ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান ৭ বাধা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৩ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের কানাডায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিল উত্থাপন রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত? টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে এক পরিবর্তন বাজেটের আগে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী টিভিতে আজকের খেলা মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে ১০ কোটি ব্যারেল তেল পার করা: ট্রাম্প শেরপুরে মেসির প্রতিকৃতি আর আর্জেন্টিনার রঙে সেজেছে বাস চট্টগ্রামে ট্রেন দুর্ঘটনায় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও ২১ শিশু ভর্তি সালথায় মাদরাসাশিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ সুপারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জবাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সামার ২০২৬ শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত এনআইএলএস এআইইউবি চ্যাপ্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে নামবেন হাতিয়ার লক্ষাধিক জেলে প্রিমিয়ার ব্যাংক নিয়ে এলো অত্যাধুনিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ২৮ ঘণ্টা পর মেঘনায় নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার ইতালির স্বপ্নে লিবিয়ায় নিখোঁজ টাঙ্গাইলের শহিদুল চট্টগ্রামে পিডিবি প্রকৌশলী লাঞ্ছিত সর্বত্র রাজস্ব জাল বিছানো হয়েছে খেলোয়াড়ের চেয়ে কম বয়সী কোচ নিয়ে বিশ্বকাপ চ্যালেঞ্জ জার্মানির ফেনীতে গ্যাসবোঝাই ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ, নিহত ২ চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু নড়াইলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল স্বাস্থ্যকর্মীর পুলিশি অভিযানে পণ্ড আ.লীগ নেতা-কর্মীদের খিচুড়ি পার্টি, আটক ২ স্বপ্ন, উন্মাদনা আর বিশ্বজয়ের লড়াই, বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ
Nagad desktop

হামে আরও ৫ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
আপডেট: ২৮ মে ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
হামে আরও ৫ জনের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৮২৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এই তথ্য জানা গেছে। হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান রেকর্ড করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫ জনের মধ্যে ৩ জনই ঢাকা বিভাগের। বাকি ২ জনের মধ্যে একজন সিলেট ও একজন বরিশাল বিভাগের। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৯০৫ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৮৮৫ জন।

একই সময়ে দেশে হামের  উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে  ৪৭৭ জন শিশু এবং নিশ্চিতভাবে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮৮ শিশু। মোট মৃত্যুর মধ্যে এককভাবে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন সর্বাধিক ১৮৯ জন।

বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ৩৯৭ জন। এরপর চট্টগ্রামে ১৬৩ জন, বরিশালে ৯৪ জন, খুলনায় ৬৮ জন, সিলেটে ৩৫ জন, ময়মনসিংহে ৩১ জন, রাজশাহীতে ২৩ জন এবং রংপুরে ১৫ জন নতুন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৪ হাজার ১৮২ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ হাজার ৯২৬ জন।

এদিকে চলমান জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬ এর আওতায় এ পর্যন্ত দেশজুড়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ১৮ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৪ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত ১৮ কোটি ৪৫ লাখ ৪৮ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ১০২ শতাংশ।

দেশের সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১১৩ শতাংশ কাভারেজ নিশ্চিত করেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১০৯ শতাংশ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১০৩ শতাংশ টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট লক্ষ্যমাত্রার ১০৬ শতাংশ শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সাতটি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য বিশেষ পূর্বাভাসে এই সতর্কসংকেত দেওয়া হয়। 

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত (পুনঃ ১ নম্বর) দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এটি দেশের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।

অন্যদিকে, আগামী শুক্রবার (১২ জুন) ও শনিবার (১৩ জুন) একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। ওই দুই দিনেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কিছু স্থানে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্তরা/

বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান ৭ বাধা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:২৪ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৩১ এএম
বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান ৭ বাধা
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

প্রতিবছরই দেশে বাজেটের আকার বাড়ে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কখনোই শতভাগ বাজেট বাস্তবায়নের রেকর্ড নেই। কাগজে-কলমে বড় বাজেট ঘোষণা করা তুলনামূলক সহজ হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবছরই নানা ধরনের কাঠামোগত, আর্থিক ও প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়ে সরকার।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাজেটের আকার প্রতিবছর জ্যামিতিক হারে বাড়লেও তা বাস্তবায়নের হার ক্রমাগত নিম্নমুখী। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরের পর দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।

এমনকি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশে। এই দীর্ঘস্থায়ী অসামঞ্জস্য প্রমাণ করে, আমাদের বাজেট ব্যবস্থাপনায় গভীর কাঠামোগত ও পরিচালনাগত সংকট বিদ্যমান।

অবাস্তব ও অতি-উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, চরম নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত, ক্রমবর্ধমান ঋণ ও সুদের চাপ, নীতিনির্ধারণের অতিকেন্দ্রীকরণ এবং দক্ষ জনবলের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা–এসব বাধা এবারের বাজেট বাস্তবায়নকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে একটা সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে–বাস্তবায়নের সক্ষমতা সীমিত হলেও কাগজে-কলমে বড় বাজেট ঘোষণা করা হয়। শোনা যাচ্ছে, এবারের বাজেট প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার হতে পারে।

কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আমার মনে হয় ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ কোটি টাকার বেশি কার্যকর বাজেট করার বাস্তব অবস্থা নেই। আমাদের বাজেট ব্যবস্থাপনায় একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন রয়েছে। প্রথমে বড় আকারের মূল বাজেট দেওয়া হয়, পরে সংশোধিত বাজেটে সেটি কমে আসে, আর অর্থবছর শেষে দেখা যায় প্রকৃত বাস্তবায়ন আরও কম হয়েছে। ফলে প্রশ্ন হচ্ছে–বড় বাজেট দিলেই কি উন্নয়ন হবে, নাকি বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়াতে হবে? আমার মতে, দ্বিতীয়টিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নে বড় বাধা

বাজেট ব্যর্থতার মূল সূত্রপাত হয় এর প্রণয়ন প্রক্রিয়া থেকে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রকৃত সক্ষমতা, করের আওতা এবং এনবিআরের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতাকে বিবেচনায় না নিয়ে প্রতিবছর একটি অতি-উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৯ শতাংশ, এর মধ্যে এনবিআরের অংশ ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা; কিন্তু অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাকি দুই মাসে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ১২৮ দশমিক ৬ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যা অলৌকিক কিছু ছাড়া অসম্ভব। বিশাল এই রাজস্ব ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ে কর-জিডিপি অনুপাতে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম নিম্নপর্যায়ে রয়েছে। প্রতিবছর উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা পূরণে ব্যর্থতার নজির বেশি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কর-ব্যবস্থার জটিলতা, কর ফাঁকি, সীমিত করজাল এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায় না। ফলে সরকারকে ব্যাংকঋণ বা বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হয়।

এ প্রসঙ্গে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো অর্থের সংস্থান। রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি হলে পুরো বাজেট কাঠামোই চাপে পড়ে যায়।

রাজস্ব বাড়াতে হলে কেবল করের আওতা বাড়ানোর কথা বললেই হবে না, করনীতি ও কর প্রশাসনের কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। বর্তমানে যা হচ্ছে তা হলো–‘বোয়াল মাছ’ অর্থাৎ বড় কর ফাঁকিবাজদের ধরার পরিবর্তে ‘পুঁটি মাছ’ বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ করদাতাদের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। এতে খুব বেশি সুফল পাওয়া যাবে না। বড় কর ফাঁকি বন্ধ না করলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন আসবে না। প্রকৃত সমাধান হলো–কাঠামোগত কর সংস্কার এবং বড় কর ফাঁকিবাজদের করজালের আওতায় আনা।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমাচ্ছে ব্যয়ের কার্যকারিতা

দেশে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করায় বাজেট বাস্তবায়নে নতুন ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অবকাঠামো প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং সরকারি ক্রয়ে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় একই অর্থে কম কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন মূল্যস্ফীতি বেশি থাকে, তখন বাজেটে বরাদ্দের প্রকৃত মূল্য কমে যায়। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ে, সময়ও দীর্ঘায়িত হয়। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকারকে ভর্তুকি ব্যয় বাড়াতে হয়, যা উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য অর্থসংকট সৃষ্টি করতে পারে।

ব্যাংকঋণের ওপর অতিনির্ভরতা

যখন রাজস্ব আদায়ে ধস নামে, তখন সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা থাকে– হয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া, না হয় উন্নয়ন বাজেট কমিয়ে ফেলা। বাংলাদেশ সরকার সাধারণত দুটি পথ একসঙ্গে বেছে নেয়। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো সামাজিক খাতগুলো। এ ধারা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সামগ্রিক এডিপি ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমিয়ে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা করে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ এক ধাক্কায় ৭৩ শতাংশ কমিয়ে ১১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা থেকে ৫ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। একটি উন্নয়নশীল দেশে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো মৌলিক খাতে এমন গণহারে বাজেট কর্তন দীর্ঘ মেয়াদে মানবসম্পদ উন্নয়নকে পঙ্গু করে দেয়।

এ ছাড়া রাজস্ব ঘাটতি পূরণে সরকার প্রায়ই ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়। কিন্তু ব্যাংক খাত নিজেই বর্তমানে তারল্য সংকট, খেলাপি ঋণ এবং আস্থাহীনতার সমস্যায় রয়েছে। তার ওপর সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে, যাকে ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’ বলা হয়। এতে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি

বাংলাদেশে উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় সমস্যা হলো প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি। প্রায়ই দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথমার্ধে ব্যয় কম হয়, আর শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে খরচ বাড়ানো হয়। এতে ব্যয়ের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অনেক প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, দরপত্র বিলম্ব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দুর্বল সমন্বয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয় না। তাই শুধু বড় বাজেট ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এখন জরুরি বলে মনে করছেন ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্যা বাজেটের আকারে নয়, বাস্তবায়ন সক্ষমতায়। বরাদ্দ দেওয়া সহজ, কিন্তু সঠিকভাবে খরচ করাই বড় চ্যালেঞ্জ।’

বৈদেশিক অর্থায়নে অনিশ্চয়তা

বড় অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ডলারসংকট, ঋণের কঠোর শর্ত এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাজেট বাস্তবায়নে ঝুঁকি তৈরি করছে। ডলারের চাপের কারণে আমদানিনির্ভর প্রকল্প ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। এতে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

রাজনৈতিক ও নীতিগত ধারাবাহিকতার প্রশ্ন

বাজেট বাস্তবায়নের জন্য শুধু অর্থ নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নীতিগত ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। কর সংস্কার, ভর্তুকি সংস্কার বা ব্যয় দক্ষতা বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত প্রায়ই রাজনৈতিক কারণে ধীরগতির হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ঘাটতি থাকলে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নীতির ধারাবাহিকতা, প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানো এবং দুর্নীতি কমাতে বড় ধরনের সংস্কার দরকার। 

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা

প্রতিবছর বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি থাকে। কিন্তু বাস্তবায়ন দুর্বল হলে সাধারণ মানুষ তার সুফল পুরোপুরি পান না। বাজেট বাস্তবায়নের হার বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে না পারলে বড় বাজেটের সুফল সীমিতই থেকে যাবে।

অর্থনীতির বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে বাজেট বাস্তবায়ন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কঠিন হতে পারে। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া উচ্চাভিলাষী বাজেট বাস্তবায়ন বড় পরীক্ষার মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কেবল বড় অঙ্কের বাজেট ঘোষণা নয়, বরং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন এবং জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই বলে জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক।

বুধবার (১০ জুন) রাতে রাজধানীর মিরপুরে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর শহীদ ইয়ামিন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্র্যাজুয়েশন ডিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা খাতের জন্য চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরের ৮৮ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। আমরা ধাপে ধাপে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ আরও বাড়াবো।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ এত বিশাল সম্পদের দেশ, এত সুন্দর দেশ। আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো? একটি ক্ষেত্রেই আমরা পিছিয়ে আছি, সেটি শিক্ষা খাত। শিক্ষা খাতে উন্নয়ন ঘটাতে পারলে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। জনসংখ্যাকে অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপও করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার আঞ্চলিক কেন্দ্র বা ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহী।

অনুষ্ঠানে মোট ৫৪৯ জন স্নাতকোত্তীর্ণ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। যাদের মধ্যে ১৫৫ জন সামরিক শিক্ষার্থী এবং ৩৯৪ জন বেসামরিক শিক্ষার্থী ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমআইএসটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গ্র্যাজুয়েট এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।

আমান/

সর্বত্র রাজস্ব জাল বিছানো হয়েছে

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
সর্বত্র রাজস্ব জাল বিছানো হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

সরকার অর্থসংকটে আছে। আয় বাড়াতে গিয়ে বাজেটে বেশির ভাগ পণ্য ও সেবা খাতে রাজস্ব আরোপ করছে। তবে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে অনেকের দাবি মানতে গিয়ে অনেক খাতে রাজস্ব ছাড় দেওয়ার চেষ্টাও করছে। 

বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাজেটের আকার ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়, যার বেশির ভাগ অর্থাৎ প্রায় ৮৬ শতাংশ আহরণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বাজেটে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ করা এবং দীর্ঘ মেয়াদে ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার হিসাব কষা হবে। 

বাজেট প্রস্তাবে রাজস্ব ব্যবস্থার মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত, কর অব্যাহতির বিস্তৃত সংস্কৃতি, ক্ষুদ্র করভিত্তি, কর ফাঁকি ও ডিজিটালাইজেশনের ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছে। 

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য প্রগতিশীল করকাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী দুই অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। আগামীতে ইটিআইএন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শূন্য রিটার্ন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। 

বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর বহাল রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে ই-টিআইএন নিতে বাধ্য করা হবে। কৌশলে ব্যাংক হিসাবধারীদের করজালে আনা হচ্ছে। ছোট মাপের দোকানদের ওপরও ভ্যাটের আওতায় আনা হচ্ছে। এভাবে সারা দেশে রাজস্ব জালের আওতায় অনেক মানুষকে আনার ছক কষা হয়েছে। 

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অর্থসংকটে নিয়মিত খরচ চালিয়ে যাওয়াও সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ আগামী বাজেটে খরচ কমানোর প্রত্যাশা করলেও তা বাস্তবায়ন হবে না। বরং বাজেটে সরকার আয় বাড়াতে গিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেটে অনেক জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প খাতে খরচ বাড়বে। রাজস্ব জালের আওতায় অনেক কিছু আনা হয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, এরই মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বাড়বে মূল্যস্ফীতি। অন্যদিকে নতুন অর্থবছরে এক লাখ কোটি টাকার বেশি ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। অন্য সব বাদ দিয়ে শুধু এই দুই কারণেই অনেক কিছুর দাম ও খরচ বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এসব কিছুই জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে ফেলবে। 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আওতা বাড়িয়ে সরকার আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। অনেক নতুন খাত অর্থনীতির মূল ধারায় যুক্ত করা হচ্ছে। এতে সরকারের আয় বাড়বে বলে আশা করছি।’ 

বাজেটে কৃষি ও ভোগ্যপণ্য, যেমন–ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসে কর মওকুফ না করে কিছুটা কমিয়ে বহাল রাখা হয়েছে। এতে দাম তেমন কমবে না। 

বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের অনেক যন্ত্রপাতি আমদানিতে রাজস্ব আরোপ করা হয়েছে। এতে গোটা স্বাস্থ্য খাতে খরচ বাড়বে। তবে রাজস্বের পরিমাণ, হার ও আওতা বাড়িয়ে কিছু খাতে ছাড় দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে করছাড়ের অংশ হিসেবে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এ ছাড়া শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য আমদানীকৃত ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়করের হার ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে হ্রাস করা হবে। উৎসে করের উচ্চহারের কারণে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে হ্রাস করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক এবং ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন আমদানির ক্ষেত্রে উৎসে করহার ৫ শতাংশ থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়। কম্পিউটার প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডেটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি এবং কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর কমিয়ে ২ শতাংশে হ্রাস করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম করের হার ৫ শতাংশ ও ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে হ্রাস করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে হ্রাস করা হয়েছে। রিফাইনারি কর্তৃক জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে হ্রাস করা হয়েছে রিসাইকেল্ড পণ্য ও রিসাইক্লিং কাঁচামালে করহার ৩ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে হ্রাস, বিটিআরসি কর্তৃক প্রাপ্ত রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফি বা চার্জের ওপর প্রযোজ্য ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার করা হবে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা খাতে উৎসে কর কর্তনের হার ১২ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে হ্রাস করা হবে। শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে অগ্রিম করের সাধারণ হার ৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশে হ্রাস করা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগের স্বার্থে যন্ত্রপাতি ভাড়া বাবদ অনিবাসী করদাতাকে পরিশোধ খাতে উৎসে কর কর্তনের হার ১৫ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে হ্রাস করা হয়েছে। বিমা খাতে রি-ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম বাবদ খরচ কমানোর স্বার্থে অনিবাসী করদাতাকে পরিশোধিত বিমা প্রিমিয়াম থেকে উৎসে কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে হ্রাস করা হয়েছে। শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগের ব্যয় কমানোর স্বার্থে বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎসে করের হার ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

বাজেটে কর ভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে সংগৃহীত এ অগ্রিম করের পরিমাণ প্রতি ১ হাজার টাকা ২ টাকা। ব্যাংক হিসাব খোলার সময় টিআইএন সনদ দাখিল করার বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে করের জাল আরও বাড়বে। 

বাজেটে সব দেশীয় শিল্পের প্রসারে পাঙাশ মাছের ফিলেট আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করায় দাম বাড়বে। বাজেটে ভ্যাটের হার অনেক বাড়ানো হয়েছে। আর এতে হাজারের বেশি পণ্যের দাম বাড়বে। তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়বে। চাপে পড়বে দেশের কম্পিউটার শিল্প, কারণ আমদানি করা একই জাতীয় পণ্যের ওপর রাজস্ব ছাড় দেওয়া হবে। 

বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে একটি বৈশ্বিক মানের ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং উচ্চমানের কন্টেন্ট ও চলচ্চিত্র নির্মাণসামগ্রী যেন তরুণদের নাগালের মধ্যে থাকে, সে জন্য বাজেটে কতিপয় পণ্যে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে। এভাবে এসব খাতকে রাজস্ব জালের আওতায় আনা হয়েছে।

একইভাবে ডিজিটাল মিডিয়ায় ব্যবহৃত সংগীতের মানোন্নয়ন ও ক্রিয়েটিভ মিউজিক তৈরিতে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট–যেমন গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিন ইত্যাদি এবং এদের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া চলচ্চিত্র ও ক্রিয়েটিভ মিডিয়ার কারিগরি দিক আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার উদ্দেশ্যে উচ্চপ্রযুক্তির সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক ওভেন ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন প্রস্তুতকারী শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল ফ্লোট গ্লাস আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল জাতীয় সংসদেবাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ছবি: খবরের কাগজ

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরের একটি সমন্বিত মেগা কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে গতি আনা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দেশের সব অঞ্চলে সমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন উদ্যোগ হিসেবে বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আনতে পারলে ১ দশমিক ৫ শতাংশ ইনসেনটিভ দেওয়া হবে।

পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। ইতোমধ্যে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’–এই দর্শনের আলোকে পরিবারের প্রধান নারী সদস্যকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি পরিবার এ সুবিধার আওতায় এসেছে। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে এবং প্রায় ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে পাঁচ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, পুরোহিত, ভিক্ষু ও পাদ্রিদের সম্মানী ভাতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েই প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিনিয়োগ-প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।’ 

প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রকৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ শতাংশ সুদে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে। 
সংসদে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কিংবা বিদেশি নাগরিক যদি দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে আনা বিনিয়োগের ওপর ১ দশমিক ৫ শতাংশ ইনসেনটিভ বা কমিশন দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু বিদেশি বিনিয়োগ নয়, দেশীয় বিনিয়োগও উৎসাহিত করতে চাই। ডিরেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে।’ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে দূর করা হবে বলে জানান সরকারপ্রধান।

বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি নিয়ে বিরোধীদলীয় সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধান বা আইনে নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক আসন না থাকলেও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে তাদের কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মতো নারী সংসদ সদস্যদেরও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কাজ করার অধিকার রয়েছে। পরে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ও জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার। গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে অবশ্যই তা গ্রহণ করা হবে।’ 
তিনি জানান, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরনগরী চট্টগ্রামকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক নগরীতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের সব স্তরে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এদিকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, পেপ্যাল চালুর উদ্যোগ, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যের কথাও সংসদকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।