ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শাকিরার সুরের মূর্ছনায় বিশ্বকাপের বর্ণিল উদ্বোধন দর্শকের ভালোবাসাই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি: সূচরিতা বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দলে তাওহিদ-রবিউল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা বাংলাদেশের খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস পরাশক্তিরা যেদিন মাঠ ছেড়েছিল কান্নাভেজা চোখে দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত আবারও রক্তাক্ত কাশ্মীর, সংঘর্ষে নিহত ১৬ সরকারের এই বাজেট ঐতিহাসিক প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ ক্রিকেটার নাসির-তামিমাকে খালাস দেওয়ার পেছনে বিচারকের পর্যবেক্ষণ জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা বাজেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ: ইসি পাবে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা বড় বাজেটের বোঝা কী জনগণের ঘাড়েই, প্রশ্ন বাসদের আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁপা’ বাজেটে বৈষম্য বাড়বে: সিপিবি জুনের শেষে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: ডেপুটি স্পিকার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টাইগারদের ওয়ানডে সিরিজ জয় যশোরে স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও নদী রক্ষায় ১০ হাজার কোটির বেশি টাকার মহাপরিকল্পনা আইসিটিতে লক্ষ্য জিডিপির ১০ শতাংশ, স্টার্টআপে বিশেষ গুরুত্ব ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা সমর্থক বিশ্বকাপ উন্মাদনা যেন দুর্ঘটনার কারণ না হয় মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের বাস্তবতা প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত যাদের পাশে বসলে দুঃখ কমে, শান্তি বাড়ে বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি খরচ বাড়লে বিপাকে পড়বে সাধারণ জনগণ
Nagad desktop

গণভোটসহ ২০ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
গণভোটসহ ২০ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের গঠিত বিশেষ কমিটি।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে সংসদে এই প্রতিবেদন উত্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়েছে, আলোচিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ৯৮টি অবিকল বহাল রাখা হয়েছে, ১৫টি সংশোধন করে আইন হিসেবে গ্রহণ এবং ২০টি বাতিল বা বিলুপ্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রাত পৌনে ৮টার দিকে কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রতিবেদনটি সংসদে উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে আইনগত কাঠামোর মধ্যে আনতেই এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাতিলের তালিকায় থাকা ২০টির মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত সংসদে বিল আকারে উত্থাপন না করে ভবিষ্যতে নতুন করে আরও শক্তিশালীরূপে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। আর বাকি চারটি অধ্যাদেশ স্থায়ীভাবে রহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের ওপর এখন সংসদে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বড় অংশই আইন হিসেবে বহাল রাখার পথে এগোচ্ছে। কমিটি বলেছে, ৯৮টি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সংসদে উত্থাপন করে পাস করা যেতে পারে।

এদিকে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশ জারির পর পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাওয়ার বিধান রয়েছে। সে হিসাবে এই ২০টি অধ্যাদেশ আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে ল্যাপস হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো অধ্যাদেশগুলোর আলোকে বিল উত্থাপন ও পাস না হলে এগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ১২টি অধ্যাদেশে জামায়াতের তিন সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও গাজী নজরুল ইসলাম নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। বাতিল হওয়া কিছু অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল আকারে সংসদে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

১৬টি বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ
বিশেষ কমিটি ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। সেগুলো হচ্ছে–গণভোট অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন), মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন), কাস্টমস (সংশোধন), আয়কর (সংশোধন), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন), গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (দ্বিতীয় সংশোধন), দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন), বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন), বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন), গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন), মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন, মাইক্রো ফাইন্যান্স ব্যাংক এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ। 

বিশেষ কমিটির মতে, এসব অধ্যাদেশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনই আইন হিসেবে পাস করার মতো পর্যাপ্ত পর্যালোচনা হয়নি। তাই এগুলো আপাতত বাতিল হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ভবিষ্যতে নতুন করে বিল আকারে সংসদে আনতে পারে।

৪ অধ্যাদেশ স্থায়ীভাবে বাতিলের প্রস্তাব
বিশেষ কমিটি চারটি অধ্যাদেশ সরাসরি রহিত করার সুপারিশ করেছে। এগুলো হলো–জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশোধন অধ্যাদেশ। কমিটির মতে, এসব অধ্যাদেশ বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং আইন হিসেবে বহাল রাখার প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে আইন হিসেবে প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। সেগুলো হলো–নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন), ব্যাংক রেজল্যুশন, সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন), কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (দ্বিতীয় সংশোধন), জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ শ্রম অধ্যাদেশ (সংশোধন), মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ দমন অধ্যাদেশ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন), বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ।

বিরোধী দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’
প্রতিবেদনটি সর্বসম্মত হলেও ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটির বিরোধীদলীয় সদস্যরা দ্বিমত পোষণ করেছেন এবং ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করেছেন। তাদের আপত্তির জায়গাগুলো হলো, অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা চারটি অধ্যাদেশ। অধ্যাদেশগুলো হলো–জেলা পরিষদ (সংশোধন), উপজেলা (সংশোধন), স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন), স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ। দুটি অধ্যাদেশ সংশোধনের সুপারিশ করা হয়। বাতিল করে পুনরায় বিল আকারে আনার তালিকায় থাকা ১১টি অধ্যাদেশ। স্থায়ীভাবে বাতিলের তালিকায় থাকা তিনটি অধ্যাদেশ। তাদের মতে, কিছু অধ্যাদেশ অপরিবর্তিতভাবে বহাল রাখা বা বাতিলের সিদ্ধান্ত যথাযথ নয়।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের কুদরত-ই-ইলাহী পনির বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়ের আলোকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহে অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ সংবিধানবিরোধী ও বেআইনি। অতএব উক্ত অধ্যাদেশসমূহ আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ধারাবাহিক তিনটি বৈঠকে অধ্যাদেশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সংসদীয় কমিটির এই প্রতিবেদনটি এরপর সংসদে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য গৃহীত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইনি পদক্ষেপগুলোকে স্থায়ী রূপ দিতেই এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আবারও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক এ বিষয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, সংসদের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকারি দলের সদস্যের আনা মুলতবি প্রস্তাব আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। কার্যপ্রণালি বিধির ৬৫(২) অনুযায়ী প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আগামী ৫ এপ্রিল এ বিষয়ে ২ ঘণ্টা আলোচনা হবে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে গণভোটের ফলাফল কার্যকর করার বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনও এখনো আহ্বান করা হয়নি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে সংসদে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিপুলসংখ্যক অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সংসদীয় কমিটির এই প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব অধ্যাদেশের মধ্যেই রয়েছে নির্বাচন, প্রশাসন, মানবাধিকার, অর্থনীতি ও বিচারব্যবস্থাসংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত। একদিকে সংসদীয় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অনেক অধ্যাদেশ স্থায়ী আইন হওয়ার পথে এগোচ্ছে, অন্যদিকে বিতর্কিত বা অসম্পূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল বা পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে এসব ইস্যুতে সংসদে সামনে যে আলোচনা হতে যাচ্ছে, তা কেবল আইনি কাঠামো নয়, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক রূপান্তরের দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাব (এমসিসি) সফলভাবে আয়োজন করেছে তাদের উদ্বোধনী প্যানেল ডিসকাশন ইভেন্ট “আনস্ক্রিপ্টেড ১.০”।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিইউপির স্বাধীনতা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন সকাল ১১টায় শুরু হয়ে বিকেল প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে শেষ হয়।

বাংলাদেশের মিডিয়া ও বিনোদন জগতের চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে একত্রিত করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সৃজনশীলতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং জনসম্মুখে কাজ করার বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা ও অকপট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

“একজন ক্রিয়েটরের মনে কী চলে?”—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ‘আনস্ক্রিপ্টেড ১.০’ এমন একটি পরিসর তৈরি করে, যেখানে সাফল্যের বাহ্যিক গল্পের বাইরে গিয়ে সৃজনশীল প্রক্রিয়া, প্রভাব এবং পাবলিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার দায়িত্ব নিয়ে নির্ভার আলাপের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে এমসিসির সাধারণ সম্পাদক শানজিন সাইমা শারিতা এ ভাবনার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। এছাড়া ক্লাবের সভাপতি নিগার ইসরাত এবং অনুষদ মডারেটর প্রভাষক ইসরাত জাহান ঐশী বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাইমা ফেরদৌস কথা ও সায়রা নূর। প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন মুস্তাক শাহরিয়ার শুভ ও তানজিমা নুসরাত চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিইউপির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ হাসান তারিক, পিপিএম, পিপিএমএস, পিএসসি। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেলিস্টদের স্বাগত জানান এবং এমসিসি পরিবারের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

এ আয়োজনে অংশ নেন—

যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপক আহমেদ রেজা
ট্রাভেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ‘অপূর্ব শাহ’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মেহেদী হাসান অপূর্ব
জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল সাবিলা নূর
চ্যানেল আইয়ের ব্রডকাস্টার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দীপ্তি চৌধুরী

আলোচনার উল্লেখযোগ্য দিক

আলোচনায় উঠে আসে বর্তমান সময়ে মিডিয়া জগতে প্রবেশের চ্যালেঞ্জ, অনলাইন সমালোচনা মোকাবিলা, দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ক্যামেরার সামনে ও পেছনের ব্যক্তিত্বের পার্থক্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

দীপ্তি চৌধুরী জীবনের অনিশ্চয়তা মোকাবিলা প্রসঙ্গে বলেন, ভাগ্য সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু সেই সুযোগ ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায় ও মানসিক দৃঢ়তা।

মেহেদী হাসান অপূর্ব তরুণ ক্রিয়েটরদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান মিডিয়া পরিবেশে নিজের স্বকীয়তা ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি শিক্ষাজীবনে ভুল করতে ভয় না পেয়ে শেখার মানসিকতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। নিজের যাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি শুধু প্রক্রিয়াটা উপভোগ করার চেষ্টা করছি।”

আহমেদ রেজা আত্ম-অনুসন্ধানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্রত্যেকের উচিত নিজের দক্ষতা ও আগ্রহের ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করা। তিনি জানান, নিজের কথা বলার দক্ষতাকে চিনতে পেরে বিতর্কচর্চার মাধ্যমে তা বিকশিত করেছেন।

সাবিলা নূর উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জীবনে কখনো কখনো সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তিনি তরুণদের নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

সমাপনী পর্ব

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ হাসান তারিক প্যানেলিস্টদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন। পরে অনুষ্ঠিত হয় একটি সম্মিলিত ফটোসেশন।

‘আনস্ক্রিপ্টেড ১.০’ ছিল এমসিসির প্রথম বড় প্যানেল ইভেন্ট। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জ্ঞানভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাব (এমসিসি) সম্পর্কে

বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাব (এমসিসি) হলো বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধীন পরিচালিত একটি শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন সংগঠন। ক্লাবটি একাডেমিক শিক্ষা ও দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল এবং মূলধারার মিডিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রকাশ, পেশাগত বিকাশ এবং শিল্প-সংযোগের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করে।

এসএন/

দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউরোপীয় মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল সিলেটের করিমগঞ্জ সীমান্তবর্তী ভারতের শিলচরে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।

সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকার কিছু কিছু জায়গা থেকে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে রোববার (৭ জুন) রাত ১১টা ৩৭ মিনিটের দিকে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূকম্পনে কাঁপে সারা দেশ। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র স্থল ছিল ভুটানে।

এসএন/

চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রতিক্রিয়া সরকারের এই বাজেট ঐতিহাসিক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
সরকারের এই বাজেট ঐতিহাসিক
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের মূল্যস্ফীতি কমানো, খাদ্য নিরাপত্তা ও সাপ্লইচেইন ইকোসিস্টেম বজায় রেখে ব্যবসাবান্ধব এবং জনতুষ্টিমূলক বাজেট প্রদান করায় চেম্বারের নেতৃবৃন্দ ধন্যবাদ জানান। জনগণের উপর ভ্যাট ও করের চাপ কমিয়ে করজাল বাড়ানো এবং দেশি-বিদেশী উৎস থেকে অর্থ সংস্থানকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের এই বাজেটকে ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেন চেম্বার নেতারা।  

বাজেটে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও দেশি-বিদেশী বিনিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা নিঃসন্দেহে চট্টগ্রামে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দুরত্ব ৮০ কি.মি. কমানোর সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্প কারখানায় নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আবাসনসহ সকল ধরণের ইউটিলিটি সেবা বাড়ানোর মাধ্যমে বিনিয়োগ উপযোগী করার আহবান জানান নেতারা। 

বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় বৈদেশিক ঋণের চেয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস গুরুত্ব দেয়াকে দেশীয় সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। বাজেটে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়ন তথা শিক্ষা খাতকে।  

ব্যক্তি করদাতাদের টার্নওভার করের আওতামুক্ত সীমা ৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি এবং ব্যাংক স্থিতির ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক অব্যাহতির সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে, এতে সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখতে উৎসাহী হবে। এছাড়া বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনির উপকারভোগীদের ভাতার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ড জনপ্রতি ২৫০০ টাকা, প্রতিবন্ধী ভাতা, পর্যায়ক্রমে সকল কৃষককে কার্ড প্রদান এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, তরুণ উদ্যোক্তাদের জামানত ছাড়া ১০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা, বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় গমনেচ্ছুদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদান যুগান্তকারী পদক্ষেপ। 

বাজেটে কর্পোরেট কর ব্যবস্থা সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করায় অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও ব্যবসার অনুমোদনযোগ্য খরচ বাড়ানো এবং কর্পোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা ইতিবাচক। পাবলিক ট্রেডেড কোম্পানীর করহার শর্তসাপেক্ষে ২২.৫%, পাবলিকলি ট্রেডেড ব্যাংক, বীমা ও  ফাইন্যান্স কোম্পানীর ক্ষেত্রে ৩৭.৫%, পাবলিকলি ট্রেডেড নয় কোম্পানীর ক্ষেত্রে ৪০%, মোবাইল অপারেটর কোম্পানীর জন্য ৪৫%, বাংলাদেশী অনিবাসী করদাতাদর জন্য ৩০%, ট্রাস্ট ফার্ম ও ব্যক্তিসংগ প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৭.৫%, সমবায় সমিতি ২০%, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০% করহার নির্ধারণ করা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করহার ১০% করায় উদ্যোক্তারা শিক্ষা খাতে আগ্রহী হবে। 

এছাড়া আমদানিকৃত ১১৩টি পণ্যের রেগুলার ডিউটি প্রত্যাহার, ৯টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং ৬৯টি পণ্যের কাস্টমস ডিউটি ২৫% থেকে ১৫% নির্ধারণ, শিশু খাদ্য প্রস্তুতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কহ্রাস, সকল মসলা আমদানিতে রেগুলেটরী শুল্ক ও খেজুর আমদানিতে রেগুলেটরী শুল্ক ৫% প্রত্যাহার, পোল্ট্রি, ডেইরী ও মৎস্য খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করেন নেতারা। 

বাজেটে জ্বালানী সক্ষমতা বাড়াতে এবং সৌর বিদ্যুৎকে উৎসাহিত করতে সোলার প্যানেল, লিথিয়াম ব্যাটারীসহ আমদানিকৃত সোলার যন্ত্রপাতিতে রেয়াতি সুবিধা দেয়ায় জ্বালানী সক্ষমতা বাড়বে এবং সেমি কন্ডাক্টর শিল্পে রেয়াতি সুবিধা প্রদান এবং ইলেক্ট্রিক ভেহিকেল (ইভি) আমদানিতে অগ্রিম আয়করের পরিমাণ কমানোর ফলে একদিকে যেমন জ্বালানীর উপর চাপ কমবে, তেমনি সৌর বিদ্যুৎ শিল্প এবং সেমি কন্ডাক্টর শিল্পে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে। ক্যান্সার ঔষধ উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদানে ক্যান্সার প্রতিরোধক ঔষধ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ৫% অগ্রিম কর মওকুফ করায় সাধারণ রোগীরা স্বস্তি পাবেন। 

সরকার আইটি সেক্টরকে উৎসাহিত করতে এবং ফ্রিল্যান্সাররা তাদের আয় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে আনার জন্য কর অব্যাহতি সুবিধা, কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে আয়কে করমুক্ত করা, স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য করা, এসএমই উদ্যোক্তাদের টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সীমা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে যেকোন উৎপাদানমুখী শিল্প পর্যটন বা ক্রীড়া ক্ষেত্রে স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি বিনিয়োগের উপর ১ম বর্ষে ৬০%, ২য় বর্ষে ৪০% হারে ত্বরান্বিত অবচয় সুবিধা প্রদান করায় দেশে তরুণ প্রজন্ম, নারী এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন স্থানে শিল্প কারখানা বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে। 

দেশের প্রধান চট্টগ্রাম বন্দরকে গতিশীল করতে এবং পণ্যজট শূন্য করতে অফডক ও আইসিডি খাত, লজিস্টিক্স, বেসরকারি বন্দর ও টার্মিনাল অপারেটর বিষয়ক বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও সংশোধন করার মাধ্যমে চট্টগ্রামে বন্দরকেন্দ্রিক দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে।  

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এণ্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, আমাদের সাধ আছে, সাধ্য কম। তারমধ্যেও যে বাজেট হয়েছে সেটা সন্তোষজনক। বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। আমার মনে হয়, স্বাধীনতার পর থেকে এমন সিদ্ধান্ত অন্য কেউ নিয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, এই বাজেট সকলের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

বাজেটের চাপ সাধারণ মানুষের উপর পড়বে: শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিক্রিয়া 

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, বাজেট বেশি বড় হয়নি। বর্তমান সরকার একটি সময় উপযোগী বাজেট দিয়েছে। কিন্তু বাজেটে যাই হোক না কেন বাজেটের চাপ সাধারণ মানুষের উপর পড়বে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেছে। এটি দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা হল- রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দেশিয় ঋণ ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্পের সুশাসন নিশ্চিত করা, বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা। 

তিনি বলেন, সরকারের উচিত ব্যাংকের সমস্যা সমাধান করা। এলসি তরান্বিত করা। বন্দরের ট্যারিফ অনেক বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেটি কস্টবেইজ করা উচিত ছিল। কিন্তু বন্দরের চেয়ারম্যান আমাদের বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের সাথে তুলনা করে করা হয়েছে। বুঝতে হবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতি আর আমাদের অর্থনীতির বৃহৎ তফাৎ রয়েছে। আমাদের দেশে যেদিকেই মূল্য বৃদ্ধি করা হোক সেটি অবশ্যই গিয়ে পড়ে ভোক্তাদের উপর। কারণ ব্যবসায়ীরা কেউ লোকসান দিয়ে ব্যবসা করবে না। আসল কথা হলো ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি করে দিন। 

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ও ফারুক ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার ফারুক আহমেদ বলেন, এবারের বাজেট দেখে মনে হচ্ছে দৈনন্দিন জিনিসপত্রের দাম কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে মসলা, খেজুর এবং কিছু ফলের দাম কমবে। সবমিলিয়ে মনে হচ্ছে এটা একটা জনবান্ধব বাজেট হতে পারে। এই বাজেটটা নিয়ে আমরা অনেক আশাবাদী। দেখা যাক, সামনে কী হয়। 

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, বাজেটে সামগ্রিকভাবে সকল খাতই আলোচনায় এসেছে। তবে মূল প্রশ্ন হলো—এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে কীভাবে? বর্তমান এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) কি আরও বেশি রাজস্ব সংগ্রহে সক্ষম? এ বিষয়েও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।  শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর আরও বেশি গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তরুণরা কর্মসংস্থানের জন্য আরও প্রস্তুত হতে পারে। পর্যটন খাতের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের বর্তমান ব্যবস্থা এখনো পর্যটনবান্ধব নয়। 

প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘কথার ফুলঝুরি ও রাজনৈতিক চমকবাজি’ বলে আখ্যায়িত করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট ঘোষণার পর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বিবৃতিতে জাসদ দাবি করে, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট এবং ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অর্জনযোগ্য নয়। দলের মতে, অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও রাজস্ব প্রশাসনের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বাস্তবসম্মত নয়।

জাসদ আরও বলে, বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হলেও তা পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিকে আরও ঋণনির্ভর করে তুলতে পারে। এতে ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ বাড়বে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দলটি মনে করে, ৬০টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব ইতিবাচক হলেও বাজারে সিন্ডিকেট ও সুশাসনের অভাব থাকলে এর সুফল ভোক্তারা নাও পেতে পারেন। একইভাবে মূল্যস্ফীতি ৯.৪২ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যকেও অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছে তারা।

বিবৃতিতে জাসদ সরকারের প্রতি বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ, আইনের শাসন ও সুশাসন নিশ্চিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। দলটির মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

 রাজু/এসএন

জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে সংসদ সচিবালয় কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সংসদের পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রায় ২৯১ কোটি টাকা) বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে পরিচালন (রাজস্ব) খাতে ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৭০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ সচিবালয় কমিশনের ৩৭তম বৈঠকে এ বাজেট প্রাক্কলন অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সংসদ নেতা তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই বরাদ্দ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেও এটি সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ নয়। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ ৩৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ছিল ৩২৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ কমে ২৩২ কোটি টাকায় নেমে আসে। সেই হিসাবে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেশি। সংসদ সচিবালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা, আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত সহায়তা এবং অবকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণে এ বরাদ্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও নতুন অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও এটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সর্বোচ্চ ৩৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকার রেকর্ড অতিক্রম করতে পারেনি। ফলে প্রস্তাবিত বাজেটটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এলিস/এসএন