সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন ও চিকিৎসা দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রিমান্ডে নিয়ে চারদিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রবিবার (২৯ জুন) তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে বেলা সোয়া ৩টার দিকে তাকে এজলাসের কাঠগড়ায় তোলা হয়। শুনানির আগে হেলমেট, জ্যাকেট ও হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শন সৈয়দ সাজেদুর রহমান তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
এ সময় পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন না থাকায় জামিন চান তার আইনজীবী শফিউল আলম।
শুনানিতে তিনি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। তিনি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করেননি। জামিন দিলে তিনি পালাবেন না। যেকোনো শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করছি। জামিন দিলে জনগণ জানবে দেশে ন্যায়বিচার আছে।
রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, সাবেক সিইসি জাতিকে মধুর বাণী শুনাতেন। সবার আশা ছিল, সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করবেন। কিন্তু তা করেননি ।সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ছিলেন। তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। নিজেই স্বীকার করেছেন একতরফাভাবে ডামি ও প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে। হাসিনার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে দেশের জনগণের সাথে প্রতারণা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে আসতে কোনো প্রক্রিয়া গ্রহণ করেননি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে থেকে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। রাষ্ট্র প্রক্রিয়ায় কোনো কাজ করেননি। তাদের গ্রেপ্তার করায় জাতি আজ খুশি। কেন জানেন? তারা গ্রেপ্তার, শাস্তির আওতায় আসলে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, স্বাভাবিক হবে। জামিন পেলে আবার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি.এম. ফারহান ইশতিয়াক জামিন আবেদন নাকচ করেন।
এ সময় সাবেক এ সিইসিকে প্রথম শ্রেণির বন্দি হিসেবে কারা অভ্যন্তরে ডিভিশন ও চিকিৎসা দেওয়ার আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন বিচারক।
এর আগে গত ২৬ জুন তাকে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। আগের দিন ২৫ জুন রাজধানীর মগবাজার থেকে গ্রেপ্তার হন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব ‘পালন না করে’ উল্টো ‘ভয়-ভীতি দেখিয়ে’ জনগণের ভোট ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন করার অভিযোগে গত ২২ জুন মামলা করে বিএনপি। পরবর্তীতে গত ২৫ জুনে মামলায় নতুন করে রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ধারা যুক্ত করা হয়। মামলায় ২০১৪ সালের নির্বাচনের তৎকালীন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, ২০১৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি এ কে এম নূরুল হুদা ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের তৎকালীন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ কে এম শহীদুল হক, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজির আহমেদ ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ ২৪ জন এ মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
প্রসঙ্গত, এ মামলায় গ্রেপ্তার আরেক সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা রিমান্ডে আছেন। গত ২৭ জুন তাকে দ্বিতীয় দফায় চারদিন রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। গত ২২ জুন রাজধানীর উত্তরার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
এম এ জলিল উজ্জ্বল/সুমন/