সিগন্যাল ‘অমান্য করায়’ বগুড়ার আদমদীঘিতে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৬৬ জন যাত্রী।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে, এদিন সকালে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বাগমারি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সান্তাহার স্টেশন পার হয়ে তিলকপুর স্টেশনের দিকে যাচ্ছিল। ২৮৬ কিলোমিটার এলাকায় (বাগমারি) রেললাইন পরিবর্তনের কাজ চলায় প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা সেখানে ব্যানার ফ্ল্যাগ ও কশান (সতর্কবার্তা) মেসেজ দিয়ে রেখেছিলেন। স্টেশন থেকেও লোকো মাস্টারকে (চালক) কশান অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লোকো মাস্টার সেই সিগন্যাল অনুসরণ না করায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনের ৯টি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে।
দুর্ঘটনায় আহত ৬৬ জনের মধ্যে ২০ জন নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে ৪০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৬ জন আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান সংকেত প্রকৌশলী।
দুর্ঘটনার ফলে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন যোগাযোগে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার রাতে চিলাহাটি এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সঠিক সময়ে ছেড়ে গেছে। বুধবার রাতে উদ্ধারকাজ শেষ না হলে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসকে সান্তাহার থেকে বিকল্প পথে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দ্রুতযান এক্সপ্রেস পথিমধ্যে আটকা পড়তে পারে। এ ছাড়া সেকশন ক্লিয়ার না হওয়া পর্যন্ত পঞ্চগড় এক্সপ্রেস আসতে পারবে না। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া নীলসাগর ও একতা এক্সপ্রেসের সময়সূচিতে কিছুটা বিপর্যয় বা বিলম্ব হতে পারে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
জয়ন্ত/এসজি/