থমকে আছে চাঁদপুর নৌবন্দরের আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। চলতি বছরের জুন থেকে বন্ধ রয়েছে ৯৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকার এই প্রকল্পের কাজ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, আগে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন ঠিকাদার এলে কাজ শুরু হবে। এদিকে প্রায় এক দশক ধরে আটকে থাকা এই প্রকল্প নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে।
চাঁদপুর নৌবন্দর সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর একনেক সভায় ‘চাঁদপুর আধুনিক নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প’ অনুমোদন দেওয়া হয়। সে সময় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৭ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে ব্যয় বাড়িয়ে ৯৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা করা হয়। দুই বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে পাইলিংয়ের মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কিন্তু পাইলিং শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের জুনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বরাদ্দের অর্থ না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
ঢাকা-চাঁদপুর নৌরুটে নিয়মিত যাতায়াত করা লঞ্চযাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে দেখছি লঞ্চঘাটে কাজ চলছে, কিন্তু শেষ হচ্ছে না। নতুন বন্দরের কোনো সুবিধা পাচ্ছি না। যাত্রীছাউনি নেই, বসার স্থান নেই, টয়লেট নেই। বর্ষাকালে লঞ্চঘাটে যাত্রীদের বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। দ্রুত বন্দর আধুনিকায়নের কাজ শেষ করা দরকার।’
আরেক যাত্রী কবির হোসেন বলেন, ‘প্রকল্পের ব্যয় বাড়লেও কাজ শেষ হচ্ছে না। যাত্রীদের জন্য এটা আরেক দুর্ভাগ্য।’
চাঁদপুর লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি আজগর সরকার বলেন, ‘চাঁদপুর নৌবন্দর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদীবন্দর হলেও এর অবকাঠামোগত কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বহুদিন ধরে কাজ চলছিল। পাইলিং শেষ হতেই আবার পুরোপুরি কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা জানতে পেরেছি, বরাদ্দের অর্থ না পাওয়ায় ঠিকাদার কাজ করছেন না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে বন্দরের উন্নয়নকাজ শেষ করা হোক।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের কর্মী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমি এই প্রকল্পের কাজ ও মালামাল দেখাশোনা করছি। এক মাসের বেশি সময় ধরে এখানে আছি। তখন থেকে কাজ বন্ধ। কবে কাজ শুরু হবে, সেটি আমার জানা নেই।’
এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চাঁদপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক (বন্দর) বসির আলী খান বলেন, ‘আগে যেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে, তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ করবে। এরপর বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং দ্রুত কাজ শুরু হতে পারে।’
রিফাত/