রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই শুটারকে এখনো শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে শুটারদের মুখাবয়ব স্পষ্ট করা গেলেও শুক্রবার পর্যন্ত তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, সন্দেহভাজন দুই শুটারকে শনাক্তে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে চেষ্টা করছে র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) কর্মকর্তারা। এ ছাড়া সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এখনো তাদের নাম-পরচিয় বা ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সন্দেহভাজন আসামিদের শনাক্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।’
হত্যাকাণ্ডের মোটিভ কি ছিল- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক, আধিপত্য বা বিভিন্ন কিছু নিয়েই হতে পারে। তবে একজনকে গ্রেপ্তার করা গেলে মোটিভ কি ছিল তা জানা যাবে। মুসাব্বিরের পরিবারও খুব বেশি কিছু বলতে পারছে না। তদন্ত চলছে, আমরা চেষ্টা করছি।’
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আগের ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে অতি সূক্ষ্মভাবে দেখা হচ্ছে। শুটারদের গতিবিধি, অবস্থান, ঢোকার পথ, তাদের অন্য সঙ্গী বা সহযোগী কারা, তারা এলাকায় ঢুকে কারও সঙ্গে আড্ডা দিয়েছে কি না, ঘটনার পর কোন পথ দিয়ে পালিয়ে গেছে- সব বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। এতে কোথাও না কোথাও ক্লু পাওয়া যেতে পারে। এ পর্যন্ত মুসাব্বিরের পরিবারের সদস্য ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, রাজনৈতিক বন্ধু এবং যাদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক বিরোধ ছিল অথবা চলছিল, তাদের অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা বেশকিছু তথ্য দিয়েছেন। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার, পূর্বশত্রুতা, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার আলামত, সিসিটিভি ফুজেট, বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য সব কিছুর চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নতুন ফুটেজে সন্দেহভাজনদের মুখাবয়ব স্পষ্ট বোঝা গেছে, কিন্তু তাদের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, যারা গুলি চালিয়েছে, তারা ‘ভাড়াটে খুনি’। তবে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের পরিচয় শনাক্তে জোর চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্য শৈন্যু মারমা খবরের কাগজকে বলেন, ‘গুরুত্বের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। পুলিশের একাধিক দল তদন্তে চেষ্টা করছে।’
রাজধানীতে নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ
এদিকে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যার বিচারের দাবিতে কারওয়ান বাজারে বিক্ষোভ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। মিছিলটি কারওয়ান বাজার, বসুন্ধরা শপিংমলের পেছন দিয়ে ফার্মগেট হয়ে তেজগাঁও থানার সামনে অবস্থান নেয়। পরে সেখান থেকে মিছিলটি ঘুরে পুনরায় কারওয়ান বাজারে এসে শেষ হয়।
এর আগে, গত বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে তেজগাঁওয়ের স্টার কাবাবের পেছনে তেজতুরী বাজার এলাকার একটি গলিতে গুলিবিদ্ধ হন মুসাব্বির ও আবু সুফিয়ান মাসুদ। পরে তাদের উদ্ধার করে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিলে মুসাব্বির মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় আবু সুফিয়ানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন নিহত মুসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম।
ঢামেক সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ আবু সুফিয়ানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) বিভাগে রাখা হয়েছে। একটি গুলি তার বাম পায়ের উরু ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং পেটের ভেতরে একটি বুলেট এখনো রয়েছে।