল পুরস্কারের জন্য গৌরব বোধ করতে পারে। একটিতো হলো আমি ব্যক্তিগতভাবে নোবেল পেয়েছি। দ্বিতীয়ত হল যে গ্রামীণ ব্যাংক সৃষ্টি হল সেটির গোড়াতেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে পরিস্কারভাবে লেখা আছে গ্রামীণ ব্যাংক কোথা থেকে আসল। ব্যাংকের জন্ম হল চবি অর্থনীতি বিভাগে সেটি পরিস্কার লেখা আছে। কাজেই দুটো নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস নিজেদের ছাত্রছাত্রীদের জানাতে পারে।

পাঠদান ও গবেষণা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে ছাত্রসমাজ ঠিক করবে তারা কি ধরনের ভবিষ্যৎ চায়। আমরা যে ধরনের বিশ্ব গড়তে চাই তা করার ক্ষমতা আমাদের আছে। সকল মানুষের আছে। কিন্তু আমরা গৎবাঁধা পথে চলে যাই বলে নতুন পৃথিবীর কথা আমরা চিন্তা করি না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সবসময় যেন এটা মনে রেখে পাঠদান ও গবেষণা কর্মসূচি চালু রাখে। আমি খন্ডিত বিষয়ে গবেষণা চালানোর জন্য নিয়োজিত নই। প্রত্যেকটি গবেষণার পেছনে আমাদের উদ্দেশ্য হল সমস্ত বিশ্বকে মনের মতো করে সাজানো। আমাদের যদি সেই লক্ষ্য না থাকে তাহলে গন্তব্যবিহীন গবেষণা ও শিক্ষাতে পরিণত হবে।

আমরা যেভাবে বিশ্ব গড়তে চাই সেভাবেই বিশ্ব গড়তে পারি। আমি যেভাবে বলেছি সেভাবে গড়তে হবে এমন কোন কথা নেই। আমি আমার কথাটা বলে যাচ্ছি। অন্যরা অন্যদের কথা বলবে। তোমরা তোমাদের কথা বলবে। কিন্তু নিজের মনের একটা স্বপ্ন থাকতে হবে। আমরা কি ধরনের বিশ্ব চাই, কি ধরনের সমাজ চাই, কি ধরনের সংসার চাই কি ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চাই । এগুলো মনের মাধুরি মিশিয়ে আমাদেরকে বের করে নিতে হবে।

আজকে দুই বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং মহিলাদের যে বিশ্ববিদ্যালয় আমার জন্য সৃষ্টি হয়েছিল জোবরা এবং আশপাশের গ্রামে। তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চবি উপাচার্য ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার। এসময় উপস্থিত ছিলেন মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ, চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. কামাল উদ্দিন প্রমুখ। 

প্রতিশোধ নয়, গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:২০ এএম
প্রতিশোধ নয়, গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

হারানো অতীত প্রতিশোধের মাধ্যমে ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি  বলেন, ‘আসুন আমাদের নিজের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ আমার সাথে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি সেই চেষ্টা করতে পারি। সাকসেসফুল হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মাইন্ডসেট নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই। আর তাই বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। সরকারের ভুল হতে পারে, গঠনমূলক আলোচনা হোক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটা আমাদের জন্য, বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের এই দিনে বাংলাদেশের সকল সংবাদপত্র একসময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, হাতে গোনা মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছিল। সেখান থেকে আজকে আমরা এতগুলো সাংবাদিক ভাইদের সাথে কথা বলছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওই সময় সংবাদপত্রের যে গলা চেপে ধরা হয়েছিল সেটি অন্তত এখন নেই, এই মুহূর্তে নেই। যেভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। চারটা সংবাদপত্রকে রেখে সব বন্ধ করে দিয়েছিল। একই সময় আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে বন্ধ মানে বিলুপ্ত করে বাকশাল নামে একটা দল গঠন করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন। একই সাথে সংবাদপত্রের ওপর থেকে রেস্ট্রিকশন তুলে নিলেন। পরবর্তী সময় কী হয়েছে, কতটুকু হয়েছে এটা আপনাদের কথা থেকেও বেরিয়ে এসেছে।’

প্রতি বছর ১৬ জুন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকশাল সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চারটি সরকারি প্রচারপত্র বাদে দেশের সব পত্রিকার প্রকাশনা ও ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয়। এর প্রতিবাদে পরবর্তী বছর থেকে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।

গণমাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে অনেক সাহায্য করতে পারেন। শুধু সরকার একা পারবে না, আপনার সহযোগিতা আমার লাগবে। আপনার সহযোগিতা না পেলে আমি বুঝতে পারবো না যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলেই অন্তত বুঝতে পারব যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে। অথবা ভালো কাজের পথটা আপনাদের দেখাতে হবে। অর্থাৎ দেশের কাজে আমাদের প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। এই সহযোগিতাটা আমি আপনাদের কাছে চাইছি। আপনারা সহযোগিতা করলে আমার কাজ সহজ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। বিশ্বব্যাপী কম-বেশি থাকলেও আমাদের এখানে এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কতজনকে ধরব, কতজনকে চিকিৎসা দেব বা কাউন্সেলিং করব? আমাদের তো সক্ষমতা ও সম্পদের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই এই সমস্যার সমাধানে আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।’

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি থাকে, তা ইতিবাচক খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। অথচ ঢাকা শহরসহ সারা দেশেই এখন খেলার মাঠের তীব্র সংকট।

তরুণদের এই শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি। সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সকল পরিবারের সন্তান এখানে যুক্ত হয়েছে। অথচ দুঃখের বিষয়, এত বড় একটি আয়োজন আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি।’

কেবল খেলাধুলা নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তরুণদের মেধা বিকাশের জন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা বা সায়েন্স ফেয়ার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিন (যেমন ১৬ ডিসেম্বর বা ২১ ফেব্রুয়ারি) ছাড়া কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয় না! যুব সমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে এই চর্চাগুলো সারা বছর চালু রাখতে হবে।

তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকাল দেখা যায় একটা জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে এবং ১০ জন মিলে তা মোবাইলে রেকর্ড করছে। এগুলো অস্বাভাবিক মানসিকতা। স্কুল পর্যায় থেকেই আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জেলের মধ্য থেকে এসেছি, আমি শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি, মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি। 

তারেক রহমান বলেন, ‘বাট আমি এখন যদি যারা এর জন্য দায়ী, আমি যদি সেজন্য কাউকে দায়ী করে বেড়াই তবে আমার তো হাড্ডি জোড়া লাগবে না। আমি এখনো যেই পেইনটা মাঝে মাঝে অনুভব করি, আমার সেই পেইনটা চলে যাবে না। সুতারাং ক্ষতি যা হয়ে গেছে সেটা নিয়ে না ভেবে দেশের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
বুধবার মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজার এবং শ্রীমঙ্গলে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রশাসন, বিএনপির কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট নেমে, সড়ক পথে প্রথমে শ্রীমঙ্গল ও পরে মৌলভীবাজার সদরে পৌঁছে নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

এদিকে জেলার দুটি উপজেলার অনুষ্ঠানকে ঘিরে মাঠ প্রস্তুত এবং মঞ্চ নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলীয় নেতাকর্মীরা রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচী অনুযায়ী তিনি বুধবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট নেমে, সড়ক পথে দুপুর ১টায় প্রথমে মৌলভীবাজার জেলার চায়ের জনপদ শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হয়ে সেখানে ১৫২ জন নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। পরে সেখান থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সড়ক পথে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছে সেখানে আয়োজিত রাজনগর উপজেলার জন্য বারদ্ধকৃত ১৫৫ জন নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। পরে দুপুর সাড়ে তিনটায় স্থানীয় দুসাই রির্সোটে বিশ্রাম ও সেখানে দলীয় নেতাদের নিয়ে রাজনৈতিক সভা যোগ দিবেন। পরে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে সড়ক পথে সিলেটের উদ্দোশ্যে মৌলভীবাজার ত্যাগ করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর বিষয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে শ্রীমঙ্গলের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

একই দিন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাবে, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর শ্রীমঙ্গল সফরকে জেলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে সফলভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

এসএন/

চাঁদ দেখা গেছে মহররমের, আশুরার তারিখ ঘোষণা

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
চাঁদ দেখা গেছে মহররমের, আশুরার তারিখ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আকাশে পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো. ফজলুর রহমান।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (১৭ জুন) থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসাবে আগামী ২৬ জুন, শুক্রবার সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) হতে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

এসএন/

নোয়াখালীতে তোপের মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রত্যাহার

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
নোয়াখালীতে তোপের মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রত্যাহার
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন । ইনসেটে দড়িওয়ালা তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।

নোয়াখালীতে ঝটিকা সফরে এসে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এসময় নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের দায়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যাহারের ঘোষণার পরপরই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভ মিছিল করেন হাসপাতালের বাইরে থাকা কিছু বহিরাগত লোকজন। এ বিক্ষোভের মুখে একপর্যায়ে সেখান থেকে সরে আসতে বাধ্য হন মন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে নোয়াখালী সার্কিট হাউসে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ সময় সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'বিগত সরকারের ১৭ বছরের নিয়োগ দেয়া লোকজন এবং তাদের দালালরা হাসপাতালকে জিম্মি করে রেখেছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যাহার করা হয়েছে, পাশাপাশি তিন সদস্যের কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'

মন্ত্রী আরও বলেন, 'আমি আজ হাসপাতালে সফরে এসে যা দেখেছি তা খুবই জঘন্য। এতো অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না। আমরা ধীরে ধীরে এর সবকিছুই ঠিক করে ফেলব। নোয়াখালীর বর্তমান সিভিল সার্জনকে আমি মৌখিকভাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছি।'

বিগত সরকার ও বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, 'বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনা আমাদের অনেকদূর পিছিয়েছে। সবমিলিয়ে স্বাস্থ্যখাত একটি বিপর্যস্ত অবস্থায় পরিণত হয়েছে। সারা দেশে এমন জঞ্জাল সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতি, যেখানেই আমরা হাত দেই সেখানেই অব্যবস্থাপনা আর খারাপ অবস্থা। সেটি রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব না। সাড়ে তিন মাসে সব পরিবর্তন সম্ভব না।'

এ সময় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুন অর রশিদসহ জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসএন

দেশে প্রথমবার টাঙ্গাইল শাড়ি বুননের মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
দেশে প্রথমবার টাঙ্গাইল শাড়ি বুননের মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ি শিল্পে দক্ষ কারিগর তৈরি করার উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো জাতীয় মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁতশিল্পের কর্মীদের দক্ষতা মূল্যায়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনএসডিএ'র সম্মেলন কক্ষে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) উদ্যোগে ‘টাঙ্গাইল শাড়ি উইভিং (লেভেল-২)’ পেশার জন্য কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) এবং কোর্স অ্যাক্রেডিটেশন ডকুমেন্ট (সিএডি) প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত ভ্যালিডেশন কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, এনএসডিএ'র নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু আহমদ ছিদ্দীকী এবং ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মির্জা নুরুল গনি শোভন।

ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, আধুনিক ও চাহিদাভিত্তিক পেশার পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী ও শ্রমঘন খাতগুলোকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার আওতায় আনতে কাজ করছে এনএসডিএ। টাঙ্গাইল শাড়ি বুননের জন্য প্রণীত এই মানদণ্ড বাস্তবায়িত হলে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, দক্ষতার স্বীকৃতি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে নীতি প্রণয়ন, প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও সনদায়নের পাশাপাশি শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করা হচ্ছে। গত ১০ মাসে বিভিন্ন খাতে ৮৫টি নতুন ও যুগোপযোগী কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড এবং প্রশিক্ষণ কারিকুলাম প্রণয়ন ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে জামদানি ও টাঙ্গাইল শাড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী পেশার জন্যও মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

এনএসডিএ'র তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় দক্ষতা সনদের মাধ্যমে বর্তমানে বিশ্বের ৫৮টি দেশে দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশে প্রায় ৭০ হাজার সনদধারীর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ২০ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা গড়ে উঠেছেন। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন দেশভিত্তিক ও ভাষাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষতা সনদকে আরও আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য করতে ডিজিটাল স্বাক্ষর ও কিউআর কোডসম্বলিত জাতীয় দক্ষতা সনদ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ অতিথি আবু আহমদ ছিদ্দীকী বলেন, তাঁতশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিল্পখাত। টাঙ্গাইল শাড়ি উইভিংয়ের জন্য কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন দক্ষ কর্মীদের সক্ষমতা মূল্যায়ন ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আওতাধীন টাঙ্গাইলের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে এনএসডিএ'র অধীনে নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মির্জা নুরুল গনি শোভন বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বীকৃতির জন্য সরকার, শিল্পখাত এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের মানদণ্ড উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, একাডেমিয়া, সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ, এনএসডিএ'র কর্মকর্তা, পরামর্শক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। কর্মশালায় টাঙ্গাইল শাড়ি উইভিং পেশার জন্য প্রণীত সিএস ও সিএডি পর্যালোচনা এবং ভ্যালিডেশন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে এসব নথি। যা ভবিষ্যতে টাঙ্গাইল শাড়ি শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।   

সাগুফতা/নাঈম