আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং দেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে তা অনুমোদিত হয়। এর মাধ্যমে বিদ্যমান ‘ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০’ রহিত করে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রবর্তন করা হলো।
নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আমানত বীমার সীমা বৃদ্ধি। আগে যেখানে একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সুরক্ষা পেতেন, সেখানে এখন তা বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। ফলে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে আমানতকারীরা এই সীমা পর্যন্ত সুরক্ষা পাবেন।
আইন অনুযায়ী, দেশে পরিচালিত সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসতে হবে। প্রথমবারের মতো ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকেও এই ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৮ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে সকল প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে সদস্য হতে হবে।
বিলের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে দুটি পৃথক তহবিল গঠন করা হবে—একটি ব্যাংক কোম্পানির জন্য এবং অন্যটি ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য। এই তহবিলগুলো সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ট্রাস্টি বোর্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
তহবিল গঠন হবে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রদেয় প্রিমিয়ামের মাধ্যমে, যা প্রতি তিন মাস অন্তর পরিশোধ করতে হবে। প্রিমিয়াম পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিমানা বা আমানত গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে।
দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে আমানতকারীদের তালিকা জমা দিতে হবে এবং পরবর্তী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে। এই আইনের মাধ্যমে আর্থিক খাতে জনগণের আস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এলিস/এসএন