গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে দিকনির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী ভবিষ্যতে দেশ পরিচালিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, ‘গণভোটের প্রার্থী আপনি, গণভোটের প্রার্থী আমি, আমরা সবাই গণভোটের প্রার্থী।’
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সম্মেলনে বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা আগামী দিনের সরকার পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।’
তিনি বলেন, ‘নিপীড়নমূলক, স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসন যাতে পুনরায় ফিরে না আসে, সে জন্য সবাইকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।’
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘গণভোট দেশের রাজনীতির গতিধারা পাল্টে দেবে।’
ধর্ম উপদেষ্টা জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ নির্বাচনে ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে দেশের ‘চেহারা পাল্টাবেন’ বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ যাবে’ এমন একটি বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা। কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।’
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরশাসনের অবসানের জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। এজন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে জুলাই অভ্যুত্থান, আর ‘না’ ভোট মানে ফ্যাসিবাদ। মাঝামাঝি কোনো অবস্থান নেই। নীরব থাকা মানে ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা।
ইমামদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী ও ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন। এছাড়া ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শামছুল আলম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন এবং তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন বক্তব্য দেন। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সহস্রাধিক ইমাম ও খতিব অংশ নেন।
জয়ন্ত/রিফাত/