মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর আওতায় বিভিন্ন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করে নীতিমালা জারি করেছে সরকার।
গত সোমবার ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’ শিরোনামে এই গেজেট জারি করা হয়। নীতিমালায় ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বেতন গ্রেড ও কতদিন ছুটি কাটাতে পারবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ প্রসঙ্গে জানিয়েছে, ২০০৬ সালের নীতিমালা যুগোপযোগী করে নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের উপস্থিতিতে দেশের আলেম-ওলামা ও ইমাম-খতিবদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা করা হয়।
নীতিমালায় দেশের মসজিদগুলোর খতিব ছাড়া অন্যান্য জনবলের গ্রেডভিত্তিক বেতনকাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবের বেতন নির্ধারিত হবে চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুসারে বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।
নীতিমালায় সিনিয়র পেশ ইমামকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী পঞ্চম গ্রেড, পেশ ইমামকে ষষ্ঠ ও ইমামকে নবম গ্রেডে বেতন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। প্রধান মুয়াজ্জিনকে দশম, মুয়াজ্জিনকে ১১তম, প্রধান খাদিমকে ১৫তম ও খাদিমকে ১৬তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নীতিমালায় মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের জন্য ২০তম গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী মসজিদে কর্মরত জনবলের প্রয়োজন বিবেচনায় সামর্থ্য অনুসারে সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ কল্যাণের স্বার্থে মাসিক সঞ্চয়ের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া চাকরি শেষে এককালীন সম্মানী প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিদের ছুটি সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিরা। এ ছাড়া পঞ্জিকাবর্ষে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ও প্রতি ১২ দিনে এক দিন অর্জিত ছুটির বিধান রাখা হয়েছে।
মসজিদের কোনো পদে নিয়োগের জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি থাকবে। কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ করা যাবে না। নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা, দায়িত্বাবলিসহ চাকরিসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করে নিয়োগপত্র প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে নীতিমালায়।
এ ছাড়া নারীদের জন্য মসজিদে শরিয়তসম্মতভাবে পৃথক নামাজের কক্ষ বা স্থান রাখার বিষয়ে কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির কলেবর বৃদ্ধি করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়েছে। তবে মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান বিবেচনায় এ কমিটির সদস্য সংখ্যা কমবেশি করার বিধান রাখা হয়েছে।
চাকরির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন কর্মরত যেকোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি। এ ছাড়া নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটির কথাও বলা হয়েছে।