রাজধানী ঢাকায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চারটি সংগঠনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে বিশ্ব সহায়ক প্রযুক্তি দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় আয়োজিত এই র্যালিতে সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন, অধিকারকর্মী, সহায়ক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে কদম ফোয়ারা, হাইকোর্ট ও সচিবালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
সহায়ক প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী প্রাপ্তি নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন বহন করেন অংশগ্রহণকারীরা। প্রায় তিন শতাধিক সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী এই র্যালিতে অংশ নেন।
আগামী ৪ জুন পালিত হতে যাচ্ছে তৃতীয় বিশ্ব সহায়ক প্রযুক্তি দিবস। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে এবং সহায়ক প্রযুক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সাশ্রয়ী, উপযোগী ও মানসম্পন্ন সহায়ক প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সেবার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে সহায়ক প্রযুক্তির প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক মানুষ এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ৭৭ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়ক প্রযুক্তি পান না। ফলে তারা যেমন মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন, তেমনি শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক জীবনে পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণ থেকেও বঞ্চিত হন।
অন্যদিকে, তাদের কর্মজগতে অংশগ্রহণ সীমিত হওয়ায় রাষ্ট্রও বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সহায়ক প্রযুক্তির পেছনে এক টাকা বিনিয়োগ করলে প্রায় ৯ টাকা পর্যন্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায়। কিন্তু সম্ভাবনাময় এই খাতে এখনও পর্যাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের ঘাটতি রয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
জাতিসংঘের ইউএনওপিএস-এর আর্থিক সহায়তায় এবং এটিস্কেল-এর সচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে “আনলক দ্য এভরিডে” ক্যাম্পেইনের আওতায় ২০২৪ সালের ৪ জুন প্রথমবারের মতো বিশ্ব সহায়ক প্রযুক্তি দিবস পালন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় এবার তৃতীয়বারের মতো দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
এই বৈশ্বিক উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সহায়ক প্রযুক্তির সহজপ্রাপ্যতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহ প্রদান।
আয়োজকরা বলেন, সহায়ক প্রযুক্তি কোনো বিলাসিতা নয়; এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রবীণ জনগোষ্ঠী এবং সহায়তা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের স্বাধীনভাবে জীবনযাপন ও সমাজে পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ট্রাস্ট (বিডিডিটি), ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশ, ময়মনসিংহ ডিজঅ্যাবলড পিপলস অর্গানাইজেশন টু ডেভেলপমেন্ট (এমডিপিওডি) এবং সোসাইটি অব দ্য ডেফ অ্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজারস যৌথভাবে এই র্যালির আয়োজন করে।
র্যালিতে প্রায় ১৫০ জন সহায়ক উপকরণ ব্যবহারকারী ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ট্রাস্টি মো. মনিরুল্লাহিয়ান খান, ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সরদার আবদুর রহমান, ময়মনসিংহ ডিজঅ্যাবলড পিপলস অর্গানাইজেশন টু ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মো. মোকাম্মেল হোসেন এবং সোসাইটি অব দ্য ডেফ অ্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজারসের নির্বাহী পরিচালক হাসিবা হাসান জয়া।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই র্যালি বিশ্ব সহায়ক প্রযুক্তি দিবসের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং বাংলাদেশ ও এশিয়ার প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বিডিডিটি এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো সহায়ক প্রযুক্তির ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী জাতীয় আন্দোলন গড়ে তুলতে চায়।
তাদের মতে, সহায়ক প্রযুক্তি লাখো মানুষের জন্য নতুন সুযোগ, অংশগ্রহণ এবং স্বাধীনতার দ্বার উন্মোচনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
অমিয়/