সংবাদমাধ্যমের সংকট সব সময়ই আছে। এই সংকট উত্তরণের একমাত্র উপায় সঠিক গণতান্ত্রিক চর্চা উল্লেখ করে দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল বলেন, কোনো সরকারের আমলেই দেশে পুরোপুরি গণতন্ত্রের চর্চা হয়নি। এ কারণে সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা যথাযথ হলে সংবাদমাধ্যমও মুক্তভাবে তথ্য প্রকাশ করতে পারবে। গণতন্ত্র এলেই সঠিক সাংবাদিকতার চর্চা হবে এবং সাংবাদিকরা তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ক্যাফেটেরিয়ায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মাসিক আড্ডার সুধী সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এই আড্ডার মধ্যমণি ছিলেন তিনি। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ‘সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার নানা প্রসঙ্গ’।
করোনার সময় সংবাদপত্র সবচেয়ে বড় ক্রাইসিসে পড়েছিল বলেও মন্তব্য করেন মোস্তফা কামাল।
খবরের কাগজের সম্পাদক বলেন, ‘সাতচল্লিশের দেশভাগ থেকে স্বাধীনতা পর্যন্ত- এই সময় নিয়ে আমি ট্রিলজি লিখেছিলাম; মানে উপন্যাস। ওই সময়ের সাংবাদিকতা এবং পরবর্তী সময়ের সাংবাদিকতা আমার খুব ভালো করে স্টাডি করা আছে।
মুক্তিযুদ্ধকালের সাংবাদিকতা, তাও আমার ভালোভাবে পড়া আছে। এখনকার যে সাংবাদিতা- আমি বিএনপি আমল, আওয়ামী লীগের আমল, আবার বিএনপির আমল, আবার আওয়ামী লীগের আমল; এ সময়গুলো দেখেছি। এই সময়ে সাংবাদিকতা সবচেয়ে বড় ক্রাইসিসে পড়েছিল করোনার সময়। কারণ ওই সময় পত্রিকা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম আমরা। এরকম একটা বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে, পত্রিকা করোনা ছড়ায়। তখন একটা সময় গিয়ে মানুষ পত্রিকা রাখাই বন্ধ করে দিল। বিজ্ঞাপন নেই। ব্যাপকহারে ছাঁটাই হলো। করোনার পর এখন সংবাদপত্র অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। পাঠক বেড়েছে।
সংকটের সময় ছাঁটাই না করে কর্মীদের নিয়ে সেই সংকট মোকাবিলা করা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঝড়ের সময় আপনি তো তাকে ফেলে দিতে পারেন না। তুফান এলে আপনি কি আপনার বাহন থেকে তাকে ফেলে দিবেন? তখন অনেক সাংবাদিক বেকার হয়েছেন। এ কারণে ঘরে ঘরে অনলাইন পোর্টালের জন্ম হয়েছে। আর সেই পোর্টালগুলোর ভুয়া সংবাদের ছড়াছড়িতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছেন। যারা বেকার হয়েছেন তারাও পোর্টাল করেছেন, অন্যরাও করেছেন।
করোনাকালে একেবারেই সাংবাদিকতা ধসে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবাদপত্র ধসে গেছে। টেলিভিশনগুলো বিজ্ঞাপন পেয়ে কোনোভাবে টিকে ছিল। এই সময় সংবাদপত্রগুলো সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। করোনা যাওয়ার পর আবার কিছু নতুন পত্রিকা হয়েছে। বেকার সাংবাদিকরা আবার অনেকে চাকরি পেয়েছেন। এখনো বেকার আছেন অনেকে। কিন্তু সেই সাংবাদিকতা যখন আবার ঘুরে দাঁড়াবে তখনই ক্রাইসিসে পড়ল।
এখন মব হচ্ছে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা আপনি কি করে করবেন? মবের ভয়সহ নানা ভয় আছে। আপসকামিতার সাংবাদিকতা হচ্ছে এখন। নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে সাংবাদিকতা আপস করে চলেছে। টিকে থাকার লড়াই করছে।
অনুষ্ঠানে মোস্তফা কামাল সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন। আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক ডা. বিশ্বাস করবী ফারহানা, লেখক ইফতেখারুল ইসলাম, প্রকাশক ফরিদ আহমেদ, সাহিত্যকর্মী কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, লেখক রেহানা সুলতানা, বিক্রয়কর্মী মোনায়েম বিশ্বাস, স্থপতি তুগলক আজাদ, লেখক ও উন্নয়নকর্মী নিশাত সুলতানা, লেখক দীপু মাহমুদ, ব্যবসায়ী সৈয়দ জাফর, লেখক আকতারী বেগম, লেখক ও সম্পাদক মিনা মাহমুদ, কবি ও শিক্ষক কামরুল হাসান, কবি ও শিক্ষক মাসুদুজ্জামান, মেধা রোশনান সারওয়ার প্রমুখ।