আগামী ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে।’
সোমবার (১০ নভেম্বর) বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এর সম্মেলন কক্ষে ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জ নিরূপণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনকে ঘিরে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি ও অপরাধ দমনের আহ্বান জানানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি, যাতে করে কেউ নির্বাচনের নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে না পারে।
এর আগে দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘জাতিকে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন জিহাদ ঘোষণা করেছে। এটি এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অতীতের কলঙ্ক মুছতে হলে একটি ভালো নির্বাচনের বিকল্প নেই।’
কোনো প্রকার প্রভাব বা চাপে না পড়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই জাতিকে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশসহ প্রশাসনের সবাইকে ভয়-ভীতি পরিহার করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এককভাবে একটি ভালো নির্বাচন সম্ভব নয়- এর জন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা।’
বার্ডে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালীর ছয় জেলার ৭০ জন প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের উদ্দেশে উপস্থিত বক্তারা নির্বাচনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা, সম্ভাব্য সমাধানের উপায় নির্ধারণ এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির পরামর্শ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্মসচিব আব্দুল হালিম খান, কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সার, জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান ও জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শান্ত/রিফাত/