ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পটিয়ায় যুবক খুন কাপ্তাই হ্রদে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর  মৃত্যু শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁতীদলের আলোচনা সভা সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ১০ জুলাই জবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রকাশ্যে মানববন্ধন পটিয়া প্রেস ক্লাব কার্যালয় দখলচেষ্টার অভিযোগে থানায় অভিযোগ অনার্স কোর্স থেকে বাংলা ও ইতিহাস বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী ‘শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা’ মানিকগঞ্জে পতাকা টাঙাতে গিয়ে ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু সিংড়ায় তিন কুকুর টেনে তুলল মায়ের বস্তাবন্দি মরদেহ! কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত? ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াত ইসলামও ইসলাম নয় শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় বিএনপি নেতার সাফাই নারায়ণগঞ্জে ময়লার গাড়িরচাপায় ছাত্রদল নেতাসহ নিহত ২ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ সহায়তা দেবে জাপান ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় পদ্মা সেতুতে সৌরবিদ্যুতের ইতিবাচক প্রভাব, এক মাসেই সাড়ে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয় বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে বয়স বৃদ্ধি ও বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোর সুপারিশ হেডফোন লাগিয়ে হাঁটার সময় ট্রেনের ধাক্কায় কিশোর নিহত গাজীপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গ্রেপ্তার সিলেটে স্কুলছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু, মরদেহর ময়নাতদন্ত না করতে চিরকুট! রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ: এনবিআরের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত? ভূমিকম্পে ক্ষতির বড় কারণ শুধু কম্পন নয়, বরং খারাপ মানের ডিজাইন ও নির্মাণ পাকিস্তানে টিটিপি’র হামলায় ৬ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, শৃঙ্খলা ফেরাতে ৬ নির্দেশনা জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ঢাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সালাম চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে ১৪৯৬ কোটি টাকা জরিমানা: অর্থমন্ত্রী ঝিনাইদহে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু
Nagad desktop

হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, শঙ্কার বার্তা দিল ডব্লিউএইচও

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০২ পিএম
হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, শঙ্কার বার্তা দিল ডব্লিউএইচও
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক উদ্বেগজনক অধ্যায় তৈরি করেছে হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) এই রোগে এবং এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে হামে ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪০ জনে, যার মধ্যে ৪২ শিশুর মৃত্যু হামে এবং ১৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিকে জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

নতুন করে আক্রান্ত ১ হাজার ২১৫ জন
গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ এপ্রিল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ২১৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ১৭২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। তাদের মধ্যে ৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তারা সবাই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে মোট ২৯ হাজার ৫৪৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে, যার মধ্যে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ২৩১ জন। এই সময়ের মধ্যে সন্দেহজনক রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১৯ হাজার ৭০৫ জন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ হাজার ৫২৭ জন।

সংক্রমণের বিস্তার ও ভৌগোলিক চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। অর্থাৎ দেশের ৯১ শতাংশ জেলাই এখন হামের ঝুঁকিতে। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ঢাকা বিভাগে, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ২৬৩ জন, যা দেশের মোট সংক্রমণের একটি বড় অংশ। বিশেষ করে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকা–ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও এখন সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। ঢাকার বাইরে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগেও রোগীর চাপ বাড়ছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ১৯৮ জন এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগভিত্তিক হিসেবে ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এখানে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ১২৩ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মিলিয়ে মোট ১২১ জন রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। অন্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহীতে ৫ হাজার ৬৩৭ জন এবং চট্টগ্রামে ৩ হাজার ৯৩২ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন। 

আক্রান্তের ধরনে আশঙ্কাজনক তথ্য
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী আক্রান্তদের মধ্যে ৯১ শতাংশই ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু। তবে হাসপাতালের তথ্যে দেখা যায়, চিকিৎসাধীনদের ৭৯ শতাংশই ৫ বছরের কম বয়সী। এর মধ্যে একটি বড় অংশ (৩৩ শতাংশ) এমন শিশু যাদের বয়স ৯ মাসও হয়নি, অর্থাৎ যারা এখনো নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসার বয়সই অর্জন করেনি।

জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, যারা মারা যাচ্ছে তারা প্রধানত টিকা না পাওয়া দুই বছরের কম বয়সী শিশু। এটি প্রমাণ করে যে, শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

কেন এই আকস্মিক প্রাদুর্ভাব?
বাংলাদেশ একসময় হাম নির্মূলের পথে অনেকটা এগিয়ে গেলেও ২০২৪-২৫ সালে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতি সেই অগ্রযাত্রাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালের পর দেশব্যাপী বড় কোনো সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি না থাকা এবং নিয়মিত টিকাদানে শৈথিল্যের কারণে বিপুলসংখ্যক শিশু সুরক্ষাহীন রয়ে গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক পরামর্শক ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে তাতে সরকারের উচিত দ্রুত ‘জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ ঘোষণা করা এবং টিকাদান কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা।

রোগতত্ত্ব ও ঝুঁকি: যা জানা জরুরি
হাম কেবল সাধারণ সর্দি-জ্বর নয়, বরং বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ানো ঘাতক ব্যাধি। সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি ও সর্দি দেখা দেয়। শরীরে বিশেষ ধরনের ফুসকুড়ি ওঠে। এই রোগ নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ) বা অন্ধত্বের মতো স্থায়ী জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা বা ভিটামিনের ঘাটতি থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি।

সীমান্ত ঝুঁকি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও মায়ানমারের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত থাকায় এর প্রাদুর্ভাব শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, বাইরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। মায়ানমারে চলমান সংঘাত ও টিকাদানের অভাব এবং ভারতের সীমান্তবর্তী ব্যস্ত বন্দরগুলোর মাধ্যমে এই ভাইরাস সহজেই আন্তর্জাতিক সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ডব্লিউএইচও। এ কারণে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি তৎপরতা ও সুপারিশ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ৩০ মার্চ থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি অনুমোদন করেছে জাতীয় টিকাদান কারিগরি কমিটি (এনআইটিএজি)। ৫ এপ্রিল থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা কমাতে ভিটামিন এ ক্যাপসুল প্রদান করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দাবি করেছে, গত ৫ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ শতাংশ অর্থাৎ ৬২,৬৮,৪২৮ জনকে এই টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১০ লাখ ৫৫ হাজার ২৫৫ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা ওই দিনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ শতাংশ। বিভাগীয় পর্যায়ে রাজশাহীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি (১০৩ শতাংশ) সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৬ গুণ বেশি (৫৯৮ শতাংশ) টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে, যদিও সামগ্রিক পরিসরের দিক থেকে কুমিল্লা (১৪০ শতাংশ), গাজীপুর (১২৬ শতাংশ) ও রংপুরে এগিয়ে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশনে টিকাদানের হার তুলনামূলক কম (৮১ শতাংশ) লক্ষ করা গেছে। 

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘কেবল কর্মসূচি চালু করাই যথেষ্ট নয়; বরং প্রতিটি পৌর এলাকায় টিকার কভারেজ অন্তত ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত শনাক্তকরণ প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।’

অনার্স কোর্স থেকে বাংলা ও ইতিহাস বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
অনার্স কোর্স থেকে বাংলা ও ইতিহাস বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

অনার্স কোর্স থেকে বাংলা, দর্শন ও ইতিহাসের মতো মৌলিক বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ সংক্রান্ত ছড়ানো গুজবের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায় অনার্স কোর্স থেকে বাংলা, দর্শন ও ইতিহাস বাদ দেওয়ার মতো কোনো আলোচনা আমাদের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কোথাও হয়নি। এমনকি আমার জানামতে এমন কোনো প্রস্তাবও নেই। এগুলো পুরোপুরি ভিত্তিহীন তথ্য।’

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের বর্তমান সংস্কার ও অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা মূলত কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছি। যুগের চাহিদা এবং বৈশ্বিক বাজারের যে চাহিদা, সেই অনুযায়ী নতুন নতুন সাবজেক্ট ও কোর্স কারিকুলামে যুক্ত করা হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমির মধ্যে সংযোগ কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, বাজার চাহিদার আলোকে নতুন কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা বা কারিকুলামের আধুনিকায়নের সাথে ঐতিহ্যবাহী ও মৌলিক বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক কাউন্সিলে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই কারিকুলাম পরিমার্জন ও শিক্ষক সংকট দূরীকরণের কাজ চলমান রয়েছে।

ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

নাঈম/

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াত ইসলামও ইসলাম নয়

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াত ইসলামও ইসলাম নয়
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ইসলামের দোহাই দেওয়া সব বিষয়ে মোটেও সমীচীন নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়।

কারও নাম উল্লেখ না করে ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একবার দখল করা ব্যাংক বেদখল হয়ে যাবে, তার যে যাতনা হচ্ছে সেটা তারা বুঝতে পারছেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ‘ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধে’ আনা একটি নোটিশের ওপর আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী এই নোটিশ দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখন বলা হচ্ছে আপনারা ব্যাংকের মালিক না। জামায়াতে ইসলাম ব্যাংকের মালিক না। আবার বলছে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। আমাদের জনাব ফখরুল ইসলাম ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একবার যেই ব্যাংক আজান দিয়ে, তকবরে লিল্লাহ দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে। এই যাতনা তো আমরা বুঝি মাননীয় স্পিকার।’

এ প্রসঙ্গে আলোচনায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংকে কী কী অনিয়ম হয়েছে, তার তালিকা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আরডিএস ইসলামী ব্যাংকের একটা ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প আছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।<p>

৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে নাবিল গ্রুপকে ৭০০ কোটি টাকা এলসির বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং পরে মালামাল বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুষ্টু লোকেরা বলে, সেটা কোনো এক দলের নির্বাচনী তহবিলে গেছে।

নাবিল গ্রুপকে ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার ব্যাংক লাইবিলিটি (দেনা) হচ্ছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর বিরুদ্ধে তদন্ত কেন হচ্ছে না? সে জন্য তদন্ত হবে।

ইসলামী ব্যাংকের হেড অফিসের (প্রধান কার্যালয়) অনুমোদন ছাড়া নির্বাচনের আগে একটি গ্রুপকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সোশ্যাল করপোরেট রেসপন্সিবিলিটির (সিএসআর) নাম দিয়ে যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানের টিকিট পর্যন্ত ব্যাংক থেকে করিয়েছে, সেগুলোরও তদন্ত হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তকবির দিয়ে ব্যাংক দখল করার পর যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাঁদের সংখ্যা হচ্ছে ৯ হাজার। কোনো আইন–কানুন না দেখিয়ে তাদের নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ছয় হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের সবাই একটি রাজনৈতিক মতাবলম্বী। ১৩ হাজার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যারা যেই ক্যাটাগরি থেকে প্রমোশন পেয়ে যে ক্যাটাগরিতে যাওয়ার কথা নয়, তিনটা করে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই অনিয়মগুলো তো হয়েছে মাননীয় স্পিকার। ইসলামের নামেই তো হয়েছে বলে মনে হয়। সুতরাং এগুলো তদন্ত হলে হয়তোবা আমাদের কারও কারও নাম ওখানে চলে আসতে পারে।’

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারধারীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেয়ারহোল্ডাররা তারা কীভাবে খরিদ করেছে দ্যাট ইজ ডিফারেন্ট ডিবেট (সেটা আলাদা বিতর্ক)। সেটা দুদকের তদন্ত হতে পারে, মামলা হতে পারে। বাট শেয়ারহোল্ডার ইজ শেয়ারহোল্ডার (তবে শেয়ারধারীরা শেয়ারধারী)।

এসএন/

পদ্মা সেতুতে সৌরবিদ্যুতের ইতিবাচক প্রভাব, এক মাসেই সাড়ে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয়

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
পদ্মা সেতুতে সৌরবিদ্যুতের ইতিবাচক প্রভাব, এক মাসেই সাড়ে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয়
ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-২-এ ২ দশমিক ৪৯ মেগাওয়াট পিক (MWp) ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) সিস্টেম চালুর পর এক মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎ বিল প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা কমেছে। গত মে মাসের সাড়ে ৫ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল চলতি জুন মাসে নেমে এসেছে মাত্র ৭৫ হাজার টাকায়।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-২-এ উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ ‘নেট মিটারিং’ পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে দিনের বেলায় সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সার্ভিস এরিয়ার নিজস্ব চাহিদা পূরণ করার পর অতিরিক্ত অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। রাতে বা মেঘলা দিনে গ্রিড থেকে নেওয়া বিদ্যুতের সঙ্গে দিনের বেলায় সরবরাহকৃত বিদ্যুতের হিসাব সমন্বয় করা হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সার্ভিস এরিয়া-২-এ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে চলতি জুন (২০২৬) মাসে মূল বিদ্যুৎ বিল শূন্য টাকা এসেছে। শুধুমাত্র ডিমান্ড চার্জ বাবদ ৭৫ হাজার ৭১৪ টাকা বিল পরিশোধ করতে হয়েছে। অথচ এর আগের মাস মে-তে বিদ্যুৎ বিল ছিল ৫ লাখ ২১ হাজার ৬৪ টাকা।

মে মাসে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে ৩৪ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা (ইউনিট) বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলেও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে ৫৪ হাজার ইউনিট। ফলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অনুকূলে ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রয়েছে।

সেতু বিভাগ জানিয়েছে, পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-১, সার্ভিস এরিয়া-২ এবং সার্ভিস এরিয়া-৩ মিলিয়ে মোট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৬ দশমিক ০৩ মেগাওয়াট। বর্তমানে সার্ভিস এরিয়া-১ এবং সার্ভিস এরিয়া-৩-এ নেট মিটারিং কার্যক্রম চালুর প্রক্রিয়া চলছে।

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, পদ্মা সেতুর মতো জাতীয় স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই প্রয়োগ কেবল বিদ্যুৎ বিলের খরচই কমাচ্ছে না, বরং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে বয়স বৃদ্ধি ও বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোর সুপারিশ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে বয়স বৃদ্ধি ও বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোর সুপারিশ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি মেডিকেল-ডেন্টাল ও হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য একটি যৌক্তিক ও সম্মানজনক বেতন কাঠামো নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিসিপিএস-এর পরীক্ষা ফি কমানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আন্দোলনরত ইন্টার্ন ও পোস্ট গ্রাজুয়েট চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মঙ্গলবার (৯ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পৃথক তিনটি পরিপত্র ও অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখার সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে জানানো হয়, ৮ জুনের মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো ওই চিঠিতে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কমিটি
এদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অপর এক অফিস আদেশে জানানো হয়, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজসমূহের এন্ট্রি লেভেলে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য একটি যৌক্তিক, সমন্বিত ও সম্মানজনক বেতন কাঠামোর খসড়া তৈরি করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আহ্বায়ক এবং এই অধিদপ্তরের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সদস্য সচিব করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব (বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা), স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (চিকিৎসা শিক্ষা), স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল)-কে।

সিনিয়র সহকারী সচিব সঞ্জীব দাশ স্বাক্ষরিত এই আদেশে কমিটিকে আগামী ২০ কার্যদিবসের মধ্যে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান বেতন-ভাতা পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ খসড়া প্রতিবেদন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার ফি যৌক্তিকীকরণের নির্দেশ
একই দিনে মন্ত্রণালয়ের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক আরেকটি চিঠিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-এর আওতাধীন বিভিন্ন কোর্সের পরীক্ষার ফি দ্রুততম সময়ের মধ্যে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উক্ত চিঠিতে বলা হয়, ৮ জুনের যৌথ বিবৃতির আলোকে বিসিপিএস এবং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিসিপিএসের অনারারি সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে ইন্টার্ন ও পোস্ট গ্রাজুয়েট চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদের সাথে দীর্ঘ বৈঠকের পর এই যৌথ সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলো। 

জয়ন্ত সাহা/এসএন

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে ১৪৯৬ কোটি টাকা জরিমানা: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে ১৪৯৬ কোটি টাকা জরিমানা: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

শেয়ারবাজারে অনিয়ম, কারসাজি ও বিতর্কিত লেনদেনের ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৪৯৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

একই সঙ্গে সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্যও তুলে ধরা হয়।

মঙ্গলবার (৯ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুনর্গঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারের ১২টি আলোচিত ঘটনার ওপর অনুসন্ধান ও তদন্ত চালিয়েছে। এসব তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী জানান, বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল ইস্তিসনা বন্ড সংক্রান্ত তদন্তে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে আজীবনের জন্য পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই ঘটনায় সাবেক কমিশনার শামসুদ্দিন আহমেদকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তদন্তে দুর্নীতি ও সম্ভাব্য অর্থপাচারের অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।

আইএফআইসি গ্যারান্টিড শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড সংক্রান্ত তদন্তে সালমান এফ রহমানকে আজীবনের জন্য পুঁজিবাজারে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ১০০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তার ছেলে ও আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানকে ৫০ কোটি টাকা জরিমানাসহ আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরওয়ারকে পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

সংসদে দেওয়া তথ্যে আরও বলা হয়, কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেড সংক্রান্ত ঘটনায় এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেডের মিউচ্যুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী রিয়াজ ইসলামের বিরুদ্ধে আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ফরচুন শুজ লিমিটেড সংক্রান্ত ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ১৩ মে ২০২৬ পর্যন্ত শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও বাজার কারসাজি নিয়ে ১১৪টি অনুসন্ধান, ১২টি তদন্ত এবং ৬৪টি পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে ৬৭৫টি এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে এবং ১৬টি বিষয় তদন্তের জন্য দুদকসহ বিভিন্ন সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।

তবে জরিমানার অর্থ কতটুকু আদায় হয়েছে, কতগুলো সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে কিংবা দুদকে পাঠানো অভিযোগের ভিত্তিতে কতটি মামলা হয়েছে- সে বিষয়ে সংসদে কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোনো প্রতিকার পেয়েছেন কি না, তাও স্পষ্ট করা হয়নি।

এদিকে সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে বন্ডবাজার উন্নয়ন, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ), সুকুক ও কমোডিটি ডেরিভেটিভ চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ও ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।

এলিস/রিফাত/