সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য দরকার জাতীয় ঐক্য উল্লেখ করে নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে লটারির ভিত্তিতে নারীদের জন্য আসন নির্ধারিত হবে। এতে করে নারীরা যখন নিজেদের আসন পরিচালনা করবে তাদের আক্ষরিক ক্ষমতায়ন হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতেও বাংলাদেশের কাছাকাছি একটা নির্বাচন ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ওইখানে প্রধান আলাদা হওয়াতে প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশের মতো হয়ে যেতে পারেননি।’
বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘সুপারিশ থেকে বাস্তবতা: কমিশন রিপোর্টের পুনঃমূল্যায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা ইনস্টিটিউট অফ রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স (ডায়রা) এর উদ্যোগে এই বৈঠকে সঞ্চালক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান। পাঁচটি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর দায়রার অবস্থান তুলে ধরেন সংগঠনটির গবেষণা সহকারী ফারিহা আহমেদ।
ফারিহা আহমেদ বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রবেশ করে। অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কাঠামো পুনর্বিবেচনা এবং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সম্ভাবনা তৈরির এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয় জাতির সামনে। এই ধারাবাহিকতায়, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার ছয়টি জাতীয় সংস্কার কমিশন গঠন করে। এর মধ্যে পাঁচটি-সংবিধান, নির্বাচন, বিচারব্যবস্থা, জনপ্রশাসন এবং পুলিশ সংস্কার কমিশন গত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমরা এমন এক ক্রান্তিলগ্নে অবস্থান করছি, যেখানে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহিতার ভিত্তিতে নতুন করে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে। সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি, স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার নিশ্চয়তা কতটুকু, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।’
সংবিধানে নাগরিকের অধিকার প্রসঙ্গে ড. মির্জা এম হাসান বলেন, ‘সংবিধানে ‘ইক্যুয়ালিটি অফ অপরচুনিটি’ বিদ্যমান থাকলেও ‘ইক্যুয়ালিটি অফ আউটকাম’-এর অভাব রয়েছে।’
তিনি অধিকারের দুটি মাত্রা- ইতিবাচক ও নেতিবাচক অধিকার ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সমাজে যেখানে কেউ কাউকে ক্ষতি করে, সেখানে নিছক স্বাধীনতাকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘জীবনের অধিকারে কোনো প্রকার সীমাবদ্ধতা থাকা উচিত নয়। তবে দলীয় শত্রুতা ও বিদ্বেষ ছড়ানো বাক-স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত নয়।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি বলেন, ‘সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো বাস্তববাদী না হলে ফলপ্রসূ হবে না।’
অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ‘‘সংবিধানের ২৬ থেকে ৪৭ ধারায় মৌলিক অধিকারের কাঠামো নির্ধারিত আছে। কিন্তু বাস্তবতায় এই অধিকারগুলোর প্রয়োগ সীমিত হয়ে পড়ে ‘যুক্তিসংগত সীমাবদ্ধতা’র মাধ্যমে। ‘প্রটেকশন অফ লাইফ’-এ কোনো রকম নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত নয়।‘’
বাংলাদেশের সংসদে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে বিডিজবস ডট কম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফাহিম মাশরূর বলেন, ‘উচ্চকক্ষ এখনই বাস্তবায়নযোগ্য না হলেও ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’
আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম মহাসচিব নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ উচ্চকক্ষ নিয়ে এখনও প্রস্তুত নয়। নিম্নকক্ষে পিআরভিত্তিক ১০০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণ দরকার।’
সুমন/