নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, প্রবাসী ভোটারদের জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হচ্ছে, যা নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে চালু হবে। এ ক্ষেত্রে প্রবাসী ভোটারদের কাছ থেকে কোনো চার্জ নেওয়া হবে না।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ভোটার নিবন্ধনের জন্য প্রতিটি অঞ্চলে ৭–১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে, প্রয়োজনে তা ৩–৭ দিন বাড়ানো যাবে। ইতোমধ্যে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) আছে, তারা সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
ভোটে কোনো চার্জ নেই
তিনি আরও জানান, এবারের প্রবাসী ভোটারদের কাছ থেকে কোনো চার্জ নেওয়া হবে না। যদিও প্রতিটি ভোটের জন্য সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৭০০ টাকা।
সানাউল্লাহ বলেন, “ভোটাধিকার মৌলিক অধিকার। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রবাসীদের সেই অধিকার নিশ্চিত করা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই পথচলার সূচনা হলো।”
কমিশনার আরও বলেন, “এবার ইনশাআল্লাহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। বিষয়টি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নের পথে।”
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন এবং এর জন্য কার্যকর পদ্ধতি ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই নির্বাচন কমিশন নানা দেশি-বিদেশি গবেষণা, প্রযুক্তিগত পর্যালোচনা ও পরামর্শ গ্রহণ করে প্রবাসী ভোট বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করেছে।
হাইব্রিড পদ্ধতিতে পোস্টাল ব্যালট
কমিশন এইবার ‘হাইব্রিড পোস্টাল ব্যালট’ পদ্ধতি চালু করছে। আগ্রহী প্রবাসী ভোটাররা অনলাইনে নিবন্ধন করলে প্রতীক সংবলিত ব্যালট আগেই তাদের কাছে পাঠানো হবে। ব্যালটে প্রার্থীর প্রতীক থাকবে, এবং মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ভোটাররা প্রার্থী তালিকা দেখে ভোট দিতে পারবেন। এরপর তারা ডাকযোগে ব্যালট ফেরত পাঠাবেন।
অনলাইন নয়, পোস্টালই প্রথম ধাপ
বিশ্বের ছয়টি প্রচলিত প্রবাসী ভোট পদ্ধতির মধ্যে বাংলাদেশ আপাতত পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি গ্রহণ করছে। অনলাইন ভোটিং এখনো বিশ্বব্যাপী সীমিত; শুধুমাত্র দুটি দেশ এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেছে। প্রক্সি ভোটিং রাজনৈতিক সমর্থন না পাওয়ায় বাদ দেওয়া হয়েছে।
ব্যালট পাঠানো ও ফেরতের চ্যালেঞ্জ
কমিশনার জানান, বিশ্বব্যাপী পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় প্রায় ২৪% ব্যালট নির্ধারিত সময়ে পৌঁছায় না। এছাড়া আদালতের আদেশে প্রার্থী তালিকা পরিবর্তন হলে বিদেশ থেকে পাঠানো ভোট বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রত্যাশা সীমিত, অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ
গ্লোবাল রেফারেন্স দিয়ে তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটে গড় নিবন্ধনের হার মাত্র ২.৭%, এবং তার মধ্যে ভোট পড়ার হার ৩০%-এর নিচে। তবে বাংলাদেশের প্রবাসীদের আগ্রহ অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। তাই সীমিত প্রত্যাশা সত্ত্বেও এই উদ্যোগ সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সানাউল্লাহ বলেন, “এটা শুরু করতে হবে, যে স্কেলেই হোক না কেন। আমরা চাই প্রবাসীরা শুধু আজ নয়, আগামীতেও আমাদের সাথে থাকবেন। যেন শুরুতেই আমরা ব্যর্থ না হই।”
নির্বাচন কমিশনের এ উদ্যোগ প্রবাসীদের বহুদিনের দাবির আংশিক বাস্তবায়ন। যদিও চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে কার্যকর বাস্তবায়ন হলে এটি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এলিস/মেহেদী