রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের ১০ম দিনের বৈঠকে বসেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
সোমবার (৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হওয়া এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আজকের বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা।
তিন দিন বিরতির পর কমিশনের আজকের বৈঠকের আলোচ্য বিষয়- উপজেলা পর্যায়ে অধস্তন আদালত সম্প্রসারণ, জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে জরুরি অবস্থা ঘোষণাসহ রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন, বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ, নির্বাচনি এলাকা নির্ধারণ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া সংস্কার প্রস্তাবের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হচ্ছে এই বৈঠকে।
আলোচনার শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, ‘কমিশনের লক্ষ্য সংশোধিত সব ইস্যুতে সবার বক্তব্য ধারণ করে ঐকমত্যে পৌঁছানো। কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে দলগুলোর আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে কাজ করতে। সব বিষয়ে একমত না হলেও তারা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’
এ ছাড়া আগামীতেও দলগুলোকে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সংস্কার নিয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আলী রীয়াজ বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কোনো কিছু চাপিয়ে দিচ্ছে না। কমিশনের দিক থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সংস্কার প্রস্তাবগুলো সংশোধিত আকারে আলোচনার জন্য উপস্থাপন করার। ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করাই কমিশনের লক্ষ্য।’
এর আগে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ের ৯টি বৈঠক করেছে কমিশন। এবারের বৈঠকে আগের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিনিময় করেছে কমিশন।
এর আগের বৈঠকগুলোতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুন:প্রতিষ্ঠাসহ অন্তত ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। আজকের বৈঠকটি চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
এলিস/সুমন/