আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস আজ ২২ মে। জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক কর্মসূচির অধীনে কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি (সিবিডি) প্রতিবছর একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্থানীয় উদ্যোগ, বৈশ্বিক প্রভাব’। এটি কমিউনিটি নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রকৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরছে। এটি কুনমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্কের ২৩টি লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোগের সংযোগ তৈরি করছে।
আমাদের পরিবেশের প্রধান উপাদান জীববৈচিত্র্য। পৃথিবীর মাটি, পানি ও বায়ুতে বসবাসকারী সব উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের জিনগত, প্রজাতিগত ও বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্যই হলো জীববৈচিত্র্য। আমাদের অস্তিত্ব রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ উপাদান আসে জীববৈচিত্র্য থেকে। প্রতিদিন শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যবহৃত অক্সিজেনও আসে উদ্ভিদ থেকে।
দ্রুত বর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে আমরা অপরিকল্পিতভাবে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছি। বনাঞ্চল কেটে নগরায়ণ, নদী-নালা ও খাল-বিল ভরাট করে আবাসন তৈরি হচ্ছে। বনাঞ্চলের গাছ কাটা, পাখি ও বন্যপ্রাণী শিকারের ফলে এদের আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন) বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী দেশে স্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীর ১৫৬টি প্রজাতি ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায় ১০ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বন উজাড়, জলাভূমি ধ্বংস ও অতিরিক্ত প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ জীববৈচিত্র্যের প্রধান হুমকি। সুন্দরবন ও চট্টগ্রাম পাহাড়ি অঞ্চলে মাছ ও বন্যপ্রাণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বাংলাদেশে দ্রুত আবাসস্থল ধ্বংস, শিল্পদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বহু প্রজাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে।