ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য। রাষ্ট্র সংস্কারে দুর্নীতি দমনে তার কমিশনের প্রস্তাব, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অগ্রগতি, এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতাসহ নানা বিষয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার শাহনাজ পারভীন এলিস
খবরের কাগজ: আপনার নেতৃত্বাধীন দুদক সংস্কার কমিশন থেকে সাংবিধানিক ও স্বাধীন দুদক গড়ার লক্ষ্যে ৪৭টি সুপারিশ করা হয়। এগুলো বাস্তবায়নে আপনার আশাবাদ জানতে চাই।
ইফতেখারুজ্জামান: অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে রাষ্ট্র সংস্কারের একটা বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি আশাবাদী। কারণ সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে সুপারিশমালা প্রণয়ন করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। আশার কথা হচ্ছে, দুদক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর বেশির ভাগের ব্যাপারে প্রায় সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। কিছু ছোটখাটো রিজারভেশন আছে। সেগুলো ব্যাখ্যা করার পর তাদের মধ্যে মোটামুটি ঐকমত্য হয়েছে। আমাদের বেশকিছু সুপারিশ রয়েছে, যেগুলো স্বল্প মেয়াদে সরকারের নির্বাহী সিদ্ধান্তে এবং দুদকের প্রতিপালনযোগ্য, বাস্তবায়নযোগ্য। সেগুলো সরকারের কাছে ফেব্রুয়ারিতে হস্তান্তর করেছি। সরকারের অঙ্গীকার আছে সেগুলো বাস্তবায়ন করবে। তবে এখনো পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য পাইনি সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না। আশা করছি, খুব শিগগিরই হয়তো সে প্রক্রিয়া সরকার শুরু করবে।
খবরের কাগজ: আপনার কমিশনের কতটি সুপারিশ আশু বাস্তবায়নযোগ্য?
ইফতেখারুজ্জামান: দুদক সংস্কারে কমিশন প্রস্তাবিত ৪৭টি সুপারিশের মধ্যে অর্ধেকের বেশিই আশু বাস্তবায়নযোগ্য। এর মধ্যে দুদককে শক্তিশালী করা, কার্যকর ও ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কমিশনারদের পদ বাড়ানো, নিয়োগ, সার্চ কমিটি, আইনের সংস্কার, বেতন বৃদ্ধি ও প্রণোদনার মতো নানা সুপারিশ রয়েছে। এসব সুপারিশ অর্ডিন্যান্স জারির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। যেমন- দুদকে উচ্চপর্যায়ে নিয়োগ। সচিব ও মহাপরিচালক পদ- যাদের সাধারণত আমলাতন্ত্র থেকে নিয়োগ করা হতো। এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার প্রস্তাব হয়েছে। যাতে করে একটা সীমারেখার মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ আমলাতন্ত্র বা প্রশাসন থেকে আসতে পারবে।
দ্বিতীয়ত দুদক কমিশনের কিছু কার্যপদ্ধতিতে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। কারণ অনুসন্ধানের নামে কার্যপদ্ধতিকে দীর্ঘ করা হয়। এতে করে দুর্নীতিবাজরা অনেক সময় পার পেয়ে যায় বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বেশি সময় লাগে। দেখা গেছে, দুর্নীতির যেকোনো অভিযোগ অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পর দুদকের মাঠপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়; যা আইনে অন্য কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে নেই। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনুসন্ধান পর্বটা বাতিল করে সংস্থাটির যাচাই-বাছাই কমিটির কার্যক্রমকে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করতে কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারকে সুপারিশ করা হয়েছে। সেটা গৃহীতও হয়েছে।
দুদকের কোনো সদস্য বা কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বরখাস্ত করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে শূন্য পদগুলো পূরণ করতে হবে। আমরা চাই দুদক একটা কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক। আমরা বলেছি দুদকের কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা এমন হতে হবে; যা সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্কেলের থেকে আলাদা, পর্যাপ্ত প্রণোদনামূলক। প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের যাতে ওনারশিপ তৈরি হয়। সেই লক্ষ্যে একদিকে কর্মকর্তাদের প্রণোদনা দেওয়া অন্যদিকে কার্যক্রমের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রস্তাব রেখেছি। দুদকের কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে গঠিত কমিটিকে আমরা নিয়োগ বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি বলেছি। এই কমিটি ৬ মাস পরপর সংস্থাটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করবে। এরপর কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে সেগুলো বিশ্লেষণে একধরনের গণশুনানি করবে। তাতে সাধারণ মানুষ, গণমাধ্যমসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিতে পারেন। ফলে দুদকের একটা জবাবদিহির ক্ষেত্র তৈরি হবে। আশা করছি, এগুলো বাস্তবায়িত হলে দুদক কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
খবরের কাগজ: ঢাকার বাইরে দুদকের কার্যক্রম উন্নয়নে আপনার কমিশনের পরিকল্পনা কী?
ইফতেখারুজ্জামান: ঢাকার বাইরে প্রতিটি জেলায় এখন পর্যন্ত দুদক মানের কোনো কার্যালয় নেই। যেখানে কার্যালয় আছে সব জায়গায় আদালত নেই। স্পেশাল আদালত যেটা হওয়ার কথা সেগুলো আমরা প্রস্তাব করেছি। দেশের যেসব জেলায় এখনো হয়নি, পর্যায়ক্রমে সেসব জেলায় দুদকের কার্যালয় স্থাপন করতে হবে। লক্ষ্য দুদকের কার্যক্রমকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া। আর কার্যালয় রয়েছে এমন জেলাগুলোতে আদালত প্রতিষ্ঠার কথা বলেছি। জরুরি ও গুরুতর মামলাগুলোর জন্য যাতে সাধারণ মানুষকে ঢাকায় আসতে না হয়।
খবরের কাগজ: জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ হয়েছে। গত এক বছরে ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ঘিরে জনমনে যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা কতটা পূরণ হয়েছে?
ইফতেখারুজ্জামান: জুলাই ঘোষণাপত্র যেটা হয়েছে, তাতে আন্দোলনের মাধ্যমে সবার স্বপ্নের যে জায়গাটা সেটা ক্যাপচার করা হয়েছে। মোটাদাগে এটা আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের সর্বজনীন ঘোষণা। এটি নিয়েও নানা ধরনের বিতর্ক হয়েছে। এটা ২০২৪ সালের আগস্টেই হতে পারত। কেন তা ঘোষণা করা হলো না। আমি বলব, একটি ঘোষণার মাধ্যমে তো আর সব প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব হয় না। দেরিতে হলেও এই ঘোষণা ঐতিহাসিক। এক অর্থে এটা ভালো। কারণ সরকারের উদ্যোগে এতে রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের পর মতামত দিয়েছে। এ ঘোষণায় থাকা অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে বর্তমান ও পরবর্তী সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মনে রাখতে হবে, দেশের বিশেষ প্রেক্ষাপটে গঠিত এ সরকারের মূল দায়িত্ব ছিল তিনটি। সেগুলো হলো- জুলাই আন্দোলনের হত্যাকারীদের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নতুন বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কার এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়াটা ইতিবাচক। এই বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যেও আবার কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা প্রত্যাশিত ছিল না। বিশেষ করে আদালত প্রাঙ্গণে আসামিদের সঙ্গে ভায়োলেন্স হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে সত্যিকারের বিচার হচ্ছে, না প্রতিশোধ হচ্ছে? আশা করব, বিচারটা যেন বিচারই হয়, প্রতিশোধের পর্যায়ে না যায়। এছাড়া একই মামলায় শতাধিক ব্যক্তিকে একসঙ্গে ঢালাওভাবে আসামি করে মামলা করা, জামিন না হওয়া- এসব ঘটনা আসল অপরাধীদের জবাবদিহিতে আনার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না সেটাও বিবেচনার বিষয়। বিচারপ্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, স্বচ্ছতার মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে। আশার দিক হলো, এবারই প্রথম আদালতের এজলাস থেকে বিচার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে লাইভ ব্রডকাস্ট করা হচ্ছে। ফলে দেশবাসীর পাশাপাশি বিশ্ববাসী দেখতে ও জানতে পারছে- এটা ইতিবাচক।
খবরের কাগজ: জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর এবং এর বাস্তবায়ন নিয়ে কমিশনের পরিকল্পনা কীভাবে এগোচ্ছে?
ইফতেখারুজ্জামান: ঐকমত্য কমিশন প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ হলো রাজনৈতিক অঙ্গীকার। যেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কমিশন গত ৩১ জুলাই দ্বিতীয় পর্যায়ের বৈঠক শেষে জুলাই সনদের খসড়া দলগুলোকে দিয়েছে। শিগগিরই সনদটির পূর্ণাঙ্গ খসড়াও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে। বিগত দিনে দলগুলোর অঙ্গীকার লঙ্ঘনের চর্চা আমরা দেখেছি। ফলে এবারের এ সনদের আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা এবং বাস্তবায়নের উপায় খুঁজতে আমরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও তৃতীয় পর্যায়ের বৈঠক করছি। পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের অংশীজনরা যাতে তা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হন। এবারের বৈঠক শেষে সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর সই নেওয়া হবে; যার মধ্যদিয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে জুলাই সনদ। এ পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ওপর নির্ভর করছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা কী হবে। অনেকেরই প্রত্যাশা- নির্বাচনের আগেই সনদ বাস্তবায়ন যেন শুরু হয়। তবে যেসব ইস্যুতে সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রয়োজন, সেগুলো বাস্তবায়ন নির্বাচিত সরকার ও সংসদ ছাড়া সম্ভব নয়।
খবরের কাগজ: রাষ্ট্র সংস্কারে মোট ১১টি কমিশন গঠিত হলেও মাত্র ৬টি কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের উদ্যোগ নেয় সরকার। বাকি কমিশনগুলোর সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে সরকার ঐকমত্য কমিশনকে কী জানিয়েছে?
ইফতেখারুজ্জামান: ঐকমত্য কমিশনের দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে প্রথম দফায় গঠিত ৬টি কমিশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে সরকার। বাকি ৫ কমিশনের কাজগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ ওইসব কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগেই পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব। তবে ওইসব কমিশনের প্রস্তাব ঐকমত্য কমিশনে আলোচনার বাইরে রাখায় সমালোচনা রয়েছে। আমি মনে করি, ওই কমিশনগুলোর প্রতিটাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারপরও তাদের প্রস্তাবিত সুপারিশমালা নিয়ে বাস্তবে তেমন আলোচনা হয়নি। মূলত সব কমিশনের সুপারিশই বাস্তবায়ন করবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার, যারা আগামী সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন। কাজেই কোনো না কোনো উপায়ে এই ৫ কমিশনের প্রস্তাবগুলোও রাজনৈতিকভাবে আলোচনা হওয়া দরকার ছিল।
গুরুত্বপূর্ণ নারী সংস্কার কমিশনকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলপাড় করা হলো। অনাচারের মাধ্যমে এই কমিশনের প্রতিবেদন বাতিল করার দাবি তুলেছে ধর্মভিত্তিক দলগুলো। সে ক্ষেত্রে সরকার সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিতে পারেনি, যেটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আর সরকারের নীরবতায় নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের ইকোসিস্টেম নষ্ট হলো। এসব ঘটনার প্রভাবে পরবর্তী সময়ে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকেও সংসদে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে প্রত্যাশা পূরণ হলো না। একইভাবে শ্রম সংস্কার কমিশন, স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন এবং স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা নেই এবং কমিশনগুলোর সুপারিশের বাস্তব অগ্রগতিও জানা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে শিক্ষা ও ব্যবসা খাতের সংস্কারে কোনো কমিশনই হয়নি! ফলে প্রশ্ন উঠেছে; অথচ শিক্ষা খাতকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন। আর ব্যবসা খাত; ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতের ব্যবসা কিন্তু কর্তৃত্ববাদ বিকাশে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তাদের কারণে দেশের ব্যবসা খাত চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের সম্পদ ও অর্থ লুটপাট হয়েছে। ব্যাংকিং খাত জবরদখল হয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, অল্প সময়ে বিদেশে পাচার হয়েছে ২৪০ মিলিয়ন ডলার। এসব দুর্নীতি যারা করেছেন, রাষ্ট্রে সম্পদ জবরদখল করেছেন- তাদের অন্যতম হাতিয়ার ছিল রাজনীতি, আমলাতন্ত্র আর ব্যবসা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। কাজেই ব্যবসা খাতকেও সংস্কারের আওতাভুক্ত করা উচিত ছিল।
খবরের কাগজ: দেশজুড়ে চলমান মব সন্ত্রাস প্রতিরোধে সরকারের তৎপরতা ও পদক্ষেপ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
ইফতেখারুজ্জামান: আন্দোলন-উত্তর বাংলাদেশে বিগত দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং যে ধরনের অরাজকতার ঘটনা আমরা দেখেছি তা খুব অস্বাভাবিক নয়। এ ধরনের গণ-অভ্যুত্থানের পর সব দেশে এমনটাই হয়। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বাহিনী; তাদের অনেকে কর্তৃত্ববাদ বিকাশের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনেও জড়িত ছিল। পরে তারা এক ধরনের পলাতক অবস্থায় চলে গেছে। তাদের নৈতিক দৃঢ়তা, পেশাগত দায়িত্ব পালনের মোরাল অথরিটি তারা হারিয়েছে। ফলে সারা দেশেই আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সেই অবস্থার উত্তরণ ঘটিয়ে কার্যকর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গড়ার চেষ্টা চলছে।
খবরের কাগজ: স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৪ বছরেও এ দেশে দুর্নীতি রোধ করা যায়নি। দুর্নীতির লাগাম টানতে সরকারগুলোর ব্যর্থতার মূল কারণ কী?
ইফতেখারুজ্জামান: বাংলাদেশে যে দুর্নীতি, সেটা একচ্ছত্র বলে কিছু নেই। এটা ধারাবাহিক হয়ে আসছে। সব রাজনৈতিক দল, যারা যখন ক্ষমতায় ছিল দুর্নীতিতে জড়িত ছিল। ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। তবে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে আওয়ামী লীগের সময় গত ১৫-১৬ বছরে এটা একটা চূড়ান্ত জায়গায় গেছে, কিন্তু এটার দায় আওয়ামী লীগের একার নয়। রাষ্ট্র কাঠামো দখলের জন্য আদালতসহ তাদের ত্রিমুখী যে শক্তিগুলো ছিল, সেগুলো সবসময়ই কেন্দ্রে ছিল। অন্যদিকে অতি ক্ষমতাহীন বিশেষ মহলের এক ধরনের অরাজকতা, অনেক ক্ষেত্রে হযবরল পরিস্থিতি, মব সন্ত্রাস দেখা গেছে। এর মধ্যে আবার অনেক সুযোগসন্ধানী ঢুকে পড়েছে। বছরজুড়ে পুরোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মতোই নতুন যে রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ ঘটেছে তারাও সেই পুরনো প্রবণতার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনেও অস্থিতিশীলতা বিরাজ করেছে।
খবরের কাগজ: দেশজুড়ে অরাজকতার এসব ঘটনা প্রতিরোধে রাষ্ট্রের ভূমিকা কেমন ছিল?
ইফতেখারুজ্জামান: পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি মোকবিলায় আসলে সরকারের চ্যালেঞ্জ ছিল বহুমুখী। তাই প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়তো ডেলিভারি সম্ভব হয়নি। তবে সরকারের প্রয়াশের ঘাটতি ছিল না। কোনো বিশেষ ঘটনা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হওয়ার পর প্রশাসন তৎপর হয়েছে। যদিও সেনাবাহিনীর সহায়ক ভূমিকায় অনেক ঘটনা তারা সামাল দিতে পেরেছে। সার্বিক নাজুক পরিস্থিতিতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে যথাযথ ভূমিকা পালনে ঘাটতি দেখা গেছে।
খবরের কাগজ: সম্প্রতি কয়েকজন উপদেষ্টার পিএস, এপিএসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। আটজন উপদেষ্টা সরাসরি দুর্নীতিতে জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে বলে বক্তব্য দিয়েছেন একজন সাবেক সচিব। এসব ঘটনায় আপনার মন্তব্য কী?
ইফতেখারুজ্জামান: কর্তৃত্ববাদের অন্যতম উপাদানই ছিল দুর্নীতি। লক্ষ্য ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি করে প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করা, পেশাগত দেউলিয়াপনা করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা। তাদের পতনের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল নতুন বাংলাদেশে এসব আর থাকবে না, উত্তরণ ঘটবে। সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং সবার প্রত্যাশার বিপরীতে সরকারের কোনো কোনো উপদেষ্টার এপিএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেটা প্রত্যাশিত ছিল না। যে দুটি অভিযোগ উঠেছে দুদক সেগুলো তদন্ত করছে। অভিযুক্তদের জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনা হবে।
একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, যিনি একটা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত। তিনি যে কথাটি বলেছেন, সরকারের আট উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনিশ্চিত তথ্য তার কাছে আছে- তার এটুকু বলাই তে যথেষ্ট নয়। অথচ এখন আর তাকে যোগাযোগ করে পাওয়া যাচ্ছে না। ওই ব্যক্তি বলেছেন, এসব তথ্য গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের হাতেও আছে। তিনি কীভাবে জানলেন যে, গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তথ্যগুলো আছে? তাহলে সাবেক এই আমলার আমলাতন্ত্রের সঙ্গে যোগাযোগ, ডিজিএফআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ- এটা ভালো লক্ষণ না। কারণ এ তথ্য তার হাতে যাওয়ার কথা নয়। এ তথ্য সরকারের হাতে থাকার কথা এবং দুদকের কাছে যাওয়ার কথা, অভিযোগ হওয়ার কথা। যাই হোক, সেটা হয়নি। তার উচিত হবে অনতিবিলম্বে সেসব তথ্য সরকারের হাতে, দুদকের হাতে হস্তান্তর করা। আর সেটা যদি না হয়, তাহলে বুঝতে হবে এটা তার একধরনের পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি। হয়তো তিনি রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের জন্য এ ধরনের ঘোষণার মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ বা তার দলের নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এ কাজটা করেছেন।
খবরের কাগজ: গত ২০২৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম; যা ২০২৩ সালে ছিল ১০ম। এমন অবনতির কারণ কী?
ইফতেখারুজ্জামান: এ দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের যে উপাদান সেগুলো কার্যকর ছিল না। দুর্নীতি দমনে ‘জিরো টলারেন্সের’ যে ঘোষণা- সেটা কাগজে-কলমে ছিল, বাস্তব প্রয়োগে রাজনৈতিক সদিচ্ছা তাদের ছিল না। অন্যদিকে রাষ্ট্রকাঠামোর দখলে থাকা দুর্নীতিবাজদের বিচার তো দূরের কথা বরং সুরক্ষা দেওয়া হতো। এ ক্ষেত্রে দুদকসহ পুরো বিচার প্রক্রিয়া অকার্যকর অবস্থার সুযোগ নিয়েছে অভিযুক্তরা। রাষ্ট্র ও জনগণের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওইসব প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তির দায়িত্ব পালনে নিস্ক্রিয়তা দেখা গেছে। সেই অবস্থা পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে, নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়ন হলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। হুট করে ম্যাজিক্যালি দুর্নীতিতে দেশের অবস্থান উন্নতির দিকে যাবে, এটা বাস্তবসম্মত নয়।
খবরের কাগজ: ২০২৪-এর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা নতুন দল এনসিপি গঠন করেছেন। এতে কী তারা লাভবান হয়েছেন?
ইফতেখারুজ্জামান: বৈষম্যের বিরুদ্ধে এ দেশে যে আন্দোলনটা হয়েছে, সেটা ঐতিহাসিক বিশাল অর্জন। সেই ফোর্স (তরুণদের) থেকে রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ অত্যন্ত ইতিবাচক ও সম্ভাবনাময় মনে করি। এটাকে আমি স্বাগতও জানাই। কিন্তু ইতোমধ্যে দলটির তরুণরা বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ কাজে নিজেদের জড়িয়েছেন। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উচ্চপর্যায়ে নেতৃত্বে থাকা কয়েকজন নেতা ইস্তফাও দিচ্ছেন। অথচ দল গড়ার পর এসব তরুণ যে রোল মডেলটা অনুসরণ করছে, সেটা এদেশের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির অর্থ ও পেশিশক্তির রোল মডেল। যেটা থেকে তাদের দূরে থাকা, প্রত্যাখ্যান করার কথা ছিল। বিপরীতে তারা অপশক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে আত্মঘাতী অবস্থানে যাচ্ছে। তবে এখনো সময় আছে। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দলবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজিসহ যত অভিযোগ- এ ধরনের ঘটনা থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে। জনগণের কাছে নিজেদের কাজের স্বচ্ছতা প্রমাণ করতে পারলে তাদের মধ্যেও সম্ভাবনা রয়েছে।
খবরের কাগজ: নতুন এই দলটির (এনসিপি) নেতা-কর্মীরা রাজনীতিতে নবীন। তাদের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে তাদের দায় কতখানি?
ইফতেখারুজ্জামান: কারও বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের ও বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ থাকলে সেটা দেখা বা ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের। কিন্তু যদি কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ থাকে সেটা দেখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সে ঘটনা তদন্ত করবে দুদক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘদিনে কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের ফলে আন্দোলনে থাকা বিজয়ী শক্তির রাজনীতিবিদ ও তরুণরা নিজেদের ক্ষমতায়িত ভাবছে। অনেকে অতি ক্ষমতায়িত ভাবছে। তাদের অনেকে মনে করছেন, ‘১৬ বছর বঞ্চিত ছিলাম। এখন আমাদের চাই’- এই যে বিষয়টা। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি দলটির কিছু নেতা-কর্মীর নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার পর দলটির অনেক নেতার মধ্যে হতাশাও দেখা গেছে। সহযোদ্ধাদের ভূমিকায় তারা বিব্রত। এনসিপির নেতাদের অনেক ক্ষেত্রে জনস্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতেও দেখা গেছে। কাজেই কিছু ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও চাঁদাবাজির কারণে পুরো আন্দোলনটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়।
খবরের কাগজ: দলটিকে কিংস পার্টি বলার কারণ কী?
ইফতেখারুজ্জামান: বিভিন্ন দলের নেতারা তাদের কিংস পার্টি হিসেবে অভিহিত করছেন। কারণ দলটির সহযোদ্ধাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রথমে তিনজন উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন। এখনো দু’জন সেখানে আছেন। সে কারণে অনেকেই তাদের ওই নামে ডাকেন। তবে এ ধরনের কিংস পার্টি দেশে নতুন নয়। আগেও হয়েছে, দেখেছি আমরা। এ ধরনের বিতর্ক দূর করতে এনসিপির দায়িত্ব হলো এটা পরিষ্কার করা যে, যে দুজন সরকারের রয়েছেন দলে এবং রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা কী? অথবা ঘোষণা দিয়ে সরকারে থাকা ওই দুই উপদেষ্টার পদত্যাগ করে সরাসরি রাজনীতি চলে আসা।
খবরের কাগজ: প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানের আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচনের জন্য কতটা অনুকূল মনে করছেন?
ইফতেখারুজ্জামান: নির্বাচন তো হতেই হবে। নির্বাচন আমরা আশা করি। নির্বাচনটা কতখানি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হবে, সেটা অনেক ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। যেমন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে ভোটের দিন পর্যন্ত সরকারের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কতটুকু দলনিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। দলগুলোর মধ্যে কোনো স্বার্থের দ্বন্দ্ব কাজ করবে কিনা। নির্বাচন কমিশন কতটুকু নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে- এসব কিছুই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের ধারণা, বর্তমান কমিশন আগের তিনটি কমিশনের তুলনায় অনেক বেশি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। কারণ এ কমিশনের বিরুদ্ধে এক বা একাধিক রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। ফলে এ নির্বাচন কমিশনকেও পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।
খবরের কাগজ: নানা জনমত জরিপের তথ্য- আগামী সংসদ নির্বাচন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হলে বিএনপি জয়ী হবে। দেশ গঠনে এ দলটির সক্ষমতা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
ইফতেখারুজ্জামান: অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব থেকে নির্বাচনকে মুক্ত করতে না পারলে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন সম্ভব নয়। এই দলটির যে পলিটিক্যাল ট্র্যাক রেকর্ড- সেটা থেকে তারা সরে আসবে মানুষ এমনই প্রত্যাশা করে। বাংলাদেশে যে দুর্নীতি, সেটা টানা একচ্ছত্রভাবে হয়েছে এমন নয়, এটা ধারাবাহিক হয়ে আসছে। তবে অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আওয়ামী লীগের সময় গত ১৫-১৬ বছরে এটা একটা চূড়ান্ত জায়গায় গেছে, কিন্তু এটার দায় আওয়ামী লীগের মনোপলি ছিল না। সব রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় গিয়ে দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। কাজেই সেই ট্র্যাক রেকর্ড থেকে বিএনপি সরে আসা উচিত। তাদের নেতৃত্ব পর্যায় থেকে সেটা বাস্তবায়িত হলে অন্য ধরনের নতুন সরকার বিএনপি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে আশা করি।
খবরের কাগজ: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের গণমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে, মন্তব্য করুন।
ইফতেখারুজ্জামান: পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি দেখছি না। কিছু হত্যা মামলায় ঢালাওভাবে সাংবাদিকদেরও আসামি করা হয়েছে; যা অপ্রত্যাশিত। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ট্যাগিংসহ নানা যুক্তিতে অনেকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল থেকে শুরু করে গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে, অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটেছে, যার পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারের ইন্ধন রয়েছে। এসব কারণে গণমাধ্যমে প্রত্যাশিত পরিবেশ ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি। তবে আগের মতো হুমকির পরিবেশ না থাকায় মানুষ অনেক ক্ষেত্রে মন খুলে কথা বলতে পারছে, সাংবাদিকরাও লিখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সরব। এ ছাড়া গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন অত্যন্ত শক্তিশালী রিপোর্ট দিয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়ন হলে সার্বিকভাবে গণমাধ্যমের ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে।
খবরের কাগজ: অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের আকাশসমান প্রত্যাশা ছিল। তারা কতটা পূরণ করতে পেরেছে?
ইফতেখারুজ্জামান: প্রত্যাশিত অর্জন হয়নি। সব সরকারের মতো এ সরকারেরও কিছু ব্যর্থতা রয়েছে। দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানার ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতি হলেও, কর্মসংস্থান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এরকম একটা সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি থাকে। অন্যদিকে পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারের চ্যালেঞ্জ ছিল বেশি। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্ষমতার ঘাটতি দৃশ্যমান হয়েছে। কিছু সফলতাও সরকারের রয়েছে। যেমন ব্যাংকিং খাত একটা গ্রুপের হাতে কলাপস ছিল। ৯টি ব্যাংক জবরদখল ছিল। সেই খাতকে অনেকটা টেনে তুলে আনতে পেরেছে। এছাড়া রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগেও অগ্রগতি রয়েছে। দেশের অনেক জটিল কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও এ সরকার ইতিবাচক অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছে।
খবরের কাগজ: অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও খবরের কাগজকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ইফতেখারুজ্জামান: খবরের কাগজকেও ধন্যবাদ।
.jpg)
.jpg)
.jpg)