টানা ভারী বৃষ্টির ফলে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এই জলাবদ্ধতা থেকে বিভিন্ন সড়কে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। অনেক সড়কে ম্যানহোলের ঢাকনা ভেঙে নিচের দিকে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় সড়কের ওপর ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
শুক্রবার (৩০ মে) রাজধানীর কুড়িল, তেজগাঁও, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, কমলাপুর, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে। এ ছাড়া পূর্ব কাঁঠালবাগান, রামপুরার জামতলা, জাকির গলি, শ্যামপুরের কিছু অংশে রাস্তায় পানি জমে ছিল।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাঁঠালবাগান বাজারের পেছনের গলি ও ক্রিসেন্ট রোডে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। শুধু তা-ই নয়, ওই গলির দুই পাশের ঘরবাড়িতে রাস্তার পানি ঢুকে যায়। অনেক বাড়িতে কেউ মোটর চালিয়ে, কাউকে বালতিসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করতে দেখা যায়। শ্যামপুরের বিভিন্ন সড়কেও পানি জমে ছিল। স্থানীয়রা জানান, শ্যামপুরের মুন্সি বাড়ির সড়ক অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়। গত দুই দিনের বৃষ্টির ফলে শ্যামপুরের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের দারোগাবাড়ি, জুরাইন কমিশনার রোড, চেয়ারম্যান বাড়ি, কলেজ রোডের শেষ মাথা, নবারুল স্কুল গলি, মিষ্টির দোকানসহ বিভিন্ন রাস্তায় পানি জমে থাকে। বিভিন্ন আবর্জনা ও পলিথিনের জন্য ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সড়কে জমে রয়েছে পানি।
জামতলা এলাকায় মায়ের দোয়া নামে একটি গ্যারেজে পানি ঢুকেছে। সেই পানি সরাচ্ছিলেন গ্যারেজের কর্মচারী শাকিল। তিনি বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই এই এলাকায় পানি জমে যায়। গত বৃহস্পতিবার প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় দোকানের ভেতর পানি ঢুকে যায়। হাঁটুপানি জমেছে এখানে। কিন্তু পানি নামতে পারেনি। তবে শুক্রবার বৃষ্টি কিছুটা কম হওয়ায় জমে থাকা পানি নামতে শুরু করে। কিছু পানি জমে আছে, সেগুলো এখন বালতি দিয়ে পরিষ্কার করতে হচ্ছে।’
এদিকে দুই দিনের বৃষ্টির ফলে যাত্রবাড়ী, মালিবাগ, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আজিমপুর, নীলক্ষেত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হতে দেখা গেছে। কলাবাগানের বসির উদ্দিন মসজিদের সামনের সড়কে বড় একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা ওই গর্ত বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখেন। মোহাম্মদপুরে বাবর রোড, বাসস্ট্যান্ড, তাজমহল রোড, নূরজাহান রোডে সদ্য মেরামত হওয়া সড়কে বড় বড় গর্ত লক্ষ করা গেছে।
আদাবর থানার সামনের সড়কে বিদ্যুতের কাজ চলছিল। সড়কের বিভিন স্থানে খোঁড়া থাকায় সহজেই পানি জমে যায়। দুই দিনের বৃষ্টির ফলে ওই সড়কে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কারওয়ান বাজারেও। বৃষ্টি কমলেও সড়কে ময়লা-আবর্জনা ও কাদা-পানি উপেক্ষা করেই দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন শ্রমিকরা। দোকানিরা জানান, বৃষ্টি আর সড়কের নানা অসুবিধায় আড়তে সরবরাহ কমার পাশাপাশি কমেছে পাইকারি ক্রেতার সংখ্যাও। গতকালও কারওয়ান বাজারের সড়ক কাদা-পানিতে একাকার দেখা গেছে। ব্যবসায়ী খলিল মিয়া জানান, টানা বৃষ্টির কারণে এমনিতেই কাঁচা পণ্যের ক্ষতি হয়েছে। এখন বৃষ্টি থামলেও রাস্তায় কাদা-পানি জমে আছে। ফলে চাইলেও মাল নামানো যাচ্ছে না। নামালে ময়লা পানি লেগে যাচ্ছে।
এদিকে শুক্রবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে জানানো হয়েছে, জরুরি সাড়াদানকারী দলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অর্ধশত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ধানমন্ডি ২৭, আশকোনা, বনশ্রী, বেগুনটিলা, পশ্চিম কাজীপাড়া, কাঁঠালবাগান, মগবাজার ডাক্তার গলি, যমুনা ফিউচার পার্ক, প্যারিস রোড, কাজীপাড়া মেট্রো স্টেশন, কাওলা, খিলক্ষেত বটতলা, কাজীপাড়া বসুন্ধরা লেন, আগারগাঁও ৬০ ফিট, ভাঙ্গা ব্রিজ, মিরপুর-১৪, পশ্চিম শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল পিলার নম্বর ৩৬০, রূপনগর রোড নম্বর ৩৩ হতে ৩৯, ইব্রাহিমপুর বাজার, উত্তরা সেক্টর-৩ রোড নম্বর ১৮, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এবং পল্লবী বেগুনটিলা এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন করা হয়েছে।
এ ছাড়া আজমপুর রেলগেট হয়ে শাহ কবির মাজার রোড ও কসাইবাড়ি রেলগেট হয়ে কাঁচকুড়া পর্যন্ত প্রধান সড়কের ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়নকাজ সমাপ্ত হওয়ায় এসব এলাকায় কোনো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়নি বলে কুইক রেসপন্স টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নগরের ভাওয়ালবাগ এলাকা, তেজকুনিপাড়া, শামীম সাহেবের বাড়ির রাস্তা, কাওলা এবং বিটিআই গলিতে জমে থাকা পানি রাতের মধ্যেই অপসারণ করা হয়েছে বলে টিম জানিয়েছে।
মিরপুর সেকশন-১০ গোলচত্বর, কালশী রোড, মিরপুর সেকশন-১, রূপনগরের পানি অপসারণ করা হয়েছে। এসব এলাকায় বর্তমানে কোনো জলাবদ্ধতা নেই। বেগুনটিলা ও প্যারিস রোডের জলাবদ্ধতা নিরসন হচ্ছে। ডিএনসিসির অধীনে ১০টি অঞ্চলে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ২০০ জন কর্মী কাজ করছেন। ঢাকার জলাবদ্ধতার হটস্পট চিহ্নিত করে দ্রুততার সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কোনো এলাকায় জলবদ্ধতা দেখা দিলে ডিএনসিসির হট লাইন নম্বর ১৬১০৬ অথবা কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বরে (০১৭৩৩৯৮২৪৮৬) ফোন করে তথ্য দেওয়ার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।