রাষ্ট্রের মূলনীতি, সংসদের উচ্চকক্ষের গঠনসহ সংস্কারের অমীমাংসিত বেশকিছু মৌলিক ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ২২তম বৈঠকে বসেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
বুধবার (৩০ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে দ্বিতীয় দফায় কমিশনের ২২তম দিনের বৈঠকটি শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ।
বৈঠকে আজকের আজকের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্রের মূলনীতি, সংসদের উচ্চকক্ষের গঠন ও সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব; সরকারি কর্ম কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং ন্যায়পাল নিয়োগের বিধান সম্পর্কিত; রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব [অনুচ্ছেদ ৪৮(৩)]; রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতি) এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ সম্পর্কিত প্রস্তাবসহ তাৎক্ষণিক নানা ইস্যু।
এসব বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অংশ নিচ্ছে আমন্ত্রিত ২৮টি রাজনৈতিক দল ও ২টি জোটের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ।
এর আগে গত সোমবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত ৪ পৃষ্ঠার জুলাই জাতীয় খসড়া সনদের কপি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়েছে কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আলোচনার পর কমিশনের অগ্রাধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় মোট ২০টি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার ফলশ্রুতিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ রচিত হয়। এই খসড়ায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দলগুলোর মোট ৭টি অঙ্গীকারনামা তুলে ধরা হয়েছে।
সনদের বিষয়ে ড. আলী রীয়াজ জানান, 'দীর্ঘ পরামর্শ ও আলোচনার ভিত্তিতে রাজনৈতিক ঐকমত্যের আলোকে এই সনদ তৈরি হয়েছে। এবার দলগুলো আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে জুলাই সনদে সই করবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে মতামত দিতে বলা হয়েছে। তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই জুলাই সনদ চূড়ান্ত করার ব্যাপারে কমিশন আশাবাদী।'
এদিকে চলতি দফায় কমিশন এ পর্যন্ত মোট ১২টি বিষয়ে দলগুলো একমত হতে পেরেছে। এ ছাড়া আরও কিছু মৌলিক ইস্যুতে তারা কাছাকাছি অবস্থানে আছে। এখনো ৬টি মৌলিক ইস্যু অমীমাংসিত। সেসব ইস্যুতে পুনঃ:আলোচনার মাধ্যমে ঐক্য গড়ার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া অনালোচিত রয়েছে আরও কয়েকটি ইস্যু।
এর আগে আলোচনায় সংবিধানের বিদ্যমান ৪ মূলনীতি পরিবর্তন কিছুতেই মানা হবে না বলে জানিয়ে দেন সিপিবি, গণফোরামসহ বাম দলগুলোর নেতারা। তবে বিদ্যমান ৪ মূলনীতি ঠিক রেখে কমিশন নতুন বিষয় সংযোজন করতে চাইলে তারা আপত্তি করবেন না। একই সঙ্গে এসব ক্ষেত্রে নোট অব ডিসেন্টও তারা মানবেন না।
বামজোটের নেতাদের অভিযোগ, সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তনে তাদের মতকে আমলে না নিয়ে শব্দের মারপ্যাঁচে ঐকমত্য কমিশন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চাইছে। আর সেটা বাস্তবায়ন হলে তারা কমিশনের বৈঠক বর্জনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এবারের বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আগে আংশিক ঐকমত্য হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাসহ অমীমাংসিত মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বার বার বৈঠকে উত্থাপন করছে।
এলিস/মেহেদী/