এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকায় সৈয়দা ফাহমিদা তাহসিন কেয়া (২৫) এবং গাজীপুরে জেমি আক্তার (১৯) নিহতের ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। এই সংগঠনের অভিযোগ, কেয়া ও জেমি দু’জনেই স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন। এ দুই ঘটনায় শঙ্কা জানিয়ে এমজেএফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কেয়া ও জেমি হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের নারীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী সংকটকে আরও প্রকট করেছে। এসব ঘটনা গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে গণমাধ্যমে এমজেএফ-এর বিবৃতি আসে।
বিবৃতিতে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা বারবার এমন নৃশংস অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। অসংখ্য ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। এমনকি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটলেও অভিযোগ দায়েরের অভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়।’
শাহীন আনাম আরও বলেন, ‘নিম্ন আয়ের অনেক নারী সহিংস দাম্পত্য জীবন থেকে মুক্তি পান না। সামাজিক মর্যাদার ভয়ে এবং আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বাবা-মা তাদের মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে পারেন না। আর্থিক নিরাপত্তা না থাকায় সন্তানদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় অসংখ্য নারী চুপচাপ পারিবারিক নির্যাতন সহ্য করতে বাধ্য হন।’
নারী নির্যাতন সংক্রান্ত সব মামলা পর্যালোচনা করে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
পারিবারিক সহিংসতা বন্ধে চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে -পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং আইনের সহজ ব্যাখ্যা প্রচার; নারী নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র, কাউন্সেলিং ও জীবিকা সহায়তা সেবা সম্প্রসারণ; যেসব বাধা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতাসমূহ ভুক্তভোগীদের নীরব করে রাখে তা চিহ্নিত করা; পারিবারিক সহিংসতা রুখতে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালু করা।
জয়ন্ত সাহা/