সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে হত্যা করা হয় তাকে। মর্মান্তিক ওই ঘটনার পাঁচ বছর অতিবাহিত হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার।
ওই ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত। অধস্তন আদালতের দেওয়া ওই রায় বহাল রেখেছেন উচ্চ আদালত। রায়ে বিচারিক আদালতে অপর ছয় আসামিকে দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রেখেছেন উচ্চ আদালত।
বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় বহাল রেখে বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২ জুন ওই রায় দেন।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত।
বিচারিক আদালতের রায়ের পর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে এ রায় দেন উচ্চ আদালত।
হাইকোর্টে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মো. জসিম সরকার। খবরের কাগজকে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের দেওয়া রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি। রায় প্রকাশ হলে আপিল করার কথা আসবে। যদিও এই মামলায় আপিল করলে আসামিপক্ষ করবে। আমরা করব না। কারণ আমরা তো বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় বহাল চেয়েছি। হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে তা বহাল রেখেছেন। তবে আমরা আপিল বিভাগে নোট দিয়ে রেখেছি, যেন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে শুনানির আগে তা রাষ্ট্রপক্ষকে অবহিত করে।’
হাইকোর্টে প্রদীপের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। হাইকোর্টের রায়ের পর তিনি বলেছিলেন, ‘রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি গ্রহণের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ আছে। উনি (প্রদীপ) চাইলে আপিল করতে পারেন।’
আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর এর আগে গত ২৯ মে শুনানি হয়েছিল। তখন রায় ঘোষণার জন্য ২ জুন দিন ধার্য রেখে আদেশ দেন আদালত। এর ধারাবাহিকতায় ওই দিন রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।
রায়ে যাবজ্জীবন বহাল থাকা ছয় আসামি হলেন সাবেক এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাগর দেব, কক্সবাজারের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া গ্রামের মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও মো. নিজাম উদ্দিন।
উল্লেখ্য, ওই ঘটনায় করা মামলায় ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রদীপ ও লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। বিচারিক আদালতের রায়ের পর রায়সহ নথিপত্র ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। পরে তা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এ ছাড়া দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।
চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি শুরু হয়ে গত ২৯ মে সম্পন্ন হয়। শুনানি শেষে আদালত ২ জুন রায়ের জন্য দিন ধার্য রাখেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডিএজি মো. জসিম সরকার, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল লাবণী আক্তার ও সুমাইয়া বিনতে আজিজ। আসামিপক্ষে ছিলেন দুই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও এস এম শাহজাহান।