জামালপুরে কারাবন্দি অবস্থায় জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এস এম জিয়াউল হক জিয়া (৫৪) এর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুররণ করেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জামালপুর জেলা জেলসুপার মোহাম্মদ শফিউল আলম।
জিয়াউল হক জিয়া জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং এছাড়াও তিনি দিগপাইত ধরনীকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
জানা গেছে, তিনি দিগপাইত ধরনীকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি থাকাকালীন সময়ে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের ঘটনা ঘটে। শিক্ষক নিয়োগের অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পরে তাকে গত ১৫ জানুয়ারি জেল হাজতে প্রেরণ করে আদালত।
জামালপুর জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার নববর্ষ উপলক্ষ্যে জেলা কারাগারে দুপুরে উন্নত খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। জিয়াউল হক জিয়া দুপুর ১ টার দিকে খাবার খায়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকে তিনি অসুস্থবোধ করেন। তার শরীরে রক্তসঞ্চালন বেড়ে যায়। পরে দুপুর ২ টার দিকে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি ৫টা পর্যন্ত চিকিৎসা নেন। পরে তার শারীরিক অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার করে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জামালপুর জেলা কারাগারের সহকারী সার্জন ডা. শামীম রেজা বলেন, নিহতের রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল। পরে তাকে দ্রুত জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, দুদকের একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি জামালপুর জেলা কারাগারে ছিলেন। কাল দুপুরে তিনি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেইখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে তার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। সুরতহাল, ময়নাতদন্ত শেষে সকল আইনি প্রক্রিয়ার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আসমাউল আসিফ/এসএন