ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট বাড়ার আশঙ্কা, জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কতা বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয় বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন পাতাল রেল প্রকল্পে ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব কেমন ছিল দেশের প্রথম বাজেট? মির্জাপুরে গ্রামভিত্তিক মাদকবিরোধী অভিযান ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত বাজেটে বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম বাজেটে শিক্ষাখাতে বাড়ছে বরাদ্দ জামালপুর সীমান্তে শূন্যরেখায় আটকে থাকা বৃদ্ধ বাংলাদেশের নাগরিক বাজেটে কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম আজকের মুদ্রা বাজার: ১১ জুন ২০২৬ মার্কিন হামলায় ইরানের পানি সরবরাহে বিপর্যয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস ইরানের হামলায় কুয়েতের আকাশসীমা বন্ধ বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান ৭ বাধা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৩ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের কানাডায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিল উত্থাপন রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত? টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে এক পরিবর্তন বাজেটের আগে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী টিভিতে আজকের খেলা মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে ১০ কোটি ব্যারেল তেল পার করা: ট্রাম্প শেরপুরে মেসির প্রতিকৃতি আর আর্জেন্টিনার রঙে সেজেছে বাস চট্টগ্রামে ট্রেন দুর্ঘটনায় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও ২১ শিশু ভর্তি চকরিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে কারারক্ষীর বাড়িতে ডাকাতি শিবচরে দুর্নীতিবিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টিতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা রংপুরে মিনিবাসের চাকা ফেটে নিহত ১, আহত ৩৪
Nagad desktop

জাতীয় নির্বাচনে সরকার ও ইসিকে নৌবাহিনী সার্বিক সহায়তা দেবে: নৌবাহিনী প্রধান

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৭ পিএম
জাতীয় নির্বাচনে সরকার ও ইসিকে নৌবাহিনী সার্বিক সহায়তা দেবে: নৌবাহিনী প্রধান
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আর এ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে ২২ সপ্তাহব্যাপী সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৪১৭ জন নবীন নাবিকের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে নৌবাহিনী "Aid to Civil Power" এর আওতায় অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করে আসছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় নৌসদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমালের সুরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা-এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশবাসীর কাছে প্রশংসা অর্জন করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব চট্টগ্রাম জয়দেব লিমিটেডকে দেওয়ায় অল্প সময়েই কন্টেইনার হ্যান্ডলিং উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করেছে।'

অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসওসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, পটুয়াখালী–বরিশাল–খুলনা অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নৌবাহিনী প্রধান প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। পরে নবীন নাবিকরা জাতীয় পতাকা স্পর্শ করে দেশের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গের শপথ গ্রহণ করেন।

এ সময় সেরা কৃতী নাবিকদের মধ্যে রিজন মোল্লাকে ‘নৌপ্রধান পদক’; মো. মারুফ হাসান মুন্নাকে ‘কমখুল পদক’; মো. হাসান আলীকে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ তুলে দেন নৌবাহিনী প্রধান।

হাসিবুর/মেহেদী/

বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন
বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে তিনি এ স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।

এ ছাড়া ৫০ টাকা মূল্যমানের খাম-সম্বলিত স্যুভেনির শিট ও ৫ টাকা মূল্যমানের ডাটা কার্ডও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন এবং ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এস এম হারুনুর রশীদ।

ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ দল নিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে আজ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাটিতে হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। তিনটি দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘটনাও এবারই প্রথম।

নাঈম/

পাতাল রেল প্রকল্পে ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
পাতাল রেল প্রকল্পে ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প সম্প্রসারণ ও নির্মাণকাজে ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পের প্রথম পাতাল রেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১-এর জন্য ৭ হাজার ৩৫০ কোটি ও এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট)-এর জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন পেলে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) তুলনায় এমআরটি লাইন-১-এর বরাদ্দ প্রায় নয় গুণ বৃদ্ধি পাবে। চলতি অর্থবছরে প্রকল্পটির সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ৮০১ কোটি টাকা।

অন্যদিকে এমআরটি লাইন-৫-এর বরাদ্দও ৮৬৩ কোটি থেকে প্রায় পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে।

মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল হিসেবে এমআরটি লাইন-১ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার হয়ে পূর্বাচল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫ হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত সংযোগ তৈরি করবে, যা ঢাকার পশ্চিম ও পূর্ব অংশের মধ্যে যাতায়াত সহজ করবে। দুটি প্রকল্পেই ডিপো উন্নয়ন, জমি অধিগ্রহণ ও প্রাথমিক নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে।

ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের আওতায় পিতলগঞ্জ ডিপোর ভূমি উন্নয়নকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। বিমানবন্দর পর্যন্ত ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। গত অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা।

অন্যদিকে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট) প্রকল্পের ডিজাইন ও জরিপের কাজ শেষ হয়েছে।

হেমায়েতপুর ডিপোর জমি অধিগ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ডিপোর ভূমি উন্নয়নকাজের অগ্রগতি ৮২ শতাংশের বেশি। প্রকল্পটির ১০টি কন্ট্রাক্ট প্যাকেজের মধ্যে কয়েকটির দরপত্র মূল্যায়ন ও ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রকল্প দুটির নির্মাণ ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দর-কমলাপুর ও নতুন বাজার-পূর্বাচল রুটের এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা হলেও ঠিকাদারদের সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাব অনুযায়ী ব্যয় প্রায় ৯৭ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ডিএমটিসিএল।

একইভাবে ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট) প্রকল্পের ব্যয়ও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া দরপ্রস্তাব বিশ্লেষণ করলে দুই প্রকল্পের সম্মিলিত ব্যয় প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে, যা সরকারের মূল প্রাক্কলনের প্রায় দ্বিগুণ।

এদিকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর গতি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫), নর্দান রুটের প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মতিন চৌধুরী।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর আগে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় কাজের অগ্রগতি কিছুটা ধীর ছিল। তবে এখন নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে এবং প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

এমআরটি লাইন-৫, নর্দান রুটের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের ১০টি প্যাকেজের মধ্যে একটি প্যাকেজ—ডিপোর ভূমি উন্নয়নকাজ—এরই মধ্যে ৮২-৮৩ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি নয়টি প্যাকেজের মধ্যে বেশ কয়েকটির দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং সেগুলো বর্তমানে চূড়ান্ত মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে। এখনো তিনটি প্যাকেজ (৭, ৮ ও ১০ নম্বর) চূড়ান্তভাবে বাকি আছে, যেগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।’ সব মিলিয়ে প্রকল্পটি এখন ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছে।

অন্যদিকে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে অর্থায়ন ও দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, ‘কিছু উন্নয়ন অংশীদারের শর্তের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ও স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণের সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে।’ তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে পুনঃদরপত্র আহ্বান বা দর আলোচনার সুযোগ না থাকায় সরকারকে নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যা ব্যয় নিয়ন্ত্রণকে জটিল করে তুলছে।

নাঈম/

বাজেটে বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
বাজেটে বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম
ছবি: খবরের কাগজ

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মূলত তামাকজাত পণ্য, বিলাসবহুল সামগ্রী এবং আমদানিনির্ভর বিদেশি খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে এসব পণ্যের ওপর শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী আসন্ন বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

আমদানিকৃত কাজু বাদাম: দেশে বাণিজ্যিকভাবে কাজু বাদাম চাষ শুরু হওয়ায় দেশীয় চাষিদের সুরক্ষায় আমদানিকৃত কাজু বাদামের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে।

আমদানিকৃত মাছ: উচ্চ মূল্যের বা দামি হিমায়িত মাছ আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং পাঙাস মাছের ফিলেট আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হতে পারে।

তামাকজাত পণ্য: সিগারেটের দাম প্যাকেট প্রতি ৫-৭ টাকা বাড়তে পারে। খুচরা বিক্রেতাদের প্রতি হাজারে ২ টাকা অগ্রিম কর দিতে হতে পারে। এ ছাড়া গুল ও জর্দার ওপরও কর বাড়তে পারে। সিগারেটের ফিল্টার তৈরির পেপার আমদানিতে ৩০০ শতাংশ ও নিকোটিনে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসতে পারে। নিকোটিন পাউচে ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং অপ্রক্রিয়াজাত তামাকের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি তুলে নিয়ে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে।

মদ ও বিলাসী পণ্য: আমদানিকৃত বিদেশি মদের দাম বাড়তে পারে, যেখানে বর্তমানে মান ও ব্র্যান্ডভেদে ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ককর রয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় একমাত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোং-এর উৎপাদিত মদের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা হারে ভ্যাট বসানো হতে পারে।

নির্মাণসামগ্রী (এমএস রড ও স্ক্র্যাপ): মাইল্ড স্টিল (এমএস) ও সমজাতীয় পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর (ভ্যাট) প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। এতে রি-রোলেবল স্ক্র্যাপ থেকে তৈরি এমএস পণ্যের কর প্রতি টনে ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা বাড়তে পারে। মেল্টেবল স্ক্র্যাপ থেকে তৈরি বিলেট ও ইনগটের কর প্রতি টনে দেড় হাজার টাকা থেকে ১৫০ টাকা এবং বিলেট বা ইনগট থেকে তৈরি এমএস পণ্যের কর প্রতি টনে ১৬০ টাকা বাড়তে পারে। এছাড়া মেল্টেবল স্ক্র্যাপ থেকে উৎপাদিত ইনগট বা বিলেট এবং সেই ইনগট বা বিলেট থেকে তৈরি এমএস পণ্যের কর প্রতি টনে ২২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

আমদানিকৃত প্রযুক্তি ও অন্যান্য পণ্য: আমদানিকৃত ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর, প্রিন্টার এবং অন্যান্য বিদেশি ইলেকট্রনিক সামগ্রীর ওপর শুল্ক বৃদ্ধির কারণে এগুলোর দাম বাড়তে পারে।

অন্যান্য বিলাসী পণ্য: নতুন ১০টি পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হতে পারে। বিদেশি প্রসাধনী, বিলাসসামগ্রী ও উচ্চ মূল্যের আমদানিকৃত খাদ্য পণ্যের ওপর শুল্ককর বৃদ্ধি পাওয়ায় এগুলোর দাম বাড়তে পারে। এ ছাড়া ৩৫০০ সিসির বেশি বিলাসবহুল গাড়ির দামও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্তরা/

বাজেটে কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১২:০২ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
বাজেটে কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম
ছবি: খবরের কাগজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট উত্থাপন করা হবে বৃহস্পতিবার (১১ জুন)। বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রস্তাবিত এ বাজেট পাস হলে এটি হবে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট।

জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের স্বস্তি বাড়াতে এবারের বাজেটে চাল-ডালসহ ৬০টি নিত্যপণ্যে কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ তৈরির ৬৮ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হতে পারে।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ইলেকট্রনিক খাতে বড় ধরনের কর ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশে তৈরি বিভিন্ন গৃহস্থলিসামগ্রী ও প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের দাম কমতে পারে। 

যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

ইলেকট্রনিক ও গৃহস্থালি পণ্য: দেশে উৎপাদিত টেলিভিশন, এসি, ফ্রিজ ও হাউজহোল্ড পণ্যের ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হতে পারে। একইসঙ্গে দেশীয় এসব ইলেকট্রনিক পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতেও শুল্ককর ছাড় দেওয়া হতে পারে এবং এই অব্যাহতি সুবিধা আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। এর ফলে দেশে তৈরি এসি, ফ্রিজ, টেলিভিশন, ওয়াশিং মেশিন ও অন্যান্য হাউজহোল্ড পণ্যের দাম কমতে পারে।

প্রযুক্তি পণ্য: দেশে তৈরি ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর ও মোবাইল ফোনের দাম কমতে পারে।

বাদ্যযন্ত্র: বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র আমদানিতে বর্তমানে বিদ্যমান ৫ শতাংশ শুল্ককর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হতে পারে। ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক: স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক উৎপাদনে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে অগ্রিম আয়কর ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে গাড়ির কিলোওয়াট অনুযায়ী ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা করা হতে পারে।

সৌর বিদ্যুৎ: সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমাবে।

ভোজ্যতেল: দেশীয় ভোজ্যতেল উৎপাদনে করছাড় সুবিধা আরও ১০ বছর অব্যাহত রাখা হতে পারে।

স্বর্ণ: স্বর্ণ বিক্রিতে বর্তমানে বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে ভরিপ্রতি সুনির্দিষ্ট হারে আড়াই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। এ ছাড়া এ খাতের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং টার্নওভার কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হতে পারে।

মোবাইল সিম: মোবাইল সিমের ওপর থাকা ৩০০ টাকা কর বাতিল করা হতে পারে।

চিকিৎসাসামগ্রী: কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার করা হতে পারে, যার ফলে কিডনি ডায়ালাইসিস বাবদ খরচ প্রতিবারে প্রায় ৬০০ টাকা কমতে পারে।

লিপস্টিক: আমদানিকৃত লিপস্টিকের শুল্ক প্রতি কেজিতে ৪০ ডলার থেকে কমিয়ে ৩০ ডলার করা হতে পারে।

অন্যান্য সুবিধা: ১১৩টি পণ্যের ওপর আরোপিত ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর থাকা সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট এবং ৭ শতাংশ আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হতে পারে। মেট্রোরেল সেবাকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের পরিবর্তে ৩ মাস অন্তর অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে (তবে ভ্যাট প্রতি মাসেই জমা দিতে হবে)। এ ছাড়া রপ্তানি বাড়াতে বন্ড সুবিধার আওতা বাড়িয়ে যেকোনো খাতের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে।

অন্তরা/

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সাতটি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য বিশেষ পূর্বাভাসে এই সতর্কসংকেত দেওয়া হয়। 

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত (পুনঃ ১ নম্বর) দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এটি দেশের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।

অন্যদিকে, আগামী শুক্রবার (১২ জুন) ও শনিবার (১৩ জুন) একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। ওই দুই দিনেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কিছু স্থানে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্তরা/