ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলা তদন্তে আগামী বৃহস্পতিবারের (২২ মে) মধ্যে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি সামনে না আসলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে লং মার্চের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ সময় সাম্যের সহপাঠী সোহেল রানা সাব্বির বলেন, ‘আমরা আগামী বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে অবস্থান নেব। এর মধ্যে যদি তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি না দেখতে পাই, পরবর্তীতে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে লং মার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে।’
সাম্য হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের যে কর্মসূচি তার ওপর ইনস্টিটিউটের সংহতি রয়েছে জানিয়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘আমাদের ছাত্ররা সাম্য হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে, আমরা সবাই সমর্থন প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে যে দাবি জানানো হয়েছে সবগুলোই আমাদের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের দাবি। আমরা চাই, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের খুঁজে বের করে যেন অবিলম্বে বিচার নিশ্চিত করা হয়।’
সাম্যের বন্ধু এস এম নাহিয়ান ইসলাম বলেন, ‘আমরা দুঃখজনকভাবে দেখতে পাচ্ছি, সাম্যর হত্যাকাণ্ডের পর তাকে নিয়ে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলো বিভাজন ও নোংরা রাজনীতি করছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক দলাদলি আমাদের আশাহত করেছে। আমাদের প্রত্যাশা সাম্য হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ঐক্যবদ্ধ থাকবে। আরেকটি দুঃখজনক ব্যাপার হলো সাম্যকে নিয়ে অনলাইনে নানা ধরনের বাজে ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে। তার চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছে। যে কুচক্রী মহল এই ঘৃণিত কাজ করছে তাদের প্রতি নিন্দা এবং পাশাপাশি আইনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব, বলে জানিয়ে দিচ্ছি।’
এতে অন্যদের মধ্যে ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে আট দফা দাবি উত্থাপন করেন ইনস্টিটিউটের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মশিউর আলম শুভ।
দাবিগুলো হলো-
১. হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
২. ঘটনার সময়কার আশপাশের এলাকার সব সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা।
৩. হত্যার সহযোগীদের ছেড়ে দেওয়ায় জড়িত পুলিশদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা।
৪. শাহবাগ থানার আশপাশের অস্ত্র ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও পুলিশের গাফিলতির জবাবদিহি করা।
৫. প্রশাসনের অবহেলার প্রতিবাদ, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা।
৬. তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে প্রশাসনের সক্রিয়তা এবং সাম্যের পরিবার ও সহপাঠীদের সম্পৃক্ত করা।
৭. বিচার নিশ্চিতে ‘সাম্যর বিচার নিশ্চিতকরণ কমিটি’ গঠন করা।
৮. প্রতিবাদে অনুপস্থিত সংগঠনগুলোকে একাত্ম হওয়ার আহ্বান।
৯. ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
গত ১৩ মে রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শাহরিয়ার আলম সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে একদল দুর্বৃত্ত। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় রাত ১২টার দিকে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাম্যকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
এর আগে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
তারা হলেন- তামিম হাওলাদার (৩০), সম্রাট মল্লিক (২৮) এবং পলাশ সরদার (৩০)।
পরে ১৪ মে তাদের আদালতে হাজির করা হলে, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামশেদ আলম কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ১৭ মে গ্রেপ্তার তিনজনের ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এদিকে সাম্য হত্যার ঘটনায় করা মামলাটি শাহবাগ থানা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরিফ/পপি/