ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ডলার স্থিতিশীল, বেড়েছে ইউরো ও পাউন্ডের দাম রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত ১৯৭৮ সালে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাবা, ৪৮ বছর পর একই মাঠে প্রধানমন্ত্রী ছেলে সিলেটে বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন চা শ্রমিকরা ‘সমর্থকরা আর্জেন্টিনার এই দলকে নিয়ে পাগল’, ইতিহাস গড়ার পর মেসি সিলেট পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে ইতিহাস বদলানোর হুঙ্কার টমাস টুখেলের ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজারবাসী রংপুরে আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান ভুট্টু গ্রেপ্তার আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস কচুয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতির হুমকি, ‘সাংবাদিকতা ছুটিয়ে দেব’ ৬০ বছরের অপেক্ষা বনাম ক্রোয়াট ধারাবাহিকতা নওগাঁ সীমান্তে স্থানীয়দের হাতে আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তি সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি জাহাঙ্গীরনগরে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুনঃতদন্তের দাবি লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় প্রকল্পের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা শাহরাস্তিতে নারীর পেট থেকে ৩ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩ ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ: দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা বিশ্বমঞ্চে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক, ক্লোসাকে ছুঁয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা! স্বপ্ন ছোঁয়ার শেষ মিশনে রোনালদো নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায় বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ টি-টোয়েন্টি সিরিজে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ
Nagad desktop

রাজধানীর ফুটওভার ব্রিজ চাঁদাবাজ চক্রের নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০৭ এএম
রাজধানীর ফুটওভার ব্রিজ চাঁদাবাজ চক্রের নিয়ন্ত্রণে
ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়কের পর এবার ফুটওভার ব্রিজও হকারদের দখলে চলে গেছে। নিরাপদে পথচারীদের পারাপারের জন্য নির্মিত এসব ব্রিজ এখন পরিণত হয়েছে অস্থায়ী বাজারে। হকারদের পাশাপাশি স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে এসব ফুটওভার ব্রিজ। কোথাও জামাকাপড়, কোথাও শাকসবজি, কোথাও ইলেকট্রনিক পণ্য; সব মিলিয়ে রাজধানীর অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজ হাটবাজারে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্র প্রতিদিন এসব হকারের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। ফলে যে ফুটওভার ব্রিজ পথচারীদের জন্য তৈরি হয়েছিল, তা এখন দখলের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, ফুটওভার ব্রিজের অবস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। লোহায় মরিচা ধরে ক্ষয় হয়ে গেছে। তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। বেশ কিছু ব্রিজে বাতি না থাকায় অন্ধকারে চলে মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ। রাতে ছিনতাইও নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে ব্রিজের নিচ দিয়ে চলাচল করছেন। অথচ কর্তৃপক্ষের এদিকে কোনো নজর নেই। 

শহর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ফুটওভার ব্রিজকে নিরাপত্তা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট স্থানে হকার জোন তৈরি করা যেতে পারে, যাতে তারা জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন আবার পথচারীরাও নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারেন। সিসিটিভি ক্যামেরাও তদারকির জন্য প্রয়োজন। রাজধানীর জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারাপারের নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা না করলে দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন।


ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে বর্তমানে প্রায় ৯২টি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে ৫১টি, দক্ষিণ সিটির অধীনে ৩৫টি, রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজ বিভাগের অধীনে ৫টি এবং রাজউকের অধীনে রয়েছে ১টি ব্রিজ। অধিকাংশ ব্রিজই এখন হকারদের দখলে। কোথাও এর এক পাশ, কোথাও আবার দুই পাশজুড়েই দোকান বসে। কিছু ব্রিজের অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কয়েকজন ক্রেতা দাঁড়ালেই চলাচলের জায়গা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

এ ছাড়া কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চলন্ত সিঁড়ি (এস্কেলেটর) অনেক জায়গায় অচল হয়ে পড়ে আছে। ভ্রাম্যমাণ দোকান, ময়লা-আবর্জনা ও বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে ফুটওভার ব্রিজগুলোতে হাঁটার পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

দখল করা ফুটওভার ব্রিজে মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত পণ্য বেশি বিক্রি হতে দেখা যায়। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে শার্ট, প্যান্ট, ব্রাশ, বিছানার চাদর, ওজন মাপার যন্ত্র, নামাজ পড়ার টুপি, আতর, তসবিহ, আয়না থেকে শুরু করে মোজা, গেঞ্জি, চশমা, হাতঘড়ি, মোবাইল ফোন অ্যাকসেসরিজ; এমনকি শাকসবজি, ডিম, খেজুর, খেজুরের গুড়সহ হরেক রকমের পণ্য নিয়ে বসেছেন হকাররা।

রাজধানীর দৃষ্টিনন্দন গুরুত্বপূর্ণ ফার্মগেট ফুটওভার ব্রিজটি এখন পুরোটাই দখলে। পুরোনো ব্রিজটি ভেঙে ২০২৩ সালে ২০ কোটি টাকা খরচ করে ঢাকার সবচেয়ে সুপ্রশস্ত এই ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। এটি ১৮ ফুট চওড়া। দৃষ্টিনন্দন করে তোলার জন্য বিভিন্ন ফুলের গাছ ছিল ব্রিজটিতে। অথচ ফার্মগেটের এই ফুটওভার ব্রিজটি এখন পুরোপুরি রমরমা বাজার। সন্ধ্যা নামলেই এখানে বসে ফল-সবজির বাজার। 

একইভাবে নিউ মার্কেট এলাকার ব্রিজটি যেন স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শাখা। বছরজুড়ে এই ব্রিজটিও থাকে হকারদের দখলে। দুই পাশে শতাধিকের বেশি দোকান, মাঝের মূল পথটি সংকীর্ণ হয়ে গেছে। পথচারীদের প্রতিনিয়ত এই স্থান দিয়ে রীতিমতো গা বাঁচিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে চলতে হয়। শার্ট-প্যান্ট থেকে শুরু করে মেয়েদের জামাকাপড়, ব্রাশ, বিছানার চাদর, নামাজের টুপি, আতর, তসবিহ, মোজা, চশমা, হাতঘড়ি, মোবাইল ফোনের অ্যাকসেসরিজ, এমনকি ডিম, শাকসবজি, খেজুর, গুড় পর্যন্ত পাওয়া যায় এসব দোকানে। 

মুগদা-কমলাপুর এলাকার ফুটওভার ব্রিজে বসেছে ৫০টির মতো অবৈধ দোকান। গুলিস্তানের ফুটওভার ব্রিজের চিত্রও একই। অনেক জায়গায় ভিক্ষুকরা অর্ধেকের বেশি অংশ দখলে নিয়েছে। ফলে চাপাচাপি করে হাঁটাচলা করতে হয় বলে বেশির ভাগ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই ব্রিজের নিচ দিয়ে রাস্তা পার হতে বাধ্য হন।

পরীবাগ ফুটওভার ব্রিজটি এখন যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ব্যবহার করলেও ব্রিজটির প্রতিটি সিঁড়ি জরাজীর্ণ আর ভাঙাচোরা। লোহা ক্ষয়ে এতে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যেকোনো পথচারী যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। এসব গর্তে কারুর পা পড়লেই নিশ্চিত ভূপাতিত হয়ে জীবন বিপন্ন হয়ে উঠবে। রাতে এই ব্রিজে কোনো বাতি জ্বলে না, ফলে অন্ধকারে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। সেখানে রাতে মাদক সেবনসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ডও চলে। ব্রিজের ওপর এবং এর চারপাশে এ রকম দৃশ্য দেখা গেছে। 

গুলিস্তানের পাতালপথ দিয়ে হাঁটলে বোঝাই মুশকিল এটি পারাপারের রাস্তা, নাকি মার্কেট। মূলত পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য এটি নির্মাণ করা হলেও এই আন্ডারপাস এখন রীতিমতো একটা জমজমাট ইলেকট্রনিকস মার্কেট। ক্রেতা ও দোকানিদের ভিড়ে সেখানে পথচারীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

সাধারণ মানুষের চলাচলের এমন দুঃসহ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন অনেক পথচারী। গুলিস্তানে অফিসগামী রুবেল হোসেন বলেন, “ফুটওভার ব্রিজগুলো এখন আর পার হওয়ার জায়গা নয়। হকাররা দখল করে রেখেছে। কোনো রকমে শরীর বাঁচিয়ে মাঝের সরু পথ দিয়ে চলতে হয়। কখনো আবার সেই পথের মাঝখানে ভিক্ষুকরা বসে থাকে। পথচারীদের ‘পা’ ধরে আটকে রেখে ভিক্ষা চায়। বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে তাই নিচ দিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। এতে ঝুঁকি অনেক, দুর্ঘটনাও ঘটে প্রায়ই।”

ধানমন্ডির গৃহিণী তানিয়া আক্তার বলেন, ‘নিউ মার্কেট ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে গেলে মনে হয় দোকানের ভেতর দিয়ে হাঁটছি। অথচ আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পারাপারের জন্যই তো এগুলো করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ চোখ বন্ধ করে আছে। কারুর যেন কোনো দায়িত্ব নেই।’ 

নিউ মার্কেটে ব্যবসায়িক কাজে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে সবকিছু চাঁদার বিনিময়ে চলছে। হকাররা তো দোকান বসায়, কিন্তু তাদের পেছনে আছে শক্তিশালী গোষ্ঠী। তারা প্রতিদিন চাঁদা তোলে, টাকা নেয়। পথচারীরা ভুক্তভোগী হলেও সমাধান নেই।’

অবশ্য ফুটপাত দখল করা হকারদের পাল্টা যুক্তির শেষ নেই। নিউ মার্কেট এলাকার এক হকার জানান, দোকানের আয়তন অনুযায়ী দৈনিক ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয় স্থানীয় প্রভাবশালী আর প্রশাসনের লোকদের। কারও কারও কাছ থেকে সাপ্তাহিক বা মাসিক হিসেবে চাঁদা আদায় করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা তো এখানে বসতে চাই না, জীবিকার জন্য বসি। টিকে থাকার জন্য চাঁদা দিতেই হয়।’

মিরপুরের এক হকার অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সবাই আমাদের কাছ থেকে নেওয়া চাঁদার টাকায় ভাগ বসান। আমরা যারা গরিব, তাদের টিকে থাকার তো জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে ফুটওভার ব্রিজে তাই দোকান বসাই।’

দায় এড়াচ্ছে কর্তৃপক্ষ
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা দায় এড়িয়ে গেলেন। উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ অভিযান চালালেও রাজনৈতিক প্রভাশালীরা আবারও এগুলো দখল করে নিয়েছেন। এই দখলদারত্বের পেছনে আছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাশালীদের ইন্ধন। তাদের হাতে নগরবাসী জিম্মি। সিটি করপোরেশনও নামেমাত্র অভিযান চালায়। কিছুদিন কড়াকড়ি থাকে, পরে গা ছাড়া ভাব দেখায়। আগের অবস্থায় ফিরে যায় ফুটওভার ব্রিজগুলো। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। 

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি; বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। এটা বন্ধ করতে হলে সবাইকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’ আবার সব স্থানে একসঙ্গে অভিযানও চালানো যাচ্ছে না, বললেন তিনি। তবে কী কারণে বা কাদের জন্য অভিযান সব স্থানে চালানো যাচ্ছে না, এ বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গেলেন। 

তবে এসব ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে চলা ভুক্তভোগী নগরবাসী বলছেন, এসব জনবিরোধী দখল ঠেকাতে হলে সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও স্থানীদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। নগর পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে গেছে। এখন পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের লক্ষ্যে তৈরি ফুটওভার ব্রিজও দখলে চলে গেছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি এবং চাঁদাবাজরা এক হয়ে এসব ফুটব্রিজ দখলে নিয়ে নিয়েছে।’

তিনি এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, ‘চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে, কোনো ছাড় দেবে না; এই ধরনের বার্তা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই দুর্বলতা বুঝতে পেরে চাঁদাবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের এখনই থামানো না গেলে পরে রাজনৈতিক সরকার এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। আমাদের আসলে সংস্কারের মধ্যে নগর উন্নয়নের বিষয়টিও রাখা উচিত। নিশ্চিত হতে হবে যে সরকার নাগরিক সুবিধার দিকগুলোও গুরুত্ব দেবে। চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক চরিত্র এবং সামাজিক চরিত্র না দেখে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে জনগণ স্বস্তি পাবেন।’

সিলেট পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৪২ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৫২ এএম
সিলেট পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয়বারের মতো এক দিনের সফরে সিলেটে পৌঁছেছেন তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রওয়ানা হয়ে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর এলাকায় আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার ১০টা ১৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

রিফাত/

আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সব বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

রিফাত/

প্রতিশোধ নয়, গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:২০ এএম
প্রতিশোধ নয়, গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

হারানো অতীত প্রতিশোধের মাধ্যমে ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি  বলেন, ‘আসুন আমাদের নিজের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ আমার সাথে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি সেই চেষ্টা করতে পারি। সাকসেসফুল হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মাইন্ডসেট নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই। আর তাই বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। সরকারের ভুল হতে পারে, গঠনমূলক আলোচনা হোক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটা আমাদের জন্য, বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের এই দিনে বাংলাদেশের সকল সংবাদপত্র একসময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, হাতে গোনা মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছিল। সেখান থেকে আজকে আমরা এতগুলো সাংবাদিক ভাইদের সাথে কথা বলছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওই সময় সংবাদপত্রের যে গলা চেপে ধরা হয়েছিল সেটি অন্তত এখন নেই, এই মুহূর্তে নেই। যেভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। চারটা সংবাদপত্রকে রেখে সব বন্ধ করে দিয়েছিল। একই সময় আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে বন্ধ মানে বিলুপ্ত করে বাকশাল নামে একটা দল গঠন করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন। একই সাথে সংবাদপত্রের ওপর থেকে রেস্ট্রিকশন তুলে নিলেন। পরবর্তী সময় কী হয়েছে, কতটুকু হয়েছে এটা আপনাদের কথা থেকেও বেরিয়ে এসেছে।’

প্রতি বছর ১৬ জুন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকশাল সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চারটি সরকারি প্রচারপত্র বাদে দেশের সব পত্রিকার প্রকাশনা ও ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয়। এর প্রতিবাদে পরবর্তী বছর থেকে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।

গণমাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে অনেক সাহায্য করতে পারেন। শুধু সরকার একা পারবে না, আপনার সহযোগিতা আমার লাগবে। আপনার সহযোগিতা না পেলে আমি বুঝতে পারবো না যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলেই অন্তত বুঝতে পারব যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে। অথবা ভালো কাজের পথটা আপনাদের দেখাতে হবে। অর্থাৎ দেশের কাজে আমাদের প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। এই সহযোগিতাটা আমি আপনাদের কাছে চাইছি। আপনারা সহযোগিতা করলে আমার কাজ সহজ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। বিশ্বব্যাপী কম-বেশি থাকলেও আমাদের এখানে এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কতজনকে ধরব, কতজনকে চিকিৎসা দেব বা কাউন্সেলিং করব? আমাদের তো সক্ষমতা ও সম্পদের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই এই সমস্যার সমাধানে আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।’

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি থাকে, তা ইতিবাচক খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। অথচ ঢাকা শহরসহ সারা দেশেই এখন খেলার মাঠের তীব্র সংকট।

তরুণদের এই শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি। সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সকল পরিবারের সন্তান এখানে যুক্ত হয়েছে। অথচ দুঃখের বিষয়, এত বড় একটি আয়োজন আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি।’

কেবল খেলাধুলা নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তরুণদের মেধা বিকাশের জন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা বা সায়েন্স ফেয়ার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিন (যেমন ১৬ ডিসেম্বর বা ২১ ফেব্রুয়ারি) ছাড়া কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয় না! যুব সমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে এই চর্চাগুলো সারা বছর চালু রাখতে হবে।

তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকাল দেখা যায় একটা জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে এবং ১০ জন মিলে তা মোবাইলে রেকর্ড করছে। এগুলো অস্বাভাবিক মানসিকতা। স্কুল পর্যায় থেকেই আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জেলের মধ্য থেকে এসেছি, আমি শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি, মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি। 

তারেক রহমান বলেন, ‘বাট আমি এখন যদি যারা এর জন্য দায়ী, আমি যদি সেজন্য কাউকে দায়ী করে বেড়াই তবে আমার তো হাড্ডি জোড়া লাগবে না। আমি এখনো যেই পেইনটা মাঝে মাঝে অনুভব করি, আমার সেই পেইনটা চলে যাবে না। সুতারাং ক্ষতি যা হয়ে গেছে সেটা নিয়ে না ভেবে দেশের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
বুধবার মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজার এবং শ্রীমঙ্গলে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রশাসন, বিএনপির কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট নেমে, সড়ক পথে প্রথমে শ্রীমঙ্গল ও পরে মৌলভীবাজার সদরে পৌঁছে নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

এদিকে জেলার দুটি উপজেলার অনুষ্ঠানকে ঘিরে মাঠ প্রস্তুত এবং মঞ্চ নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলীয় নেতাকর্মীরা রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচী অনুযায়ী তিনি বুধবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট নেমে, সড়ক পথে দুপুর ১টায় প্রথমে মৌলভীবাজার জেলার চায়ের জনপদ শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হয়ে সেখানে ১৫২ জন নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। পরে সেখান থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সড়ক পথে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছে সেখানে আয়োজিত রাজনগর উপজেলার জন্য বারদ্ধকৃত ১৫৫ জন নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। পরে দুপুর সাড়ে তিনটায় স্থানীয় দুসাই রির্সোটে বিশ্রাম ও সেখানে দলীয় নেতাদের নিয়ে রাজনৈতিক সভা যোগ দিবেন। পরে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে সড়ক পথে সিলেটের উদ্দোশ্যে মৌলভীবাজার ত্যাগ করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর বিষয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে শ্রীমঙ্গলের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

একই দিন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাবে, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর শ্রীমঙ্গল সফরকে জেলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে সফলভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

এসএন/

চাঁদ দেখা গেছে মহররমের, আশুরার তারিখ ঘোষণা

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
চাঁদ দেখা গেছে মহররমের, আশুরার তারিখ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আকাশে পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো. ফজলুর রহমান।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (১৭ জুন) থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসাবে আগামী ২৬ জুন, শুক্রবার সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) হতে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

এসএন/