মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দগ্ধ ৩২ জন বর্তমানে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের ১৪ জনের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দিন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার তিনজন ইনটেনটিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ছিল। একজনের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) দেওয়া হয়েছে। এখন দুইজন আইসিইউতে আছেন। আর যে রোগীকে আমরা লাইফ সাপোর্টে রেখেছিলাম, তারও অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখন লাইফ সাপোর্ট লাগছে না। স্বাভাবিক রুম এয়ারে আছেন তিনি। এটা আমাদের জন্য একটা ভালো খবর। উন্নতি হচ্ছে।
তিনি জানান, ঘটনার পর এই হাসপাতালে ৫৬ জনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়। একজনকে শেরে-ই-বাংলা নগরে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। গতকাল ৩৩ জন ছিল। বুধবার সকালে একজনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখন ৩২ জন ভর্তি আছেন। যাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, তিনি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা। এ নিয়ে ৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হলো।
তিনি জানান, চিকিৎসাধীন ৩২ জনের মধ্যে ২৭ জন শিশু, ৫ জন প্রাপ্ত বয়স্ক। শিশুদের মধ্যে ১৮ জন মেয়ে এবং ৯ জন ছেলে। প্রাপ্ত বয়স্ক ৫ জনের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও তিনজন নারী। ঘটনার পর থেকে ভর্তি রোগীদের জন্য ১৫৮ বার অপারেশন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরিচালক জানান, চিকিৎসাধীন ৩২ জনের মধ্যে তিনজন ক্রিটিক্যাল এবং সাতজন সিভিয়ার কন্ডিশনে আছে। বলা যায় এই ১০ জনের সবাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। এখনই তাদের শঙ্কামুক্ত বলা যাবে না।
ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে বিদেশ থেকে আসা চিকিৎসকদের সঙ্গে সকালে বৈঠক হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, নিয়মিত সকালে আলোচনা করা হচ্ছে। রোগী যতদিন থাকবে, আমার প্রতিদিন সকালে আলোচনায় বসবো। তারপর উনারা চলে গেলেও আমার এই পদ্ধতিতে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেব।
আরিফ সাওন/