সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য নির্বাচন পূর্ববর্তী ৪ দিন নিবিড় টহল পরিচালনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টের দোসর, দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য নির্বাচন পূর্ববর্তী চারদিন নিবিড় টহল পরিচালনা করতে হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট- ২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে প্রশাসনের একপাক্ষিক আচরণের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রার্থীরা এমন বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রায় ১ লাখ সেনা, দেড় লাখ পুলিশ, ৫ হাজার নৌবাহিনী সদস্য, ৩৭ হাজার বিজিবি, ১০ হাজার র্যাব, প্রায় ৫ হাজার কোস্ট গার্ড এবং প্রায় ৬ লাখ আনসার দায়িত্ব পালন করবেন। উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন আইজিপি বাহারুল, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ ও বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
উপদেষ্টা বলেন, চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় টহল কার্যক্রম বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে নিবিড়ভাবে পরিচালনা করতে হবে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে এমন এক মানদণ্ড স্থাপিত হবে, যা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে।
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ এমন উন্নত করতে হবে যাতে সবাই আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পারে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, নির্বাচন কমিশন, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, র্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ডসহ বিচারিক ও ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ সকল স্তরের বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে পারস্পরিক সুসম্পর্ক, সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ টহলসহ ‘সমন্বিত কার্যক্রম’ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি এসময় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গ্যাপ, বিচ্যুতি, ত্রুটি, বৈষম্য, অবহেলা, দ্বন্দ্ব বরদাস্ত করা হবে না মর্মেও জানান।
সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি নৈতিক চরিত্র বজায় রেখে কাজ করার জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আত্মসম্মান বজায় রেখে ইস্পাত দৃঢ়চিত্তে সকল বাধা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও প্রভাবিত করতে পারে দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীদের এমন যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ও কার্যক্রম কঠোর হস্তে দমন করার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
মতবিনিময় সভায় বরিশাল বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আঞ্চলিক/জেলা/উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বরিশাল বিভাগের প্রতিনিধিরা এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল উপ-পুলিশ কমিশনার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
পরে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বা অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে। সেখানে বডিওর্ন ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ তো থাকছেই।
গতবছর দুর্গাপূজায়ও এই অ্যাপের মাধ্যমে আমরা সাফল্য পেয়েছি। সুতরাং কেউ কোনো ধরনের অপতৎপরতা ঘটানোর চেষ্টা করলে পার পাবে না বলে জানান তিনি।
মঈনুল ইসলাম/সুমন/