দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং টিকাদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী।
তিনি জানিয়েছেন, কেন শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে এবং কোথাও কোনো ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (৯ মে) বাংলাদেশ মেডিকেলবিশ্ববিদ্যালয়ে হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
সচিব জানান, ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এর প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
হামের টিকার সংকট বা সময়মতো টিকাদান শুরু না হওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “হামের টিকার বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। কেন আমাদের এই বাচ্চাগুলোকে হারাতে হলো, কোথায় সমস্যা ছিল কিংবা আমাদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না— সবকিছুই তদন্তে উঠে আসবে। আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখুন, তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রীও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মাননীয় মন্ত্রী দুদিন আগেই বলেছেন, তদন্তে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
;
বক্তব্যে সচিব জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি টিকার সংস্থান নিয়ে কাজ শুরু করেন। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অব্যবহৃত ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে ইউনিসেফের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্চের শেষে আমরা বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ নিই এবং ৫ এপ্রিল থেকে দেশের অতি ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি জেলার ৩১টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করি।
সচিব আরও জানান, ইতোমধ্যে দেশে পর্যাপ্ত টিকা চলে এসেছে, প্রায় পৌনে দুই কোটি টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে। তবে বরিশাল ও সিলেট বিভাগে টিকাদানের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় সেখানে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সিটি করপোরেশন এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সচিব বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে থাকা কেন্দ্রগুলোকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিটে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এতে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর প্রায় ৪০ শতাংশ চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেই।
টিকাদান কার্যক্রমে যুক্ত কর্মীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনের আশ্বাস দিয়ে সচিব বলেন, “আমরা কর্মীদের ডেকে কথা বলেছি। তাদের বকেয়া পাওনা ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের জন্য একটি কমিটি কাজ করছে।”
বৈঠকে সচিব নিজস্ব ল্যাবে আন্তর্জাতিক মানের ভ্যাকসিন উৎপাদনের (লেভেল-৩ সক্ষমতা অর্জন) লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথাও জানান।
জয়ন্ত সাহা/নাঈম