বক্তব্য রাখছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার ফারজানা শারমীন। ছবি: খবরের কাগজ
নারী ও শিশুর সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহন করা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে নীতিনির্ধারক, সুশীল সমাজ ও সামাজিক সংগঠনকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার ফারজানা শারমীন।
বুধবার (১০ জুন) প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মক্ষেত্র : নারীর নিরাপদ শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে জাতীয় কাঠামো প্রণয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
বিশ্বব্যাংকের আমব্রেলা ফ্যাসিলিটি ফর জেন্ডার ইকুয়ালিটি, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের থিংকিং, ইনোভেশন অ্যান্ড জেন্ডার ল্যাবের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
ফারজানা শারমীন বলেন, নারী ও শিশুর সুরক্ষায় কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই যথেষ্ট নয়, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। আমরা সবসময় নির্যাতনের পরে আইনগত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের ব্যাপারে তৎপর হই। কিন্তু অপরাধের পেছনের মূল কারণগুলো অনুসন্ধান করি না এবং অপরাধ নিরসনে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করি না। অপরাধীরা এই সুযোগ ব্যবহার করছে। আমাদেরকে এখন শেকড়ে হাত দিতে হবে। আইন ও নীতির কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি এখন সবচে’ বেশী প্রয়োজন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় মনোযোগ দেওয়া।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ‘সাধারণ মেয়ে’ কবিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রতি একটি কন্যা শিশুকে তার নিজের বাবা ও চাচা উপর্যুপরি নির্যাতন করে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শিশুটি শারিরিকভাবে চিকিৎসা সেবা গ্রহনেরও উপযোগী ছিল না। রাস্ট্র নিজ দায়িত্বে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে ইচ্ছুক হলেও বিকৃত সামাজিক বাস্তবতার কারণে স্বয়ং পরিবার রাস্ট্রকে সেই সুযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এই ঘটনায় সামাজিক ও নৈতিক স্থলনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এই সমস্যা আইনের দূর্বলতার কারণে নয়, বরং গলদটা আমাদের সামাজিক মনস্তত্তে¡ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার ঘাটতিতে। তাই নীতিনির্ধারক, সুশীল সমাজ ও সামাজিক সংগঠনকে শুধুমাত্র আইনী লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজ থেকে এই বিকৃত মানসিকতা উপড়ে ফেলতে সমন্বিত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্যাথরিন ব্রিন কামকং, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট সাবাহ মইন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের থিংকিং, ইনোভেশন অ্যান্ড জেন্ডার ল্যাবের প্রধান ড. সায়েদ শায়েখ ইমতিয়াজ। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন ড. সোমা দে।
এসএন/