ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা

সরকারের ১০০ দিন: পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ়তা

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ০৮:০০ এএম
আপডেট: ২৬ মে ২০২৬, ০৮:০১ এএম
সরকারের ১০০ দিন: পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ়তা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল ২৭ মে। প্রথম ১০০ দিনে সরকারের পক্ষ থেকে জনবান্ধব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ়তা দেখা গেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের চাপ। সব চাপ সামলে নিয়ে জনগণের সার্বিক উন্নয়নে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সফলতাও রয়েছে। বিশেষ করে কৃষিঋণ মওকুফ, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড, প্রবাসী কার্ড, ইমাম ভাতা, খেলোয়াড় ভাতাসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি জনমনে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখন দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজনীতির মাঠে সেই অর্থে কোনো আন্দোলন নেই। তবে বিগত প্রায় দেড় যুগে জনগণের চাওয়া-পাওয়ার ব্যবধান বেড়েছে বহুগুণ। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকারের প্রতি প্রত্যাশার চাপও বেড়েছে। ফলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের চ্যালেঞ্জও অনেক। মোটাদাগে জনগণের আশু বাস্তবায়নের প্রত্যাশাগুলোর মধ্যে রয়েছে–দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, জানমালের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের ছয় মাস মেয়াদি একটি ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বেশ কিছু উদ্যোগ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে আর্থিক নিরাপত্তা দিতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরিবার প্রাথমিকভাবে প্রতি মাসে পাচ্ছে আড়াই হাজার টাকা। কৃষি ও সেচ সুবিধার জন্য খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচি চালু হয়েছে। কৃষকদের জন্য ১ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকার বেশি বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক সরাসরি উপকার পাচ্ছেন। শিক্ষা খাত ও মেধা বিকাশে প্রতিটি উপজেলায় দুই লক্ষাধিক প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণের প্রক্রিয়া চলমান। ভর্তিতে লটারি বাতিল ও শিক্ষা নকলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় প্রাথমিকভাবে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরে দেশব্যাপী এ কার্যক্রম চলবে। সামাজিক নিরাপত্তায় মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও চার্চে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী ও উৎসব ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানিসংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে এবং বিদ্যুতের অসম চুক্তির সমাধানে কাজ চলছে। 

১০০ দিনে সরকারের সফলতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো–

জাতীয় সংসদে গণতান্ত্রিক উন্নয়ন 

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের বিরোধিতা ও তীব্র মতপার্থক্য সত্ত্বেও রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে সরকার। চলমান এই প্রক্রিয়া সংসদীয় কার্যক্রমে ভারসাম্য রক্ষা করে গণতান্ত্রিক উন্নয়নের একটি দৃশ্যমান সাফল্য বলে প্রতীয়মান হয়। বিরোধিতাকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করে জাতীয় ইস্যুতে ঐকমত্য তৈরির সহায়ক ভূমিকায় সরকারের অবস্থান দেশের ইতিবাচক রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ বলেও মনে করেন অনেকেই।
 
জ্বালানিসংকট সমাধানে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস 

দেশের জ্বালানিসংকটের যৌক্তিক সমাধান খোঁজা ও জাতীয় স্বার্থে যৌথভাবে কাজ করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নেতৃত্বে সরকারি দলের ৫ ও বিরোধী দলের ৫ জনসহ মোট ১০ সদস্যের একটি যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া বিদ্যুতের অসম চুক্তিগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানের লক্ষ্যে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা উচ্চমূল্যের ও বিতর্কিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটিও কাজ করছে। বিদ্যুৎ খাতের অসম চুক্তি সমাধানে ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা চুক্তি পুনর্বিবেচনা ও চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো সংশোধন এবং বিদ্যুতের দাম কমানোর জন্য সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালাচ্ছে সরকার।

বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো

ব্যবসার খরচ কমাতে ও বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করতে দেশের সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং বন্দরকেন্দ্রিক হাব গড়ে তোলার মাধ্যমে সার্বিক কর্মদক্ষতা বাড়ানোর কাজ চলছে। সরকারের প্রধান পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে–২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ছয় গুণ বাড়ানো। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা দ্রুত নিষ্পত্তি করে বিশ্বমানের সেবা ও লজিস্টিক হাব তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষতা বাড়াতে সম্প্রতি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। 

পে-স্কেল ঘোষণার সাহসী পদক্ষেপ

সরকার নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে, যা আগামী ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হবে। এতে সরকারের অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন পড়বে। তীব্র আর্থিক সংকট ও বিপুল বাজেট ব্যয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাঝেও সরকারের এই পদক্ষেপকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সবাই। তিন বছরে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন হবে। প্রথম ধাপে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী দুই ধাপে বাড়ি ভাড়া এবং অন্য ভাতা দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার 

বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ব্যবসায়িক ব্যয় কমানো, ডিরেগুলেশন বা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, খাতভিত্তিক রপ্তানি পরিকল্পনা এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়তা প্রদানের বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং ট্রেড লাইসেন্সসহ ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুবিধা তৈরি করবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর্মপরিবেশ সহজ করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কাঠামোবদ্ধ সংলাপের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের কাজ চলছে। বৈশ্বিক বাজারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মতো নতুন অঞ্চলে দেশের পণ্য রপ্তানি বাড়াতে সরকার খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক উৎপাদনশীলতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতাও দিচ্ছে সরকার। 

ঋণনির্ভর অর্থনীতি হবে না

চলতি অর্থবছর থেকে ঋণনির্ভর ও মূল্যস্ফীতি সৃষ্টিকারী বাজেট প্রণয়নের কৌশল থেকে সরে আসার নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ধার নেওয়া বা নতুন টাকা ছাপানোর পরিবর্তে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ও দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয়ী উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। নতুন কৌশলের মধ্যে বাজেট ঘাটতি মেটাতে অতীতে যেভাবে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বিপুল পরিমাণ ধার করা হতো, সেই প্রবণতা থেকে সরকার বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন না করে দেশের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করে বিভিন্ন মহল। 

আর্থিক খাত জোরদার

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জোর দিয়েছে। শিল্প খাতে গতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিক বৈঠক করেছেন। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। সংশোধিত শ্রম আইন সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। ব্যবসা সহজ করতে চট্টগ্রাম বন্দরের অতিরিক্ত মাশুল কমানোর পথে হাঁটছে সরকার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণচুক্তিতে আসতে আলোচনা শুরু করেছে। এসব উদ্যোগের পাশাপাশি আয় বাড়ানোর দিকে মনোযোগ বাড়িয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার আগামী দিনে অর্থনীতিতে নতুন নতুন খাত যোগ করবে। নির্বাচিত সরকার দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে জোর দিয়েছে। পুরোনো বাজারে পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাজারের সন্ধানেও কাজ শুরু করেছে সরকার। তবে নির্বাচনি অঙ্গীকার হিসেবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও সরকার সফলতা দেখাতে পারেনি। 

সিন্ডিকেটবিরোধী অবস্থান 

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট ভাঙতে সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরবরাহব্যবস্থা সম্প্রসারণে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া টিসিবির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের ট্রাকসেল কার্যক্রম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফেরাতে কাজ করছে। বাজার সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য মোকাবিলায় এআই ও টিসিবি ছাড়াও বর্তমান সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে–নির্দিষ্ট উপকারভোগীদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে স্বচ্ছতা আনা, কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব ছাড়াই বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে গুদামজাত করে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া, স্থানীয় প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা।

৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা

অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ও বন্ধ শিল্পকারখানা সচল করতে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তহবিলটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৪১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য থেকে ১০ শতাংশ সুদে দীর্ঘমেয়াদি আমানত হিসেবে এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা সরকারের গ্যারান্টি সাপেক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব তহবিল থেকে সরবরাহ করছে। ঋণ বিতরণ ও গ্যারান্টি-গ্রাহকরা এই তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন। প্রণোদনার অর্থের অনিয়ম বা অপব্যবহার রোধ করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রুগ্ণ ও বন্ধ কারখানাগুলো চালু করতে সর্বোচ্চ ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কৃষি ও গ্রামীণ খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) ৫ হাজার কোটি টাকা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও উত্তরবঙ্গ কৃষি হাবের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে।

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা জোরদার 

দেশের সর্বজনীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সরকার সারা দেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ (প্রায় ৮০ হাজার) নিয়োগ পাবেন নারীরা। গ্রাম ও শহরের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এই বিশাল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন 

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, থানাভিত্তিক সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রণয়ন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী গঠন করে টার্গেটভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি এবং ঢাকার বাইরের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের প্যাট্রল বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের আটক করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও কোস্টগার্ডের সদস্যদের জন্য দ্রুতগতির মোটরসাইকেল কেনা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়ন

পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে বেশ কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও উত্তেজনার পর ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, ট্রানজিট এবং অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গত পাঁচ দশকের মধ্যে সবচেয়ে ইতিবাচক ও গভীর পর্যায়ে রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শুল্কহার যৌক্তিকীকরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শ্রম অধিকার উন্নয়ন, অর্থনীতি বৈচিত্র্যকরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে উভয় দেশ যৌথভাবে কাজ করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের করা চুক্তি নিয়ে বিতর্ক চলছে। 

দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধ 

দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১৫ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানসহ পুরো কমিশন। সেই থেকে কমিশনবিহীন মামলা দায়ের, চার্জশিট অনুমোদন ও নতুন কোনো অভিযোগের অনুমোদন হয়নি। শত অভিযোগ জমা পড়লেও কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। পুরোনো অনুসন্ধান ও তদন্ত চললেও কার্যত স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার জানানো হয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। অনেকেই মনে করেন, দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে, যে কারণে কমিশন পুনর্গঠনে বিলম্ব করা হচ্ছে।

সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময়’-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপর তিনজনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ এ আদেশ দেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী। এর আগে আহমেদ জোবায়েরসহ চারজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তাদের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন বলেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ‘সময়’ মিডিয়া লিমিটেডের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিশোধমূলকভাবে মোবারক হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। মামলার তদন্তে আসামিরা সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করবেন।

আদালতের আদেশ তামিল না করায় বুধবার জোবায়ের ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। রাজধানীর কলাবাগান থানায় বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় গত ১৩ মে সমন জারি করা হয়েছিল। হাজিরার তারিখ ১৭ জুন বুধবার ধার্য করে সশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে মামলায় অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে সমনের আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

বর্তমানে পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী ও তাদের কন্যা সারাফ নাওয়ার জয়ীতা।

পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:০২ এএম
পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের
ছবি: সংগৃহীত

অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

 বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

তিনি ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ছিলেন। এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ছিলেন।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন গোলাম সাকলায়েন।

এতে আরও বলা হয়, তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপন, তার সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন এবং সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সময় কাটানোর ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠিয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ তিনি অভিযোগের জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। ওই বছরের ২৮ মার্চ তার ব্যক্তিগত শুনানি হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কারণ দর্শানোর জবাব ও অন্য বিষয় পর্যালোচনা করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ১২ ডিসেম্বর দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ১০ মার্চ তিনি ওই নোটিশের জবাব দেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধের গুরুত্ব ও অন্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে পরামর্শ চেয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে পাঠানো হলে কমিশনও তার বিরুদ্ধে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ সূচক গুরুদণ্ড আরোপের পক্ষে মত দেয়। এরপর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি গত ১৭ জুন এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুমোদন করেন। বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ দায়ে মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

আমান/এসএন

এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে সেশনজট কমাতে পাঠ্যসূচি শেষ হওয়ার পরপরই পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য দেন।
তিনি বলেন, চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার ফল।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা খাতে সংস্কার, মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্থগিত থাকা বৃত্তি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতারও সমাধান হয়েছে।

ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবিধার জন্য এক বছর আগেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষককে আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। শিক্ষা খাতকে আরও আনন্দময় ও মানবিক করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

এসএন/

সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম, যার মাধ্যমে একজন সেনা সদস্য কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আদর্শবান, মর্যাদাবান ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলবে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারির বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) ‘রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এ কথা বলেন। ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নানা ধরনের বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্যাডেটদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’র কার্যক্রম উদ্বোধন করা হলো। প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার প্রত্যয়ে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ-যোগ্য ও চৌকস নেতৃত্ব তৈরিতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রশিক্ষণ শেষ করা অফিসার ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমাদেরকে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। সামরিক চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশপ্রেমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সাহসিকতার সঙ্গে সব পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে হবে। প্রতিনিয়ত নিজেদের সক্ষমতাকে বাড়াতে সচেষ্ট থাকতে হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র ধারণ করে মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হবে তোমাদের জীবনের প্রথম এবং প্রধানতম ব্রত।’

সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘শৃঙ্খলা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারত্ব ও উৎকর্ষতা অর্জনের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি। সেনাবাহিনী সব বিষয়ে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রথা দিয়ে পরিচালিত হয়। কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজের বিবেকের দারস্থ হবে। তোমরা ভুলে যাবেন না, তোমাদেরকে গড়ে তুলতে দেশের খেটে খাওয়া অনেক মানুষের অনেক অবদান রয়েছে।’

বিএমএ’র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য একটি দক্ষ, আধুনিক ও দেশোপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। এই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব মূলত অফিসারদের। প্রশিক্ষণ শেষে যারা নতুন জীবনে পদার্পন করছো, সেখানে তোমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য অনেক বেশি।’

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সর্বমোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন। এছাড়াও ৪ জন ফিলিস্তিন, ১ জন তানজানিয়া, ১ জন জাম্বিয়া এবং ১ জন মালদ্বীপের অফিসার ক্যাডেট বিএমএ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, যারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ এবং কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এতে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে অসামান্য গৌরবমণ্ডিত ‘সোর্ড অব অনার’ ও সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন।

পাশাপাশি সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশী ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ অর্জন করেন তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর। সেনাপ্রধান মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের জন্য একাডেমির কমান্ড্যান্ট, সংশ্লিষ্ট সব অফিসার, জেসিও, এনসিও, সৈনিক এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পরে সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’র শুভ উদ্বোধন করেন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএমএ-তে প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে '১ম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন'র পাশাপাশি '২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন' প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানায় আইএসপিআর।

এছাড়া তিনি বিএমএতে নবনির্মিত সিএমএইচ, বিএমএ পার্কসহ বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সামরিক-অসামারিক ঊর্ধতন কর্মকর্তা, কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

আলমগীর হোসেন/আমান

এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, উন্নত বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য ‘এসএসএফ’ প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয় সে দিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিষ্ঠাকালীন এসএসএফ আর বর্তমান সময়ের এসএসএফ এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আজ থেকে ৪০ বছর আগে সময়ের প্রয়োজনে এই বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নাম পরিবর্তন করে ‘এসএসএফ’ নামে এই বিশেষ বাহিনী যাত্রা শুরু করে। 

এসএসএফ এর অসাধারণ ভূমিকার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মেয়াদে সরকার প্রধান থাকাকালে এবং সর্বশেষ জীবনের শেষদিনগুলোতে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে এসএসএফে’র কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। 

এসএসএফে’র কার্যক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বেলা থেকেই আমি এসএসএফ’র কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।

এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ এর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন ও পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।

রেড বুকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালের পর এসএসএফ’এর ‘রেড বুক’ পুনরায় সংস্কার করে বর্তমানে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে। এটি এসএসএফে’র কর্মপদ্ধতির নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, এসএসএফ’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং সর্বোপরি ‘চেইন অফ কমান্ড’ এর বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই এসএসএফ-কে নিরাপত্তা কৌশল নিশ্চিত করতে হয়। সমন্বয় যত বেশি করা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ততবেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের বাছাই করেই এসএসএফ গঠন করা হয়। এরপর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার উপর আপনাদের দেশে বিদেশে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়।

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফ-কে আরও কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে, দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আপনারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন, এই প্রত্যাশা করছি। 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, এসএসএফ প্রধান এবং বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।