বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত না হলে তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলনের সদস্যরা।
শুক্রবার (১ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তারা এ আশঙ্কার কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংগঠক ও মুখপাত্র সুস্মিতা কর, কেন্দ্রীয় সংগঠক সুব্রত বল্লভ, দুই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) তরুণ রায়, সুমন ত্রিপুরা (নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়)।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তরুণ রায়।
তিনি বলেন, ‘চব্বিশের জুলাইয়ের আগে বা পরে, রাজনৈতিক দলগুলো ৮ শতাংশ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাইছে। অথচ তাদের অধিকার নিয়ে সচেষ্ট হতে দেখা যাচ্ছে না কোনো রাজনৈতিক দলকে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতে ভবিষ্যতে নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্র বয়কটের সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে।’
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায় ঐক্য প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তরুণ রায় বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধি নেই। তাদের বাদ দিয়ে কীভাবে ঐক্য গঠন হয়? কোনো রাজনৈতিক দলকেও প্রশ্ন করতে দেখা গেল না।’
সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলনের নেতারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুজন প্রতিনিধি থাকলেও তারা কখনো এসব জাতিগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কথা বলেন না।’
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নানা সংগঠন ৮ দফা দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে ছিল- সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ণ, আনুপাতিক হারে সরকার ও সংসদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা, দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ আইন প্রণয়ণ। এক বছর কেটে গেলেও সরকার সেসব দাবি পূরণে কোনো আভাস দেয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেন সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলনের প্রতিনিধিরা।
সেই আট দফা দাবিতে ফের সোচ্চার হতে আগামী ২২ আগস্ট ঢাকায় জাতীয় সংখ্যালঘু সম্মেলন আয়োজনের ঘোষণা আসে সংবাদ সম্মেলন থেকে।
জয়ন্ত/রিফাত/