ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রথম ম্যাচে যে রেকর্ড ডাকছে মেসিকে কুরাসাওয়ের কোচের বিশ্বরেকর্ড প্রত্যাবর্তন জয়ে রাঙাতে চায় সুইডেন গোলশূন্য থেকে বিরতিতে জাপান-নেদারল্যান্ডস কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফেরাল জার্মানি কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল জার্মানির খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান প্রথমার্ধে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও, ৩ গোল দিল জার্মানি মমতার দলে সংকট আরও গভীর, বিদ্রোহী এমপি বেড়ে ২২ জোটার স্মরণে বিশ্বকাপে বিশেষ উদ্যোগ নিল পর্তুগাল হোম অব ক্রিকেটে লিটনের অন্য রকম প্রথম ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামে চাঁদপুরের তিন প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যা, নেপথ্যে অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ বেরোবির রাজস্ব বাজেট ৮২ কোটি ৮১ লাখ টাকা ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন আজ ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টে গ্রেপ্তারের কথা শুনে চোখ খুলছেন না শিবির নেতা জিসান ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: শফিকুর রহমান গাংনীতে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১৭ পাবনায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ফটিকছড়িতে বায়তুল ক্বোবা তৈয়্যবিয়া জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি হস্তান্তর শ্রমিক অবরোধে আড়াই ঘণ্টা স্থবির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্দরে বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আইএইচএফ ট্রফিতে দুই বিভাগে রূপা জিতল বাংলাদেশ আলু সংরক্ষণাগারে কেজিপ্রতি ৫ টাকা ভাড়ার দাবি, ৭ দিনের আল্টিমেটাম বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫.৬৩ বিলিয়ন ডলার ইরান-মার্কিন চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে রবিবার, খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালী সোনারগাঁয় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ আতঙ্কে ঘর ছাড়া, নিরাপত্তার আশ্বাস পুলিশের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনে অভিযান ইতিহাসের দুয়ারে গিয়ে থামল বাংলাদেশ, রক্ষা পেল অজিরা
Nagad desktop

জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:১৪ পিএম
আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:২১ পিএম
জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধান উপদেষ্টা

আমরা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি, যাতে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং ক্ষমতার প্রকৃত মালিক- জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বুধবার (১৩ আগস্ট) কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় (ইউকেএম) থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করে তিনি তার বক্তব্যে এ কথা বলেন। 

কুয়ালালামপুরে ইউকেএম বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে এক আনন্দমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও নেগেরি সেমবিলান দারুল খুসুস রাজ্যের সুলতান তুংকু মুহরিজ ইবনি আলমারহুম তুংকু মুনাওয়িরর কাছ থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রির সনদ গ্রহণ করেন অধ্যাপক ইউনূস।
সামাজিক ব্যবসা প্রসারে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এ স্বীকৃতি আমাকে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণে আমার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। গত বছর বাংলাদেশের বহু তরুণ সাহসিকতার সঙ্গে একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। শত শত ছাত্র-যুবক একটি উন্নত ভবিষ্যতের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে- যেখানে প্রত্যেকে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারবে এবং ভয়, বৈষম্য ও অবিচার থেকে মুক্ত থাকবে।’

নতুন বাংলাদেশ গড়তে তার সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় পরিচয় ও ভবিষ্যত আশার নতুন অর্থ তৈরি করেছে। আজ আমরা এক নতুন বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছি-যেখানে শাসনব্যবস্থা হবে ন্যায়সঙ্গত, অর্থনীতি হবে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রত্যেকে সফল হওয়ার জন্য সমান সুযোগ পাবে। আমাদের সরকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগী রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সুস্পষ্ট লক্ষ্য বিস্তৃত পরিকল্পনা এবং এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়। একটি শক্তিশালী ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে আমাদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে উদ্যোক্তাদের সহায়তা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমরা আগামী দিনের নির্মাতা। তোমাদের ভাবনা, সৃজনশীলতা এবং দায়িত্ববোধই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে- শুধু মালয়েশিয়ার নয়, সমগ্র বিশ্বের। স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে গিয়ে সবসময় মনে রেখো, প্রকৃত সাফল্য শুধু নিজের জন্য অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং কিভাবে তুমি অন্যদেরও তোমার সঙ্গে উন্নতির পথে নিয়ে যাচ্ছো, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যে সেরা উত্তরাধিকার রেখে যেতে পারি তা হলো এমন এক পৃথিবী- যেখানে কাউকে পেছনে ফেলে রাখা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘তোমাদের সিদ্ধান্ত, কাজ এবং মূল্যবোধই নির্ধারণ করবে আমরা কোথায় যাব। তাই আমি তোমাদের অনুরোধ করছি, বড় স্বপ্ন দেখো, সাহসীভাবে চিন্তা করো, এবং সেই অনুযায়ী কাজ করো। ভয় পেও না, প্রত্যেক ব্যর্থতাই সাফল্যের পথে একটি ধাপ মাত্র।’

প্রফেসর ইউনূস বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের ক্ষমতা রয়েছে অসাধারণ কিছু করার, মানুষের সেবায় ব্যবসা গড়ে তোলার, জীবন বদলে দেওয়ার মতো নতুন ধারণা সৃষ্টির, অথবা এমন নীতি প্রণয়নের যা গোটা একটি সম্প্রদায়কে উন্নতির পথে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘আজকের অন্যতম বড় বিপদ হলো- সম্পদ ক্রমশ কয়েকজন মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। এর ফলে বৈষম্য ও অবিচার সৃষ্টি হয়। আমাদের যা দরকার, তা হলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি- যেখানে সম্পদ ন্যায্যভাবে ভাগ হবে এবং প্রত্যেক মানুষ মর্যাদা ও উদ্দেশ্য নিয়ে বাঁচার সুযোগ পাবে।’

নিজের কর্মময় জীবনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নোবেলজয়ী প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘আমার পথচলায়- অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করা থেকে শুরু করে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালু করা থেকে সামাজিক ব্যবসার প্রচার- একটি বিশ্বাস সবসময় আমাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে, মানুষ প্রতিভা বা স্বপ্নের অভাবে দরিদ্র নয়, তারা দরিদ্র কারণ ব্যবস্থা তাদের ন্যায্য সুযোগ দেয়নি। আমাদের আর্থিক ব্যবস্থা ধনীদের সেবা করার জন্য গড়ে উঠেছে, গরিবদের জন্য নয়। এই সহজ সত্যই আমাকে ভিন্ন কিছু চেষ্টা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমি এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছি, যেখানে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষও ক্ষুদ্রঋণ পেতে পারে, ব্যবসা শুরু করতে পারে এবং নিজের জীবন বদলে দিতে পারে।’

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দুই দেশ সবসময়ই দৃঢ় সম্পর্ক ভাগাভাগি করেছে- যা গড়ে উঠেছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং উন্নতির যৌথ স্বপ্নের ওপর।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া অনেক পথ একসঙ্গে হেঁটেছে। আমরা পরস্পরের প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির পথে সহযোগিতা করেছি। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে মালয়েশিয়া আমাদের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পাশে থেকেছে। বছরের পর বছর ধরে আমাদের অংশীদারিত্ব বাণিজ্য, শিক্ষা, উদ্ভাবন ও জনগণের মধ্যে সম্পর্কসহ বিস্তৃত হয়েছে নানা ক্ষেত্রে। এটি প্রমাণ করে আমরা যখন একটি যৌথ উদ্দেশ্যে একসঙ্গে কাজ করি, তখন কত কিছু অর্জন করা সম্ভব।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, 'বাংলাদেশ এখন এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে, আমরা মালয়েশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করতে চাই। সম্ভাবনাময় অনেক ক্ষেত্র রয়েছে- যেমন সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন। একসঙ্গে আমরা এমন এক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি যা হবে সমৃদ্ধ, উদ্ভাবনী, স্থিতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।’

সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করায় মালয়েশিয়া ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এটি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করছি এবং আমাদের দুই মহান জাতির মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করার জন্য নতুন করে অঙ্গীকার করছি। আমি পারস্পরিক শিক্ষা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করি, যাতে আমরা একসঙ্গে এমন এক বিশ্ব গড়তে পারি যেখানে প্রত্যেক মানুষ, তার পটভূমি যাই হোক না কেন, নিজের সামর্থ্য বিকশিত করার সুযোগ পাবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আব্দ কাদির ও ইউকেএম ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. সুফিয়ান জুসোহ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস

মেহেদী/

খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:০৭ এএম
খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান
ছবি: সংগৃহীত

তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা বিকাশে আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

 রবিবার (১৪ জুন) রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে অবহেলা ও অযত্নে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মনোবল ভাঙতে পারেনি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। একটি উদ্ভাবনী প্রকল্পের পেছনে থাকে দীর্ঘ সময়ের গবেষণা, চিন্তা ও সৃজনশীল প্রচেষ্টা। শিক্ষার্থীদের সেই শ্রম ও মেধার প্রতিফলনই প্রদর্শিত হয়েছে এ আয়োজনের প্রতিটি প্রকল্পে।

তিনি আরও বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সৃজনশীলতা দেশের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে। কেবল পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিক্ষাকে আনন্দময়, সৃজনশীল ও জীবনঘনিষ্ঠ করতে হবে। এর মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম মানবিক, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

প্রতিযোগিতায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রথম, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ দ্বিতীয় এবং হলিক্রস উচ্চবিদ্যালয় তৃতীয় স্থান অর্জন করে। প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষকসহ মোট পাঁচজন সদস্য ছিল। জেলা পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় মোট ১৮৫ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজনটি করে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

এসএন/

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:২০ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের লোগো।

আমানতকারীদের স্বার্থ, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশে ব্যাংক থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় ও ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

মৃত্তিকা সাহা/নাঈম

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনে অভিযান

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনে অভিযান
অভিযানের ফলে কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনের গ্রাউন্ড লেভেল এখন দখলমুক্ত হয়েছে এবং যাত্রীদের হাঁটার জন্য ফুটপাত পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

মেট্রোরেলের যাত্রী চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এবং স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনের চারপাশ দখলমুক্ত করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।  

রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে ডিএমটিসিএল-এর বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলির নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

রবিবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত চলা এই অভিযানে স্টেশনের এ, বি, সি ও ডি- ৪টি গেট এলাকাতেই অভিযান চালানো হয়। বিশেষ করে এ ও বি গেটের মধ্যবর্তী ফুটপাত এবং সিঁড়ির নিচের অংশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে স্টেশনের পিলার ও রেলিংয়ের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা মালবাহী ভ্যান ও অবৈধ পার্কিং অপসারণ করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ দোকানের সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী জব্দ করে কর্তৃপক্ষ।

মেট্রোরেল এলাকায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে এই অভিযানকে ডিএমটিসিএল-এর রুটিন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের পথ সুগম করতে এবং মেট্রোরেলের অবকাঠামোর নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযান পরিচালনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এমআরটি পুলিশ, তেজগাঁও থানা পুলিশ ও বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

নরসিংদীবাসীর জন্য সুখবর, অনুমোদন পেল সরকারি মেডিকেল কলেজ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
নরসিংদীবাসীর জন্য সুখবর, অনুমোদন পেল সরকারি মেডিকেল কলেজ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

নরসিংদী জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ নির্মাণের অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বাস্থ্য  ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

রবিবার (১৪ জুন)  স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যান  বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নরসিংদী জেলায় নতুন মেডিকেল কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল নরসিংদী-৪ মনোহরদী-বেলাবো থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পরে তিনি  নিজ জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। 

বর্তমানে ৩৭ টি সরকারি মেডিকেল কলেজ একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া আছে। রবিবার নরসিংদী মেডিকেল কলেজ এর সরকারি মঞ্জুরি দেওয়া হলো। 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি/এসএন 

গোপালগঞ্জে ১০ শয্যার আইসিইউ উদ্বোধন: ১০ ভেন্টিলেটরের ৯টিই নষ্ট!

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
গোপালগঞ্জে ১০ শয্যার আইসিইউ উদ্বোধন: ১০ ভেন্টিলেটরের ৯টিই নষ্ট!
ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বহুল প্রতীক্ষিত ১০ শয্যার আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) বিভাগের উদ্বোধন করা হয়েছে। তবে, উদ্বোধনের পরপরই ২০২০ সালে ক্রয় করা ১০টি শয্যার মধ্যে ৯টি ভেন্টিলেটরই অকেজো থাকার বিষয়টি সামনে এলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ আইসিইউ বিভাগের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন শেষে ডা. কে এম বাবর বলেন, “আজকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের যে আইসিইউ ওয়ার্ড উদ্বোধন করা হলো, এর ভেন্টিলেটারগুলো ২০২০ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ২০২০ সালে কোভিডের সময় আইসিইউর সব যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। প্রতিটি বেড প্রস্তুত ছিল, ভেন্টিলেটর, মনিটরসহ সব ধরনের যন্ত্রপাতি ছিল, কিন্তু এখানে যে ভেন্টিলেটারগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো একেবারেই নিম্নমানের ও সস্তা। ফলে চালু করার আগেই সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন চালু করতে গিয়ে দেখা গেছে, ১০টি ভেন্টিলেটর মেশিনের মধ্যে ৯টিই নষ্ট। এটি যখন তৈরি করা হয়েছিল তখন এটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জেলা এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকা। তাহলে ২০২০ সালে কেন এটি চালু হয়নি? এমন প্রশ্ন তোলেন এই রাজনৈতিক নেতা”

গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের সাবেক পিডি এবং গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. অসিত মল্লিকের নাম উল্লেখ করে সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, ডা. অসিত মল্লিক গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট
হাসপাতালটি লুটপাট করে খেয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের নাম বেরিয়ে আসবে।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, “আমি গোপালগঞ্জবাসীকে আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই, গত ছয় বছর ধরে এখানে যন্ত্রপাতিগুলো কেন অকেজো হয়ে পড়ে ছিল? কেন আমরা এটি চালু করতে পারিনি? আমাদের সরকারের বয়স সাড়ে তিন মাসও হয়নি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আজ সারা বাংলাদেশের ১০টি জেলায় এই আইসিইউ উদ্বোধন হয়েছে, যার মধ্যে গোপালগঞ্জও রয়েছে। ২০২০ সালে যারা এসব ভুয়া যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে আমরা তাদের বিচার চাই। গোপালগঞ্জবাসী গত ছয় বছর কেন এই সেবা থেকে বঞ্চিত হলো? বিগত সরকার কী করেছে? কেন এই ছয় বছর আইসিইউটি চালু করা হয়নি?

এমপি ডা. বাবর আরও বলেন, আমি এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন ভেন্টিলেটর মেশিন এনে ১০ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউটি চালু করব, যাতে গোপালগঞ্জবাসী পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সেবা পায়।

তবে এ বিষয়ে ডা.অসিত মল্লিকের মুঠোফোনে বলেন, এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয় ডিজি অফিস থেকে। এটা শুধু গোপালগঞ্জ নয় সারা দেশেই হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে পিডির মাধ্যমে। এখানে আমার বা লোকাল কোনো অফিসারের হস্তক্ষেপ ছিল না।

হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস বলেন, মুমূর্ষু রোগীদের লাইফ সাপোর্টের জন্য ভেন্টিলেশন সুবিধাসহ ১০ শয্যার আইসিইউর যাবতীয় মালামাল ২০২০ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে ক্রয় করা হয়। এগুলো একদিকে যেমন নিম্নমানের, অন্যদিকে দীর্ঘদিন যন্ত্রগুলো ফেলে রাখায় এখন একদমই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আইসিইউ ওয়ার্ডটি সার্বক্ষণিকভাবে সচল রাখার জন্য যে পরিমাণ দক্ষ জনবল দরকার, বর্তমানে তাও পর্যাপ্ত নেই।

বাদল সাহা/নাঈম