ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ ক্রিকেটার নাসির-তামিমাকে খালাস দেওয়ার পেছনে বিচারকের পর্যবেক্ষণ জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা বাজেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ: ইসি পাবে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা বড় বাজেটের বোঝা কী জনগণের ঘাড়েই, প্রশ্ন বাসদের আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁপা’ বাজেটে বৈষম্য বাড়বে: সিপিবি জুনের শেষে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: ডেপুটি স্পিকার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টাইগারদের ওয়ানডে সিরিজ জয় যশোরে স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও নদী রক্ষায় ১০ হাজার কোটির বেশি টাকার মহাপরিকল্পনা আইসিটিতে লক্ষ্য জিডিপির ১০ শতাংশ, স্টার্টআপে বিশেষ গুরুত্ব ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা সমর্থক বিশ্বকাপ উন্মাদনা যেন দুর্ঘটনার কারণ না হয় মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের বাস্তবতা প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত যাদের পাশে বসলে দুঃখ কমে, শান্তি বাড়ে বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি খরচ বাড়লে বিপাকে পড়বে সাধারণ জনগণ পরিবহন খাতের বরাদ্দে বড় কাটছাঁট, কমল ৪ বিভাগেরই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাঁশি হাতে থাকছেন ব্রাজিলের উইল্টন সাম্পাইও টেকনাফ সীমান্তে র‌্যাবের অভিযানে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক নিউ ইয়র্কে বিশেষ সম্মাননা পেলে ও অঁরিকে নোয়াখালীতে মাদকসেবীদের হামলায় যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ১ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তি, অপসারণের নির্দেশ ডিসির ক্যানসার ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় কমছে মুক্তিযোদ্ধাসহ যাদের ভাতা বাড়বে বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে মাদরাসাশিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত
Nagad desktop

জুলাই মাসেই ‘জাতীয় সনদ’ তৈরি করতে চাই: আলী রীয়াজ

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৫, ০৬:২৩ পিএম
আপডেট: ২৬ মে ২০২৫, ০৮:৪৮ পিএম
জুলাই মাসেই ‘জাতীয় সনদ’ তৈরি করতে চাই: আলী রীয়াজ
সংসদ ভবনের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংবাদ সম্মেলনে ড. আলী রীয়াজ। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদ তৈরির ব্যাপারে আশাবাদী কমিশন। আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আর সেই আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সনদের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। সাংবিধানিক কিছু মৌলিক ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে এখনো ঐকমত্য না হলেও তত্ত্বাবধায়ক ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠাসহ অনেক বিষয়েই তারা একমত হতে পেরেছেন। মত ভিন্নতা থাকা মৌলিক ইস্যুগুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং সংস্কার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণে রাজনীতিবিদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। কারণ সংবিধান কীভাবে সংস্কার হবে, সংস্কারের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করার দায়িত্ব কমিশনের নয়, রাজনৈতিক দল ও সরকারের।

সোমবার (২৬ মে) সংসদ ভবন এলাকার এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম ধাপের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, বিচারপতি এমদাদুল হক, মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে ড. আলী রীয়াজ কমিশনের কার্য অগ্রগতি তুলে ধরেন। তাতে পুলিশ সংস্কার কমিশন ছাড়া বাকি ৫টি কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় কোন কোন বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে আর কোন কোন বিষয়ে তারা এখনো একমত হতে পারেননি তা তুলে ধরেন। জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের প্রথম পর্বের এই বৈঠকগুলো ছিল অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। গত ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে ২০২৫ পর্যন্ত সংস্কার ইস্যুগুলো নিয়ে মোট ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ৪৫টি অধিবেশন করেছে কমিশন। আলোচনার সুবিধার্থে কয়েকটি দলের সঙ্গে তারা একাধিক দিনও বৈঠক করেছেন।

প্রথম ধাপের আলোচনায় সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু মৌলিক ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এখনো ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি বলে জানান ড. আলী রীয়াজ। সেগুলো মধ্যে রয়েছে- বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণের কাঠামো, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন, একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কতবার নির্বাচিত হতে পারবেন, একজন সংসদ সদস্য কতগুলো পদে থাকতে পারবেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া কী হবে, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া কী হবে, এই ধরনের মৌলিক কাঠামোগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে হবে সেই প্রশ্নেও অনেকের রয়েছে ভিন্ন মত। তবে এসব বিষয়ে অনেক দলই আরও আলোচনায় বসার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

আলী রীয়াজ জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ অনেক বিষয়েই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো রকম দ্বিমত নেই। সংবিধান বিষয়ে ঐকমত্য বা আংশিক ঐকমত্য আছে-তার মধ্যে সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র’ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে ‘বহুত্ববাদ’ না রাখার ব্যাপারে বেশিরভাগ দল মতামত দিয়েছে। 

সংসদ ভবনের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম ধাপের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে ড. আলী রীয়াজ। ছবি: খবরের কাগজ

অন্য ৪টি মূলনীতির ব্যাপারে এক ধরনের ঐকমত্য আছে। তবে অনেক দল এর বাইরে আরও বিষয় যুক্ত করার কথা বলেছে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নির্ধারণে সংবিধানের ৪৮(ক) অনুচ্ছেদ সংশোধন, দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠনের ব্যাপারে অধিকাংশ দল নীতিগতভাবে একমত। কিছু দল এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বহাল রাখার পক্ষেও মত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে হবে, সেই প্রশ্নে রয়েছে ভিন্ন মত। 

এছাড়া প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা, ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধী দল থেকে দেওয়া, বিদ্যমান পাবলিক সার্ভিস কমিশন পুনর্গঠন করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট তিনটি পাবলিক সার্ভিস গঠন ও নিম্নকক্ষে নারীদের জন্য ১০০ আসন সংরক্ষণের প্রশ্নে এক ধরনের ঐক্যমত রয়েছে দলগুলোর। তবে সেটা পদ্ধতি কী হবে তা নিয়ে মতভিন্নতা রয়েছে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, অর্থাৎ সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেবার ক্ষেত্রে যে বিধান, তা পরিবর্তনের ব্যাপারে ঐকমত্য হলেও- কী কী বিষয়ে দলের পক্ষে ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে, তার একটি আংশিক তালিকার ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে। অর্থ বিল, আস্থা ভোট, সংবিধান সংশোধন বিলের ব্যাপারে দলীয় অনুশাসনের বাধ্যবাধকতার ব্যাপারে বেশিরভাগ দল একমত, এর অতিরিক্ত আরও কিছু যুক্ত করার, যেমন-রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিষয়ক বিল যুক্ত করার জন্যেও কিছু দলের প্রস্তাব আছে। এছাড়া আইনসভার গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতিত্ব পদ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের দেওয়ার ব্যাপারে প্রায় সবাই একমত। এছাড়া বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করার জন্য সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধন করার সুপারিশের বিষয়ে দলগুলো একমত পোষণ করেছে।

তিনি জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার প্রশ্নে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে দলগুলো। এর আইনি দিক বিবেচনার জন্যে অধিকাংশ দল গুরুত্ব দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কিংবা শপথ ভঙ্গ করলে মেয়াদ শেষে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করবে প্রস্তাবিত সংসদীয় কমিটি। এরপর সেই কমিটি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ পাঠাবেন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে। এ বিধানের বিষয়ে বেশিরভাগ দল নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। বর্তমান পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে পুনর্গঠন করে তিনটি পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন করার ব্যাপারে বেশিরভাগ দল নীতিগতভাবে একমত। দুদকের স্বাধীনতা, কার্যকারিতা ও গতিশীলতার পাশাপাশি এর স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার জন্য প্রস্তাবিত সব সুপারিশ সম্পর্কে প্রায় সব দলই সম্পূর্ণ একমত। জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যা ও নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত এবং ভোট জালিয়াতি ও দুর্নীতির সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন প্রশ্নে অধিকাংশ দল একমত পোষণ করেছে।

ড. আলী রীয়াজ আরও জানান, সংস্কারের ব্যাপারে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খুব শিগগিরই দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি চলছে কমিশনের। আলোচনায় এই পর্বে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি বা দলগুলোর অবস্থান কাছাকাছি সেসব বিষয় আলোচিত হবে। এছাড়া আলাদা করে নয়, রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বিষয় ভিত্তিক আলোচনা করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সকল বিষয়ে হয়তো ঐকমত্য হবে না, কিন্তু যেসব মৌলিক বিষয়ে এখনো মতভিন্নতা রয়েছে সেসব বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্যই দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা করবে কমিশন।

অন্তবর্তী সরকার ২০২৪ সালের অক্টোবরে ৬টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এই কমিশনগুলো গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন সরকারের কাছে পেশ করে। এসব প্রতিবেদনের সুপারিশের বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এই কমিশনের দায়িত্ব হলো রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ কতগুলো সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো এবং একটি ‘জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করা। তারা সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন এবং জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশের বিষয়ে ৩৮টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামত জানতে চায়- যাদের মধ্যে ৩৩টি মতামত জানায়।

এলিস/মাহফুজ

প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘কথার ফুলঝুরি ও রাজনৈতিক চমকবাজি’ বলে আখ্যায়িত করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট ঘোষণার পর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বিবৃতিতে জাসদ দাবি করে, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট এবং ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অর্জনযোগ্য নয়। দলের মতে, অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও রাজস্ব প্রশাসনের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বাস্তবসম্মত নয়।

জাসদ আরও বলে, বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হলেও তা পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিকে আরও ঋণনির্ভর করে তুলতে পারে। এতে ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ বাড়বে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দলটি মনে করে, ৬০টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব ইতিবাচক হলেও বাজারে সিন্ডিকেট ও সুশাসনের অভাব থাকলে এর সুফল ভোক্তারা নাও পেতে পারেন। একইভাবে মূল্যস্ফীতি ৯.৪২ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যকেও অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছে তারা।

বিবৃতিতে জাসদ সরকারের প্রতি বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ, আইনের শাসন ও সুশাসন নিশ্চিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। দলটির মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

 রাজু/এসএন

জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে সংসদ সচিবালয় কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সংসদের পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রায় ২৯১ কোটি টাকা) বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে পরিচালন (রাজস্ব) খাতে ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৭০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ সচিবালয় কমিশনের ৩৭তম বৈঠকে এ বাজেট প্রাক্কলন অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সংসদ নেতা তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই বরাদ্দ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেও এটি সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ নয়। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ ৩৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ছিল ৩২৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ কমে ২৩২ কোটি টাকায় নেমে আসে। সেই হিসাবে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেশি। সংসদ সচিবালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা, আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত সহায়তা এবং অবকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণে এ বরাদ্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও নতুন অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও এটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সর্বোচ্চ ৩৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকার রেকর্ড অতিক্রম করতে পারেনি। ফলে প্রস্তাবিত বাজেটটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এলিস/এসএন

বাজেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ: ইসি পাবে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
বাজেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ: ইসি পাবে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জন্য ৪ হাজার ৪০০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনকে সামনে রেখে ইসিকে এ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। মোট বরাদ্দের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা খাতে ৩ হাজার ৬৪৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৭৫৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। ইসির বাজেট নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইসির সংশোধিত বরাদ্দ ছিলো ৪ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা; যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। 

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন সরকারের কাছে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। মধ্যমেয়াদি বাজেট প্রাক্কলনে এ খাতে ২ হাজার ৮২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও অন্যান্য নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইসি প্রায় ৫ হাজার ৯২২ কোটি টাকা চেয়েছিল।

বাজেট নথি অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সংরক্ষণ, নির্বাচনি সীমানা নির্ধারণ, সব ধরনের নির্বাচন ও উপনির্বাচন পরিচালনা, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত ও বিতরণ, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, নির্বাচনি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন।

এবারের বাজেটে কমিশনের চারটি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো— সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ, নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার এবং প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সার্ভার, ডাটা সেন্টার ও নিজস্ব ভিপিএন নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ভোটার তথ্যভান্ডার হালনাগাদ, এনআইডি সেবা উন্নয়ন এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

এলিস/এসএন

বড় বাজেটের বোঝা কী জনগণের ঘাড়েই, প্রশ্ন বাসদের

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
বড় বাজেটের বোঝা কী জনগণের ঘাড়েই, প্রশ্ন বাসদের
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশের পর একে ‘গতানুগতিক ও অভিজ্ঞতাহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।

দলটি বলছে, বাজেটে আশার কথা থাকলেও, তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সেই পুরোনো পথেই সীমাবদ্ধ, যার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হবে সাধারণ জনগণকেই।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক বিবৃতিতে বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘বাজেটে কথার চমক থাকলেও আর্থিক সংস্থানের পরিকল্পনা সেই পুরোনো ধারায়। ধনীদের ওপর প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর পরিবর্তে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা চাপিয়েই বাজেটের টাকা জোগাড় করার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।’

বাসদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি ধরা হয়েছে। এটি মেটাতে বৈদেশিক ঋণ, ব্যাংক খাত এবং সঞ্চয়পত্র থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাজেটের সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ খাতে যা ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। দলটির মতে, এই বিপুল পরিমাণ ঋণের দায়ভার সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনগণের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখছে বাসদ।

বিগত অর্থ বছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়া, ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করতে না পারা, ব্যাংক খাতের অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন থাকা এবং বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারার মতো ব্যর্থতাগুলোর কোনো পর্যালোচনা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে নেই বলে অভিযোগ করেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
জ্বালানি খাতে দুর্নীতির চক্র না ভেঙে উল্টো গ্রাহকের কাঁধে বারবার দাম বাড়ানোর বোঝা চাপানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাসদ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘সরকারি তথ্যে মাথাপিছু আয় ও জিডিপি বৃদ্ধির যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের বাস্তব অবস্থার সাথে মিলছে না। শ্রমিক ও কৃষকদের আয় বাড়েনি, অথচ উন্নয়নের মিথ্যে ফানুস ওড়ানো হচ্ছে।’

তিনি বাজেট অধিবেশনে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ জনকল্যাণমূলক খাতগুলোর প্রতিটি বিষয় ধরে সুনির্দিষ্ট আলোচনার দাবি জানান। 

জয়ন্ত সাহা/এসএন

‘ফাঁপা’ বাজেটে বৈষম্য বাড়বে: সিপিবি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
‘ফাঁপা’ বাজেটে বৈষম্য বাড়বে: সিপিবি
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ ও ‘ফাঁপা’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটি বলছে, দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো আশাবাদ নেই; উল্টো এই বাজেট বৈষম্যকে আরও তীব্র করবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার পরপরই এক বিবৃতিতে দলটির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এই প্রতিক্রিয়া জানান।

সিপিবি নেতারা বলেন, প্রায় সাড়ে ৯ লাখ কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয় হবে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই; যার পরিমাণ ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। অথচ ঘাটতি মেটাতে সরকার নতুন করে আড়াই লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বাজেটের এই অসারতাই প্রমাণ করে যে, এটি কেবল উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংখ্যার খেলা, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজেটে কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। সরকার বড় অঙ্কের বাজেট দেখিয়ে অর্থনীতির বাস্তব দুরবস্থা ও মানুষের কষ্ট থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে বাজেটের আকার জিডিপির ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ থাকলেও এবার তা কমে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ, বাজেট বড় দেখালেও রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা আসলে বাড়েনি, বরং হ্রাস পেয়েছে।

সিপিবি নেতাদের অভিযোগ, আইএমএফ-এর শর্তে বন্দি সরকার করের জাল এমনভাবে বিস্তৃত করছে, যাতে কৃষক, শ্রমিক, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত এবং ছোট ব্যবসায়ীরা নিষ্পেষিত হবে। অন্যদিকে, বড় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দের সমালোচনা না করলেও সরকারের বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর সংশয় প্রকাশ করেছে দলটি। 

জয়ন্ত সাহা/এসএন